অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম
পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে উত্তরা, বনানীসহ রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। এরপর দুপুরে তাকে আদালতে তোলা হবে।
মঙ্গলবার সকালে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে রিমান্ড চাওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ রোডের একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটকের পর ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিএমপির মুখপাত্র উপ-পুলিশ কমিশনার এ এন এম নাসির উদ্দিন আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে আমার দেশকে বলেন, বর্তমানে তাকে ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
ঠিক কোন মামলায় বা সুনির্দিষ্ট কী কারণে তাকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে ডিবির পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ডিএমপির যুগ্ন কমিশনার (ডিবি) নাসিরুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, শিরীন শারমিন চৌধুরীকে তার আত্মীয় আরিফ মাহমুদ মাসুদ নামে একজনের বাসা থেকে আটক করা হয়।
ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী শেখ হাসিনার ভোট চুরির নির্বাচনে জাতীয় সংসদের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল তাকে স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। এরপর থেকে টানা এক দশকেরও বেশি সময় তিনি এই পদে আসীন ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলে শিরীন শারমিন চৌধুরী আত্মগোপনে চলে যান।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকে তাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তার অনুপস্থিতিতে আরেকটি পার্লামেন্ট কার্যক্রম শুরু করেছে।
২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল প্রথম স্পিকার নির্বাচিত হন শিরীন শারমিন। ২০১৮ সালের রাতের ভোটে গঠিত সংসদেও স্পিকার ছিলেন। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি আমি-ডামি নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আবার স্পিকার নির্বাচিত করে।
এমবি