হোম > মতামত

আতঙ্কিত নয়, সজাগ থাকুন

মিনার রশীদ

প্রতীকী ছবি

প্রিয় জন্মভূমির বিরুদ্ধে চতুর্মুখী ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে প্রথমে মালয়েশিয়া ও পরে চীন সফরকে হজম করতে অনেকেরই কষ্ট হচ্ছে! বিশেষ করে, আমাদের পাশের রাষ্ট্রটির উৎকণ্ঠা আর ঢেকে রাখতে পারছে না । বাংলাদেশ নিয়ে ওদের উচ্ছ্বাস কিংবা উৎকণ্ঠা ইন্ডিয়ার যে ফেস বা মুখটি দিয়ে আমরা প্রথম দেখতে পাই—সেটি হলো কলকাতা থেকে প্রকাশিত আনন্দবাজার পত্রিকা!

পূর্ববাংলা এবং পরে পূর্ব পাকিস্তান ও পরে বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ডটির বিরুদ্ধে সব বুদ্ধিবৃত্তিক ইতরামোর সূতিকাগার এই আনন্দবাজার গ্রুপটি। এরাই তসলিমা নাসরিন নামক উপদ্রব সৃষ্টি করেছে এবং থার্ড ক্লাস একজন লেখিকাকে বিশ্বে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। যদিও শেষমেশ নিজেরাও এই রদ্দি মালকে হজম করতে পারেনি। এই আনন্দবাজার সবকিছু সঠিকভাবে উচ্চারণ করলেও বাঙালি মুসলমানদের নামগুলো সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারে না। বিশেষ করে, আমাদের বরেণ্য নেতাদের নাম বিকৃত করে লিখবেই। আমরা ওদের সংস্কৃতি ভাষার কঠিন কঠিন নামগুলো সঠিকভাবে উচ্চারণ করলেও ওরা আমাদের সোহরাওয়ার্দীকে ‘সুরাবর্দি’ বানিয়ে ফেলে।

আনন্দবাজার গ্রুপের এসব বুদ্ধিবৃত্তিক ইতরামো দেখেই নাকি শেরেবাংলা বলেছিলেন, ‘পশ্চিম বঙ্গের দাদারা যখন আমার প্রশংসা শুরু করবে, তখন মনে করবে যে আমি আমার নিজের লোকজনের ক্ষতি করছি। আর ওরা যখন আমার দুর্নাম শুরু করবে, তখন ভাববে যে আমি আমার দেশবাসীর জন্য সঠিক কাজটি করছি।’ সেই আনন্দবাজার পত্রিকাটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর সম্পর্কে লিখেছে—“দরজা খুলে বঙ্গোপসাগরে চিনকে ‘মেগা এন্ট্রি’! খাল কেটে কুমির আনছে তারেকের বাংলাদেশ? কেন দিল্লির কপালে চিন্তার ভাঁজ? বেইজিং সফরে চীন থেকে মিয়ানমারের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর পর্যন্ত আর্থিক বারান্দা তৈরির প্রস্তাব পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঢাকা এতে সিলমোহর দিলে ড্রাগনের জন্য খুলতে পারে বঙ্গোপসাগরের রাস্তা, যা নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত।” কাজেই শেরেবাংলার সেই কালজয়ী পরামর্শের মতো সরকারসহ দেশবাসীর কী করণীয়, তা সহজেই অনুমেয়। অর্থাৎ আনন্দবাজার বুঝিয়ে দিয়েছে আমাদের কী করা উচিত! তিনদিকে ইন্ডিয়া দ্বারা বেষ্টিত বাংলাদেশ যদি সড়ক যোগে মিয়ানমার হয়ে চীনে পৌঁছাতে পারে—তবে এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা অফুরন্ত! এটিও যেকোনো মূল্যে বাংলাদেশকে আয়ত্ত করতে হবে। এটিও আমাদের প্রকৃতি প্রদত্ত সুযোগ। এটি নিয়ে অন্য প্রতিবেশীর আপত্তি আমরা গ্রহণ করতে পারি না!

