হোম > মতামত

সংস্কার জরুরি কেন

হামিদুর রশিদ জামিল

ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের মানুষ মনে করেছিল, তারা এমন এক শাসক পাবে যারা দেশকে উন্নতির দিকে নিয়ে যেতে চেষ্টা করবেন। কিন্তু তা হতে না দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি বিশেষ দল শুধু লুটপাটে নিজেদের ব্যতিব্যস্ত করে ফেলেছে। তারা কেবলই দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচন দাবি করছে।

কিন্তু এত দ্রুত নির্বাচন চাইতে হবে কেন? বরং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে তারা সহযোগিতা করলে সমস্যা কোথায়? সরকার রাষ্ট্র, সরকার ও সংবিধানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার করে তারপর নির্বাচন দিতে চাচ্ছে। দেশ ও জনগণের স্বার্থেই সরকারকে সংস্কার কাজগুলো করতে দেওয়া উচিত। বাংলাদেশ এমন এক জায়গা যেখানে স্বৈরশাসন কখনোই স্থায়ী হতে পারেনি। এটা বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য।

প্রশ্ন হচ্ছে- প্রায় দুই হাজার মানুষ জীবন দিল শুধু একটি বিশেষ দলকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতায় আনার জন্য? হাস্যকর বিষয় হচ্ছে, যারা এসব করছে তারা বলার চেষ্টা করছে যে, আন্দোলনের মূল স্টেকহোল্ডার তারা! এত মানুষ জীবন দিল, এর প্রতি তাদের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। আমার কথা হচ্ছে, তাদের রাজনৈতিক সক্ষমতা এত বেশি থাকলে তারা কেন ছাত্র-জনতা ছাড়া নিজেরাই রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পারল না? বরং তারা অনেক ক্ষেত্রেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিলেমিশে থেকেছে এবং শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকে আশ্রয় দিয়েছে।

জাতি চায় রাজনীতি, অর্থনীতি থেকে শুরু করে আরো যেসব সেক্টর আছে তার সবকিছুতেই সংস্কার হোক। অন্তর্বর্তী সরকারকে কাজের সুযোগ দিতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে এক্ষেত্রে সরকারকে সহায়তা ও পরামর্শ দিতে হবে। আর যদি তা না করে বরং লুটপাট, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির দিকে যায় তাহলে সেটার ফল আওয়ামী লীগের মতো তাদের জন্যও সুখকর হবে না।

দেশে সব জায়গায় এখনো আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসররা বসে আছে। তাদের বিচারের দাবি না করে শুধু নির্বাচন নির্বাচন করার মানে কী? এর মানে হচ্ছে, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের বিচার যাতে না হয়। এ থেকে এটি স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে, এসব দল ক্ষমতায় গিয়ে আওয়ামী লীগের বিচার তো করবেই না, বরং তাদের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ আবার আগের রূপে ফিরে আসবে।

ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জায়গায় লুটপাটের খবর ছড়িয়ে পড়েছে। এসব নিয়ে সেসব রাজনৈতিক দলের কোনো মাথাব্যথা নেই। তাহলে আমরা কি এটা বুঝতে পারি যে, অন্তর্বর্তী সরকারকে অস্থির রেখে তারা সরকারকে দ্রুত নির্বাচন দিতে বাধ্য করাই তাদের লক্ষ্য! তাহলে তারা কি জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ধারণ করতে পারছে না? জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাদের ক্ষমতায় আসার পথই কেবল সুগম হলো?

তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে যদি ধারণ করতে না পারে তাহলে এ আন্দোলনের বড় ক্রেডিট তারা কেন দাবি করে বা তারা মাস্টারমাইন্ড সাজে কেন? এটা কি দ্বিমুখীনীতি নয়? যদি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতি তাদের সমর্থন থাকে তাহলে তারা ঘাতক ও সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ এবং এর নেতাদের বিচারের আগে নির্বাচন নির্বাচন করবে কেন?

লেখক : গবেষক

সিরিয়ায় ওয়াইপিজির বিলুপ্তি ইরাকের জন্য সতর্কবার্তা

চিন্তার স্বাধীনতা বনাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব

বিধ্বস্ত শিক্ষাব্যবস্থা

ভাষার কোনো বিদেশ নেই, নেই কোনো খাঁচা

নৌবিদ্রোহ ও রাজনীতির বিশ্বাসঘাতকতা

চ্যালেঞ্জের মুখে খামেনির নেতৃত্ব ও ইসলামি বিপ্লব

শব্দের রাজনীতি, ক্ষমতার ভয়

নতুন প্রধানমন্ত্রীর শুরুটা কেমন হলো

কূটনীতিক, পণ্ডিত ও বাংলাদেশের বন্ধু

কৃষি পর্যটন : টেকসই উন্নয়নের নতুন দিগন্ত