আগের কয়েক দিনের তুলনায় বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বেড়েছে। এতে কোথাও কোথাও দিনের তাপমাত্রা কমে ভ্যাপসা গরম কিছুটা কমলেও রাতে গরমের অনুভূতি অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্র-বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
বৃহস্পতিবার দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে নোয়াখালীর হাতিয়ায় ১৩৯ মিলিমিটার। এ ছাড়া পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় ১১১, কক্সবাজারে ৭৮ এবং ভোলায় ৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ দিন রাজধানীতে বৃষ্টি হয়েছে মাত্র এক মিলিমিটার।
বৃষ্টির প্রভাবে কয়েক দিনের তুলনায় তাপমাত্রাও কিছুটা কমেছে। বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রংপুরে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সন্ধ্যা ৬টার পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্যপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ক্রমে দুর্বল হয়ে মৌসুমি বায়ুর অক্ষের সঙ্গে মিলিত হতে পারে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।
শুক্রবার দেশের আট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে।
আগামী শনিবার রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং অন্যান্য কয়েকটি বিভাগের কিছু এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। রোববারও দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এদিকে সেপ্টেম্বরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে মৌসুমি ভারী বৃষ্টির কারণে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। এ মাসে দেশের প্রধান নদ-নদীর পানি সামগ্রিকভাবে বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে তিনটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার একটি নিম্নচাপ বা মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বৃষ্টির কারণে দিনের তাপমাত্রায় কিছুটা স্বস্তি এলেও আর্দ্রতা বেশি থাকায় রাতে ভ্যাপসা গরম পুরোপুরি কাটতে সময় লাগতে পারে। ফলে আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও মেঘলা আবহাওয়ার পাশাপাশি গরম-আর্দ্রতার অনুভূতিও বজায় থাকতে পারে।
বৃহস্পতিবার রাতে আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির আমার দেশকে বলেন, শুক্রবার দেশের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর শনিবার ও রোববার দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়তে পারে।