আমাদের দুর্ভাগ্য—প্রকৃতি আমাদের একজন প্রতিবেশীর চেয়ে যেন একজন সতিন দিয়েছে। যে সতিন খরার সময়ে নদীর পানি আটকে দেয়—আবার বর্ষায় ডুবিয়ে দেয়! সীমান্তে শুধু কাঁটাতারের বেড়া নয়, নদীতে সাপও ছেড়ে দেয়! বন্ধুত্ব করে একটি দলের সঙ্গে, দেশের মানুষের সঙ্গে নহে! এই সতিন উদার হস্তে যা দেয় তা হলো ফেনসিডিল, ইয়াবা, সিসা ও হেরোইন—এসব মারাত্মক মাদক! যে মতলবে এসব ড্রাগ দেয়—একই মতলবে দেয় রবীন্দ্রসংগীতচর্চার উপদেশ। কারণ ওরা দেখেছে ড্রাগ খেলে যেমন সব হিতাহিত জ্ঞান লোপ পায়, তেমনি রবীন্দ্রসংগীত ভালোভাবে প্রবিষ্ট করাতে পারলে আক্রান্তের ভূরাজনৈতিক সেন্সরটি পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়ে!

এ ধরনের ডিফেকটিভ ভূরাজনৈতিক সেন্সর নিয়ে এরা অভিশাপ দেয় কেন বাংলাদেশ চীন, পাকিস্তান, তুরস্ক, মালয়েশিয়ার মতো দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে? কেন চীন থেকে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান কেনার সাহস করছে? এক কুলাঙ্গারকে দেখলাম টকশোতে বসে এমন সব প্রশ্ন করছে। জীবনে যাদের কোথায়ও দুই কলম লিখতে দেখিনি, এ রকম কিছু বাটপাড়দের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে সিনিয়র সাংবাদিক হিসেবে! এদের কেউ কেউ ভারতের ভয়ে কুঁকড়ে মরছে এবং দেশবাসীকেও সেই ভয় দেখাচ্ছে!

রঞ্জন মুখার্জি এবং ভারত কর্নাডদের হুমকি কতটুকু বাস্তব রঞ্জন মুখার্জি একজন অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা ও কৌশলগত বিশ্লেষক। সংগত কারণেই তিনি শিলিগুড়ি করিডোরকে ভারতের অন্যতম বড় কৌশলগত দুর্বলতা হিসেবে দেখেন। তার প্রেসক্রিপশন—ভারতের উচিত করিডোরের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য চিকেন নেক প্রশস্ত (Chicken’s Neck broaden) করা। কোনো ধরনের রাখঢাক নয়, এটি তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন!

ভারতের কিছু ভাষ্যকার তাদের গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের জন্য সীমান্তবর্তী এলাকায় পৃথক ‘হোমল্যান্ড’ গঠনের প্রচার চালাচ্ছেন! সমর্থকরা যুক্তি দেন, এতে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ—উভয় ক্ষেত্রেই সুবিধা হতে পারে।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ভারতের চিকেন নেক যেমন স্পর্শকাতর, তেমনি বাংলাদেশেরও কিছু ভৌগোলিক দুর্বলতা রয়েছে। তিনি রংপুর ও চট্টগ্রামমুখী করিডোরের প্রসঙ্গ টেনে কৌশলগত ভারসাম্যের কথা বলেন।

ভারত কর্নাড ভারতের অন্য আরেকজন কৌশলগত বিশ্লেষক। তিনি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলেরও সদস্য ছিলেন। ওনারা মূলত ‘র’-এর কৌশলগত মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেন এবং ‘র’-এর নির্দেশেই এসব কথা বাতাসে ছাড়েন!

