হোম > জাতীয়

নারী ও শিশু উন্নয়নে বরাদ্দ কমে ৫ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা

স্টাফ রিপোর্টার

নারী ও শিশু উন্নয়ন খাতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য ৫ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের ৫ হাজার ৩৭১ কোটি টাকার তুলনায় ১৭৫ কোটি টাকা কম। তবে ২০১৪ সালের ৪ হাজার ৬৩০ কোটি টাকার তুলনায় এ খাতে বরাদ্দ বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রস্তাব তুলে ধরেন।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, “নারীর ক্ষমতায়নই উন্নয়নের নির্দেশক।” নারী ও শিশু অধিকার রক্ষায় আইনি ও বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ‘মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম’-এর অধীনে প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি এবং সাতটি বিভাগীয় ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরিতে আগামী অর্থবছরে ডিএনএ নমুনা বিশ্লেষণে নতুন সফটওয়্যার সংযোজন করা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

দেশের নতুন ও সম্ভাবনাময় নারী উদ্যোক্তাদের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্যে তাদের একটি ডাটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে। বাজেট বক্তৃতা অনুযায়ী, এই ডাটাবেজ নারী উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, ঋণ সুবিধা ও বাজারসংযোগ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

অর্থমন্ত্রী জানান, কর্মজীবী নারীদের জন্য প্রথম ধাপে ২০টি এবং পরবর্তী ধাপে আরও ৬০টি আধুনিক দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি বিদেশফেরত নারী শ্রমিকদের পুনর্বাসন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ভিজিডব্লিউবি (ভার্নারেবল উইম্যান বেনিফিট) কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে ১০ লাখ ৪০ হাজার নারীকে মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ‘কুইক রেসপন্স টিম’ আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, পথশিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

বাজেট বক্তব্যে আরও জানানো হয়, ঝুঁকিতে থাকা সুবিধা-বঞ্চিত ও বিপন্ন শিশুদের সুরক্ষায় বর্তমানে দেশের ১৭টি জেলায় ৩৩টি সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা, কল্যাণ ও ক্ষমতায়ন আরও জোরদার করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী।

জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উপকূলীয় অঞ্চলের নারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ অভিযোজন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে উপজেলা পর্যায়ে ‘আয়-বর্ধক (আইজিএ) প্রশিক্ষণ’ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

অসচ্ছল নারীদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে ভিডব্লিউবি (ভালনারেবল উইমেন বেনেফিট) কার্যক্রমের আওতায় সারা দেশের ৪৯৩টি উপজেলার ৪ হাজার ৫৮৬টি ইউনিয়নে ১০ লাখ ৪০ হাজার নারীকে মাসিক ৩০ কেজি করে চাল ও পুষ্টিচাল দেওয়া হচ্ছে বলে বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করা হয়।

মাতৃগর্ভ থেকে আট বছর বয়স পর্যন্ত শিশুর যথাযথ বিকাশ, সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক সামাজিক উদ্বুদ্ধকরণ এবং ‘প্যারেন্টিং’ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ‘কুইক রেসপন্স টিম’ গঠন করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে সমন্বিত সেবা কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

কর্মজীবী নারীদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ৮০টি আধুনিক দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ২০টি এবং পরবর্তী ধাপে আরও ৬০টি কেন্দ্র স্থাপন করা হবে বলে বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়।

বিদেশফেরত নারী শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও যথাযথ পুনর্বাসনের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলেও অর্থমন্ত্রী জানান। তাঁর ভাষ্য, এ উদ্যোগ শ্রম অভিবাসনের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

পথশিশু ও ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বিশেষ কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত শিশুদের পরিবারে পুনরেকত্রীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

আইনের সংঘাতে জড়িত কন্যা-শিশুদের সংশোধন ও নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করতে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে প্রতিবছর গড়ে ৩৫০ জন কন্যা-শিশুকে আবাসন প্রদান করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত নারী ও শিশুদের আইনি সহায়তা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করার কথাও বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।

ঝুঁকিতে থাকা সুবিধা-বঞ্চিত ও বিপন্ন শিশুদের সুরক্ষায় বর্তমানে দেশের ১৭টি জেলায় ৩৩টি ‘সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র’ পরিচালিত হচ্ছে। সরকারি অনুদানে চলা এসব কেন্দ্রে ৩ হাজার ৩০০ জন ছেলে ও ৩ হাজার ৩০০ জন মেয়ে শিশুর আলাদা আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যবস্থা রয়েছে।

বাক্, শ্রবণ, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক শিশুদের কল্যাণে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও বাজেট বক্তৃতায় জানান অর্থমন্ত্রী।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ শিশুর পরিবার ও আহত শিশুদের প্রণোদনা কার্যক্রম:

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ শিশুর পরিবার ও আহত শিশুদের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ শিশুদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং তাদের পরিবারকে সহায়তার লক্ষ্যে ৮৪টি পরিবারকে বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহে এককালীন ৫০ হাজার টাকার প্রাইজবন্ড ও সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়েছে।” আহত শিশুদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করে তাদের সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও তিনি জানান।

খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব অর্থমন্ত্রীর

প্রাথমিকে গান-বাজনা ও নৃত্য চালুর প্রতিবাদ খতমে নবুওয়তের

শূন্যরেখায় মানুষ আটকে রাখা মানবাধিকারবিরোধী: আসক

প্রস্তাবিত বাজেটে ইমাম-পুরোহিতদের জন্য সুখবর

প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার প্রতিক্রিয়া

সংসদে ১০,৩৫০ কোটি টাকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ বাজেট প্রস্তাব

সর্বোচ্চ বরাদ্দ শিক্ষায়, সবচেয়ে কম ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে

একটির বেশি গাড়ি থাকলেই পরিবেশ সারচার্জ

দেশে ফিরেছেন ৪৯,৯৮২ বাংলাদেশি হাজি

দুদকের জন্য বরাদ্দ ১৯৭ কোটি টাকা