দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চার বিভাগে আগামী কয়েক দিনে স্বল্পমেয়াদী ও আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। আবহাওয়া সংস্থা এবং বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় নদী-সংলগ্ন নিছু এলাকা এবং নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মূলত দেশের অভ্যন্তরে এবং ভারতের উজানে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি সামগ্রিকভাবে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও অভ্যন্তরীণ ও উজানের বৃষ্টিপাত পরিস্থিতিকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। গত এক দিনে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে দেশের সর্বোচ্চ ২৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা অতি ভারি বর্ষণের রূপ নিয়েছে। এছাড়া সিলেট ও বরিশাল বিভাগ এবং ভারতের মেঘালয় ও ত্রিপুরা প্রদেশেও ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়েছে। ভারতের উড়িষ্যা ও ঝাড়খণ্ড এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি নিম্নচাপটি দুর্বল হয়ে বর্তমানে সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে পূর্ব মধ্যপ্রদেশে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে আগামী চার দিন দেশের উল্লিখিত চার বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩ থেকে ৪ দিন ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় দেশের নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। এরমধ্যে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টায় আগের ২৪ ঘণ্টায় গোমতী, মুহরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী ৩ দিন আরও দ্রুত বাড়বে। ফলে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার কিছু স্থানে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে স্বল্পমেয়াদী বন্যা সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার নিম্নাঞ্চলও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কমলেও আগামী ৩ দিন তা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জে সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে মনু, ধলাই, খোয়াই ও কংস নদীর পানি কমলেও সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা ও ভুগাই নদীর পানি বেড়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার নদীগুলো বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। যার ফলে নদী-সংলগ্ন নিচু এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।
তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় হ্রাস পেলেও তা আগামী ৩ দিন দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। এর মধ্যে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা নদী বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নীলফামারী ও লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এছাড়া পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় ধরলা ও দুধকুমার নদী কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটে সতর্কসীমা ছুঁতে পারে।
ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি আগামী ৩ দিন কমলেও পরবর্তী ২ দিন বৃদ্ধি পেতে পারে, তবে তা বিপৎসীমার নিচেই থাকবে। গঙ্গা নদীর পানি আগামী ৩ দিন স্থিতিশীল থেকে পরবর্তী ২ দিন বাড়তে পারে এবং পদ্মার পানি আগামী ৫ দিন হ্রাস পেতে পারে। এই অববাহিকাগুলোতে আপাতত বন্যার কোনো ঝুঁকি নেই।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান জানিয়েছেন, আগামী তিন-চার দিন ভারি বৃষ্টির কারণে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা কম। তিনি বলেন, তিন থেকে চার দিন পর বৃষ্টির মাত্রা কমে আসার সাথে সাথে নদ-নদীর পানিও কমতে শুরু করবে। ফলে এখনই বন্যা স্থায়ী রূপ নেয়ার শঙ্কা নেই। নদী তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সাময়িক এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এমই