তিনি নিজের ব্লগে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে সরাসরি প্রস্তাব করেন যে ভারতের উচিত বাংলাদেশের রংপুর বিভাগ সংযুক্ত (annex) করে শিলিগুড়ি করিডোরকে প্রশস্ত করা।অবশ্য তার প্রথম পরামর্শ—টাকা দিয়ে একটা বিশেষ বোঝাপড়ার মাধ্যমে রংপুর বিভাগটি কিনে নিয়ে সেখানে দেশের এক কোটি হিন্দুকে পুনর্বাসন করা এবং সেখানকার মুসলিম অধিবাসীদের ভেতরের দিকে ঠেলে দেওয়া। প্রিয় পাঠক, আপনাদের সঙ্গে মশকরা করছি না। এই কথাটি আসলেই লিখেছে এবং সম্ভবত শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে এ রকম একটা বোঝাপড়া হলেও হয়ে যেতে পারত! কারণ উনিই এমন কিছু দিতে পারেন, যা ভারত কখনোই ভুলবে না!

এ রকম বোঝাপড়ার মাধ্যমে কাজ না হলে সরাসরি সামরিক আক্রমণ চালিয়ে রংপুর বিভাগকে দখল করে নেওয়াকেই তিনি যথাযথ বলে বর্ণনা করেছেন! মিস্টার ভারত কর্নাড ইন্ডিয়ার সাধারণ যদুমধু আদমি নয়। দেশের অন্যতম নিরাপত্তা বিশ্লেষক! কাজেই এদেশের চৈতালিরা যখন সংখ্যালঘুদের জন্য আলাদা বিভাগ প্রতিষ্ঠার জিকির তোলেন, সেটিকে স্লিপ অব দ্য টাং অভিহিত করে নিজেকে প্রবোদ দেওয়া খুব একটা নিরাপদ কিংবা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না!

এসির মেকানিক থেকে কয়েক বছরের মধ্যে হাজার কোটি টাকার মালিক

সবজির ব্যবসা কিংবা এসির মেকানিক থেকে কয়েক বছরের মধ্যে শত শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন জনৈক হরিদাস! তিনি আবার ২২ কোটি টাকা খরচ করে রামের মূর্তি বানিয়েছেন। সেই মূর্তির ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আসেন পাশের দেশের হাইকমিশনার!

তারপরও রাষ্ট্র তাকে বিচারের আওতায় আনতে পারবে না বা তার এই আলাদিনের চেরাগ নিয়ে অনুসন্ধান করতে পারবে না। কারণ তিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য! রঞ্জন মুখার্জি, ভারত কর্নাড এবং বিশ্ব শর্মাদের চিহ্নিত আমাদের ভৌগোলিক দুর্বলতার জায়গায় ৮০ ফুট উঁচু রামমূর্তি স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে কয়েক বছর আগে কপর্দকহীন এই লোকটি!

ইউরোপিয়ান দেশগুলো বাকস্বাধীনতা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার তীর্থস্থান! কিন্তু সেখানকার মুসলিমরা যদি আবদার করেন তাদের মসজিদের বাইরে আজানের অনুমতি দিতে হবে—তাহলে কি মুসলিম সম্প্রদায়ের এই আব্দার রাখা হবে? তারা বলবে যাই কর, মসজিদের ভেতরে কর! যত্রতত্র আবার মসজিদও বানাতে দেবে না! যদিও ইউরোপিয়ান দেশগুলোয় গির্জার ঘণ্টা বাজানোয় এই রেস্ট্রিকশনটি নেই!

সংখ্যালঘু হিসেবে সংখ্যাগুরুর এই আধিপত্যটি মেনে নেয়। এটিই সারা বিশ্বের স্বীকৃত ও সর্বোচ্চ মানের ধর্মীয় সম্প্রীতির উদাহরণ। তাছাড়া ধর্মগুলো একটি আরেকটির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। ফলে সম্প্রীতির স্বার্থেই একটি ধর্মকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় এবং সেটি সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মটি পেয়ে থাকে। সংখ্যাগরিষ্ঠের এই ধর্মীয় কমফোর্ট বা অগ্রাধিকারটি গোবিন্দ প্রামাণিক কিংবা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ এদেশের মুসলমানদের দিতে চান না!

