২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের জন্য প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। একেবারে শেষ পর্যায়ের যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই তা চলতি মাসের যে কোনোদিন প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ফলাফলে যাতে কোনো ধরনের ত্রুটি বা অসঙ্গতি না থাকে, সে জন্য তা এখন শেষ পর্যায়ের যাচাই-বাছাই চলছে। মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন সাপেক্ষে চলতি মাসেই ফল প্রকাশ করা হতে পারে।
বুধবার বিকালে অধিদপ্তরের তথ্য-ব্যবস্থাপনা-বিভাগের সিস্টেম এনালিস্ট দিলীপ কুমার সরকার আমার দেশকে বলেন, ফল প্রস্তুতের কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। চলতি মাসেই তা প্রকাশ হতে পারে। প্রশাসন বিভাগ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে ফল প্রকাশের তারিখ নির্ধারণ করবে।
এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (সংস্থাপন) এ. এস. এম. সিরাজুদ্দোহা বলেন, আশা করছি চলতি মাসের শেষের দিকেই ফল প্রকাশ করা যাবে।
প্রসঙ্গত, গত ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া সারা দেশে একযোগে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। আর রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বিশেষ সূচিতে পরীক্ষা নেয়া হয় ১৭ থেকে ২০ এপ্রিল।
এবার সাড়ে ৬ লাখ পরীক্ষার্থীর মধ্য থেকে মেধার ভিত্তিতে মোট ৮২ হাজার ৫০০ জনকে বৃত্তির জন্য মনোনীত করা হবে। তবে এবার সরকারি ও বেসরকারি (কিন্ডারগার্টেন) বিদ্যালয়ের জন্য কোটা ভাগ করা হয়েছে। মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ অর্থাৎ ৬৬ হাজার শিক্ষার্থী নির্বাচিত হবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। বাকি ২০ শতাংশ বা ১৬ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী বৃত্তি পাবে বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে। মেধা তালিকায় ছাত্র ও ছাত্রীর সংখ্যা থাকবে সমান (৫০ শতাংশ করে)।
নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ‘ট্যালেন্টপুল’ ও ‘সাধারণ গ্রেড’–এই দুই ভাগে আর্থিক সুবিধা দেয়া হবে। ট্যালেন্টপুলে ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী মাসিক ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং সাধারণ গ্রেডে ৪৯ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী মাসিক ২২৫ থেকে ২৫০ টাকা করে পাবে। উভয় গ্রেডের শিক্ষার্থীরাই প্রতিবছর এককালীন ২২৫ টাকা করে অতিরিক্ত ভাতা পাবে।
ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পরবর্তী তিন বছর শিক্ষার্থীরা এই সুবিধা ভোগ করবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভবিষ্যতে এই বৃত্তির টাকার পরিমাণ দ্বিগুণ থেকে চার গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর একটি প্রস্তাবও সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে।