আজ ভোর থেকেই রাজধানীতে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলাগুলোতেও ভোর থেকে প্রচুর বৃষ্টি আর ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর এরই মধ্যে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি, পাহাড়ি এলাকা ভূমিধ্বস, কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাত, সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর এবং নৌবন্দরসমূহে এক নম্বর সতর্কবার্তা জারি করেছে। এ অবস্থা কয়েকদিন থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। দেশের আবহাওয়ার এ পরিস্থিতিকে দুর্যোগপূর্ণ বলে আখ্যায়িত করে ঝড় ও বজ্রপাতের বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক।
তিনি বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ঝড় ও বজ্রপাতের কবল থেকে রক্ষায় জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। কেননা, এ সময়ে দেশের যেকোনো স্থানে কোনো সময় বজ্রপাত হতে পারে।
আবহাওয়াবিদ ড. বজলুর রশিদ আমার দেশকে বলেন, আগামী ৩ মে পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক বলেছেন, বুধবার সারা দেশে কমবেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও দক্ষিণাঞ্চলে অর্থাৎ বরিশাল ও চট্রগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় অঞ্চলে বেশি বৃষ্টিপাত ও ঝড় বয়ে যেতে পারে।
আজ সকাল ৯টার দিকে ঝুমবৃষ্টি শুরু হলে ভোগান্তিতে পড়েন অফিসগামী, স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থী এবং খেটে খাওয়া দিনমজুরসহ নানা পেশার মানুষ। আবহাওয়া দপ্তর বলছে,সারাদিনই দেশজুড়ে কমবেশি বৃষ্টি হলেও ময়মনসিংহ বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের জেলাগুলোতে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হচ্ছে; তা অব্যাহত থাকতে পারে।
এদিকে ঝড়-বৃষ্টির কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে বুধবার ভোর ৬টা থেকে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। ঘাট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাতভর কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি, কখনো মাঝারি আবার কখনো ভারী বৃষ্টি হয়। ভোর ৬টার দিকে বৃষ্টির সঙ্গে ঝড় শুরু হলে দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরিসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ।
এতে ফেরি ও লঞ্চগুলো ঘাটের দুই প্রান্তে নিরাপদ স্থানে নোঙর করে রাখা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিসির ডিজিএম মো. সালাম হোসেন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আবহাওয়া অনুকূলে এলে ফেরি চলাচল আবার স্বাভাবিক করা হবে।
আজ সকাল ৭টা নাগাদ রাজধানীতে ৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘন্টায়ও রাজধানীসহ দেশের আট বিভাগেই বৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হয়েছে ভোলায় ১৫২ মিলিমিটার। এছাড়া ফেনি ১৫১, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ১৪৬, কুমিল্লায় ১০৩, পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় ৯৬, কিশোরগঞ্জের নিকলিতে ৯৫, সিলেটে ৯২, পটুয়াখালীতে ৮৯ এবং বরিশালে ৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয় । ২৪ ঘণ্টায় দেশের কোথাও ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তা ভারি এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি রেকর্ড হলে সেটিকে বলা হয়ে থাকে অতিভারি বৃষ্টিপাত। এদিকে থেকে গতকাল দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যশোরে ৩৫ দশমিক ৪ এবং রাজধানীতে ছিল ২৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ঝড় সতর্কীকরণ বার্তায় বুধবার রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের উপর দিয়ে বিদুৎ চমকানোসহ পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিক থেকে ঘন্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যেতে পারে। ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তায় বলা হয়, মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে পরবর্তী ৯৬ ঘন্টায় দেশেরেআট বিভাগেই কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এরফলে ওইসব এলাকার কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা তৈরিসহ চট্টগ্রাম বিভাগে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধ্বস হতে পারে।
উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্যের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর কিছুটা উত্তাল রয়েছে। ছোট-বড় ঢেউ তীরে আছড়ে পড়ছে। বাতাসের তীব্রতাও ক্রমেই বাড়তে শুরু করেছে। পুরো উপকূলের আকাশ ঘন মেঘাচ্ছন্ন হয়ে আছে। এতে দেশের চার সমুদ্র বন্দরকেই বারবার তিন নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব মাছধরা নৌকা ও ট্রলারসমূহকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
এছাড়া দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর সমূহের জন্য এক নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
পূর্বাভাসে বলা হয়, বিরাজমান লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ হতে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এরপ্রভাবে আগামী আট বিভাগেই অস্থায়ীভাবে দমকা-ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এদিন সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা আরো কমতে পারে।
এর আগে গত ২০ এপ্রিল থেকে গত রোববার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়া। গত বুধবার চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।