নন-মুসলিম দেশগুলোয় মুসলিমরা মসজিদের বাইরে আজান দিতে পারেন না। মসজিদের ভেতরেই আজান দিতে হয়। তেমনিভাবে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই দেশটিতে কখনোই মন্দিরের বাইরে রাস্তায় মূর্তি বানাতে নিষেধ করলে কি এদেশের মুসলমানদের অপরাধ হয়ে পড়বে? মূর্তি বানাতে চাইলে মন্দিরের ভেতরে বানান, বাইরে কেন?

এতে ধর্মীয় স্বাধীনতা বিপন্ন হয়েছে বলে কারো কাছে মনে হয়নি। এটাই বিশ্ব স্বীকৃত ধর্মীয় স্বাধীনতার স্বাভাবিক নর্ম! এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের বক্তব্য অত্যন্ত পরিষ্কার।

এদেশের অধিকাংশ হিন্দুর প্রধান উপাস্য দেবী দুর্গা! হঠাৎ রামকে এদেশে নতুন আঙ্গিকে প্রতিষ্ঠার এই উদ্যোগকে সাধারণ হিন্দুরাও সন্দেহের চোখে দেখছে। ‘জয় শ্রীরাম’কে কেন্দ্র করে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা ভারতের মুসলিমদের ওপর অবর্ণনীয় নিপীড়ন চালাচ্ছে! ফ্রিজে গরুর মাংস পাওয়ায় একজন মুসলমানকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গরুর মাংস রান্না করেছে এই সন্দেহে কয়েকজন মুসলিম মা-বোনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে! রাম ভক্তদের এসব উগ্রতার বিপরীতে এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের ধর্মীয় সহিষ্ণুতার উদাহরণ টেনেছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের এক সাংবাদিক ভাই।

তিনি রাজশাহী অঞ্চলের নিচু সম্প্রদায়ের হিন্দুদের শূকর খাওয়া এবং শূকর পালনের উদাহরণ টেনেছেন! শূকরের খাবার হিসেবে পচা মাংসসহ অনেক নোংরা জিনিস ব্যবহার করা হয়। ফলে যেখানে শূকর পালা হয়, সেখানকার আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। হিন্দু ভাইটি তার পর্যবেক্ষণে বলেছেন, এরপরও কখনো সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম সম্প্রদায় সেই শূকরচাষিকে কিংবা শূকর খাদককে আক্রমণ করেনি বা এই কাজে বাধা দেয়নি। এটাই ভারত এবং বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের আচরণের মধ্যে পার্থক্য। এরপরও বাইরের শক্তির ইন্ধনে এদেশের গোবিন্দ প্রামাণিকরা সংখ্যালঘু নির্যাতনের জিকির তুলে কিংবা আইনশৃঙ্খলাজনিত অপরাধকে সাম্প্রদায়িক রঙ লাগিয়ে প্রচার করেন ।

এখন আমাদের যে কাজটি করতে হবে

রাষ্ট্র পরিচালনায় আবেগের স্থান থাকতে পারে, কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে সিদ্ধান্ত নিতে হয় বাস্তবতা, সক্ষমতা এবং জাতীয় স্বার্থ সামনে রেখে। আধুনিক বিশ্বে কোনো দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা শুধু সাংস্কৃতিক চেতনা বা স্লোগানের ওপর নির্ভর করে নিশ্চিত করা যায় না। এর জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কার্যকর কূটনীতি এবং নিজের ভূকৌশলগত (জিও-পলিটিক্যাল) অবস্থানের যথাযথ ব্যবহার।

চীন সফরের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্র নীতিতে বিশেষ পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। এই পরিবর্তনটি শত্রু-মিত্র সবার চোখেই পড়েছে। এসবের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারাজের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে!

