দেশের আট বিভাগে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। গতকাল মঙ্গলবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৬১টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র এলাকার মধ্যে ১৮টি এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে শ্রীমঙ্গলে। এছাড়া নেত্রকোনায় ২৫ মিলিমিটার, দিনাজপুরে ১৬ মিলিমিটার ও ময়মনসিংহে ১৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির স্বাক্ষরিত বুলেটিনে জানানো হয়, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা, ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার (আজ) রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে।
একই বুলেটিনে আগামীকাল বৃহস্পতিবার রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া আগামী শুক্রবার রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
এদিকে গতকাল আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক আমার দেশকে বলেন, আগামী ২০ থেকে ২২ মার্চ সারা দেশেই বৃষ্টিপাত ও বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে। মার্চ থেকে মে মাস নাগাদ কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টিপ্রবণ মৌসুম হিসেবে এই সময়ে দেশে প্রতি বছর বজ্রপাতে ৩০০ থেকে ৪০০ জন মারা যায়। ফলে এ থেকে বাঁচতে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।