দক্ষিণ এশীয় উচ্চশিক্ষা সম্মেলন
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক প্রোগ্রামের পাশাপাশি গ্রাজুয়েটদের চাকরি বাজার উপযোগী কারিগরি, প্রযুক্তি ও ভাষাগত দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজনীয় সুযোগ সৃষ্টি করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা।
বুধবার দক্ষিণ এশীয় উচ্চশিক্ষা সম্মেলনের তৃতীয় দিনে ‘উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ রূপরেখা: গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা’ শীর্ষক সেশনে তারা এ আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বাস্তবায়নাধীন ‘হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট)’ প্রকল্পের আওতায় রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ান এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার এর সভাপতিত্বে সেশনে বক্তা হিসেবে অংশ নেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম, বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু বোরহান মোহাম্মদ বদরুজ্জামান, পাকিস্তানের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব মডার্ন ল্যাঙ্গুয়েজেস এর রেক্টর মেজর জেনারেল (অব.) শহীদ কায়ানি এবং আইসিডিডিআরবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ।
এছাড়া সেশনে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।
ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক আইয়ুব ইসলাম বলেন, ইন্ডাস্ট্রি -একাডেমিয়া সহযোগিতা জোরদার করা এখন সময়ের দাবি। শিল্প ও বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের চাহিদা উপেক্ষা করে প্রথাগত শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক চাকরি বাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে সমন্বয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে হলে শিল্প ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি জানান।
সেশনে বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে সাথে শিল্প-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক জোরদার এবং শিল্প ও বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের জনবলের দক্ষতা চাহিদা নিরূপণের জন্য প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্ডাস্ট্রি রিলেশনস অফিসার নিয়োগ দেয়ার পরামর্শ দেন। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইন্ডাস্ট্রি পার্ক ও সায়েন্স পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
শিল্প ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা নিশ্চিত করতে সময়োপযোগী নীতি কাঠামো প্রণয়ন ও পাঠ্যক্রম হালনাগাদের উপরও তাঁরা গুরুত্ব দেন।
সম্মেলনে যুক্তরাজ্য, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এবং বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিসহ মোট ৩০ জন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করছেন।
এতে সার্কভুক্ত দেশের ইউজিসি ও উচ্চশিক্ষা কমিশনের প্রতিনিধি, বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা অংশগ্রহণ করছেন।
দেশের উচ্চশিক্ষাকে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করা এবং সার্কভুক্ত দেশগুলোর উচ্চশিক্ষা কমিশন নেটওয়ার্ককে আরো শক্তিশালী করতে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
সম্মেলনে ‘উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ পথরেখা: সহযোগিতা এবং নেটওয়ার্কিং’ শীর্ষক ৫ম সেশনে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ব ব্যাংকের প্রাকটিস ম্যানেজার কিকো ইনোউ; নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীরের সভাপতিত্বে ‘উচ্চশিক্ষা রূপান্তরে অংশীজনের সাথে সংলাপ: সুশীল সমাজের কণ্ঠস্বর’ শীর্ষক ৬ষ্ঠ সেশনে সূচনা বক্তব্য দেন বিশিষ্ট আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী ড. শহিদুল আলম; এবং ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান এর সভাপতিত্বে ‘উপাচার্যদের সাথে সংলাপ: হিট প্রকল্পের প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক দিনের সর্বশেষ সেশনে সূচনা বক্তব্য দেন হিট প্রকল্পের পরিচালক ড. আসাদুজ্জামান।