চারপাশের পরিস্থিতি অনুধাবন করে দেশের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ কর্নেল অলি আহমেদ প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাতে অবস্থান না করতে পরামর্শ দিয়েছেন! আমাদের রাজনীতিতে একটা গুণগত পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। ১১-দলীয় জোটের নেতারা জনাব রহমানের শক্ত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হলেও তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে এই কনসার্নটি সুধীজনের মনোযোগ এবং প্রশংসা কেড়েছে! দীর্ঘদিন একই রাজনৈতিক বলয়ে থাকার কারণে গৃহপালিত বিরোধী দল হওয়ার যে আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছিল—সেটিও অনেকখানি কেটে গেছে!

তবে সংবিধান সংস্কার এবং অন্যান্য ইস্যু নিয়ে সরকার এবং বিরোধী দলের মধ্যে যে সংকট দেখা দিয়েছে, তা যেন শত্রুতার দিকে ধাবিত না হয়, সেদিকে দুটি পক্ষকেই সতর্ক থাকতে হবে! প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আবার জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বা নলেজ বেইসড সোসাইটি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন, যা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে! একটি নলেজ বেইসড সোসাইটিতে কারো ইগো বা অহম তার প্রজ্ঞাকে ছেয়ে যেতে পারে না!

বাংলাদেশ এমন এক ভৌগোলিক অবস্থানে রয়েছে, যা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শক্তির ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বঙ্গোপসাগর, ভারত মহাসাগরের প্রবেশদ্বার, উত্তর-পূর্ব ভারতের সংযোগ পথ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সেতুবন্ধ—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। এই বাস্তবতা বাংলাদেশের জন্য যেমন সুযোগ সৃষ্টি করেছে, তেমনি নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি করেছে।

অনেকের মতে, অতীতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতিতে এই ভূকৌশলগত সুবিধাগুলো সবসময় কার্যকরভাবে কাজে লাগানো হয়নি। এতে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান দুর্বল হয়েছে এবং সম্ভাব্য সুবিধাগুলোর পূর্ণ ব্যবহার সম্ভব হয়নি।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ইতিহাসে একটি বাস্তবতা বারবার দেখা গেছে—যখন কোনো রাষ্ট্রকে দুর্বল, বিভক্ত বা অপ্রস্তুত বলে মনে করা হয়, তখন তার ওপর চাপ সৃষ্টি, প্রভাব বিস্তার কিংবা বিভিন্ন ধরনের কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রবণতা বাড়ে। তাই একটি দেশের সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ হলো তার সক্ষমতা, প্রস্তুতি এবং বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এবং দেশের অভ্যন্তরে যে সুযোগগুলো জনাব রহমানের জন্য সৃষ্টি হয়েছে—সেই সুযোগগুলো তিনি এখন কীভাবে কাজে লাগান, সেটাই এখন দেখার বিষয়। জনগণের ভালোবাসা এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে তিনি অভীষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে যান, তবে কোনো শক্তিই প্রতিবন্ধক হতে পারবে না।

লেখক : কলামিস্ট

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রকৃত তাৎপর্য

জঙ্গিবাদের ভারতীয় বয়ান ও নিরাপত্তা-হুমকি

নেপালে হিমবাহ ধস, বিপর্যয়ের বৈজ্ঞানিক কারণ

গ্রামের বাড়ি হতে পারে আয়ের নতুন উৎস

বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে হলে কেন দরকার ডিজিটাল নজরদারি

শিক্ষক সংকটে সরকারি কলেজ

সুপারিশগুলো কি আলোর মুখ দেখবে

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: ভারতের হুঁশিয়ারি কেন

ভারত সফরে না এবং সাউথব্লকের অস্বস্তি

আগামী দিনের নেতৃত্ব তৈরিতে রাজনীতি প্রশিক্ষণ