হোম > প্রকৃতি ও পরিবেশ

অসহনীয় ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ রাজধানীবাসী

বৃষ্টির আবহ তৈরি হলেও কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি নেই

স্টাফ রিপোর্টার

গতকাল রাতে রাজধানীতে বৃষ্টি হওয়ার কথা জানিয়েছিল আবহাওয়া দপ্তর; কিন্তু বাস্তবে কোনো বৃষ্টি হয়নি। এতে সকাল থেকেই রৌদ্রোজ্জ্বল আকাশে জ্যৈষ্ঠের খরতাপে ভ্যাপসা গরম আরও বেড়ে গেছে।

সকাল ৬টায় রাজধানীর আকাশে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯০ শতাংশ। এছাড়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টায় আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘলা থাকতে পারে। সেই সঙ্গে অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ৮০ শতাংশের বেশি হলেই তাপ শোষণক্ষমতা কমে ভ্যাপসা গরম বেড়ে যায়। আজ সকাল ৬টায় রাজধানীর আকাশে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯০ শতাংশ।

এদিকে গতকাল থেকেই রাজধানীর আকাশে মাঝেমধ্যে সূর্যের মুখচ্ছটা ঢাকা পড়ছে কালো মেঘের আড়ালে, তৈরি হচ্ছে বৃষ্টির আবহ। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সেই বৃষ্টির দেখা নেই। উল্টো বাতাস আটকে গিয়ে তীব্র ভ্যাপসা গরমে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ঢাকার জনজীবন। আজ সকাল থেকেই ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ নগরবাসী তীব্র অস্বস্তির মধ্যে সময় পার করছেন।

আবহাওয়া অফিস জানাচ্ছে, আকাশে জলীয় বাষ্পের আধিক্য বেশি থাকায় এবং বাতাস প্রায় স্থবির হয়ে পড়ায় এই গুমোট পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বাইরে মেঘের আনাগোনা থাকলেও তা বৃষ্টিতে রূপ না নেওয়ায় ভ্যাপসা গরমের তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে গেছে। ঘরের ভেতরে এসি বা ফ্যান চললেও স্বস্তি মিলছে না, আর রাস্তায় বের হওয়া শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি রূপ নিয়েছে চরমে।

এ প্রসঙ্গে বিকেলে আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন নেসা আমার দেশকে বলেন, বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যে এ ধরনের ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। আজ শনিবার বিকেল নাগাদ রাজধানীতে বৃষ্টি হলেও খুব বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। ফলে রাজধানীতে এ ধরনের গরম আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

গতকাল রাজধানীতে ৮ মিলিমিটার বৃষ্টির পরও কেন এত গরম অনুভূত হচ্ছে—এ প্রশ্নের জবাবে আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক আমার দেশকে বলেন, বৃষ্টির পরিমাণ বেশি না হলে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে যায়; এতে গরম আরও বেশি অনুভূত হয়। রাজধানীসহ সারা দেশে গরম কমার সম্ভাবনা সহসাই দেখা যাচ্ছে না।

অসহনীয় এই ভ্যাপসা গরমে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষ, রিকশাচালক, হকার ও দিনমজুরেরা। তীব্র গরমে ঘেমে-নেয়ে একাকার হতে হচ্ছে তাদের।

কেরানীগঞ্জের নাদিম নামে এক রিকশাচালক বলেন, “সকালে আকাশ দেখে ভাবলাম আজ আবহাওয়া ঠান্ডা থাকবে। কিন্তু রাস্তায় নেমে দেখি দমবন্ধ করা গরম। রিকশা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।”

ব্যবসায়ী ও অফিসগামীদেরও একই দশা। গণপরিবহনগুলোতে যাত্রীদের গরমে হাঁসফাঁস করতে দেখা গেছে। তীব্র গরমে বেড়েছে ঠান্ডা পানীয় ও ডাবের চাহিদা।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকায় তাপমাত্রা যতটা, তার চেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে। তবে এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি আজ সারাদিন বজায় থাকলেও বিকেলের পর বা রাতের দিকে রাজধানীর কিছু অংশে স্বস্তির ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হলেও আগের দিনের তুলনায় তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে। এতে চলমান ভ্যাপসা গরম কমেনি; বরং বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যে গরম আরও তীব্র হয়েছে। অন্যদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় রংপুরে সর্বোচ্চ ১০৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া রাজশাহী, রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে আগের কয়েক দিনের তুলনায় শুক্রবার বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কম ছিল।

মে মাসের প্রথম দিনের মতো গত বুধবার রাজধানীতে তাপপ্রবাহ ছিল। ওই দিন রাজধানীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে গত বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা ২ দশমিক ২ ডিগ্রি কমে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। আগের দিনের তুলনায় ২ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রা কমলেও ভ্যাপসা গরম কমেনি। বরং আগের দিনের তুলনায় শুক্রবার তাপমাত্রা শূন্য দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে গরম আরও বেড়ে যায়।

গত বৃহস্পতিবার দেশের খুলনা বিভাগের খুলনা, বাগেরহাট, যশোর ও সাতক্ষীরা—এই চার জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে গেলেও শুক্রবার তা বয়ে গেছে ১৩ জেলার ওপর দিয়ে। খুলনা বিভাগের জেলাগুলো ছাড়াও রাজশাহী, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, বান্দরবান ও পটুয়াখালী জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। আজও ওই সব এলাকায় তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।

শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল রাজশাহী, লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও বাগেরহাটের মোংলায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস; যা আগের দিন ছিল খুলনার কয়রায় ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা এই ভ্যাপসা গরমে সুস্থ থাকতে সাধারণ মানুষকে বেশি করে নিরাপদ পানি, স্যালাইন ও তরল খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। পাশাপাশি প্রয়োজন ছাড়া সরাসরি রোদে না যাওয়ার এবং সুতির হালকা পোশাক পরার তাগিদ দিয়েছেন।

এসআর

ঈদের দিন উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টি, দক্ষিণাঞ্চলে ভ্যাপসা গরমের পূর্বাভাস

ঈদের দিন আবহাওয়া কেমন থাকবে, জেনে নিন

ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস, স্বস্তি মিলবে কবে

যেসব অঞ্চলে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার আভাস

এবার চীন সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

তাপমাত্রা কমলেও রাজধানীতে ভ্যাপসা গরম, রাতে হালকা বৃষ্টির পূর্বাভাস

ভ্যাপসা গরমে জনজীবন ওষ্ঠাগত, স্বস্তির লক্ষণ নেই

আকাশ কী সবসময়ই নীল থাকবে?

১৪ বছরেও গ্রীষ্মে এমন পরিস্থিতি দেখেননি আবহাওয়াবিদেরা

দেশের আট অঞ্চলে কালবৈশাখী ঝড়ের পূর্বাভাস