বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিএনপি একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতা দলটির ভবিষ্যৎকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের আগস্ট-পরবর্তী সময়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ভেতরে-বাইরের কর্মকাণ্ডে জনগণের আস্থা কিছুটা নড়বড়ে হয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন (২০২৬) সামনে রেখে এখনই সংস্কার ও ইতিবাচক পরিবর্তনের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। নইলে ইতিহাসের আরেকটি সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাবে।
বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তনের পর দেশের সাধারণ মানুষ প্রত্যাশা করেছিল— বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নতুন উদ্যমে, বিপুল জনসমর্থন নিয়ে দেশ পরিচালনার সুযোগ পাবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর যে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, সেটি পূরণ করতে না পেরে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতা-কর্মী স্থানীয় দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি, মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে পড়েন। ফলে দেশের মানুষের কাছে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিএনপি একসময় ছিল জনগণের আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতীক। অথচ দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা, নেতৃত্বের ভেতরকার বিভাজন, সংগঠনের অব্যবস্থাপনা এবং তৃণমূলকে উপেক্ষা করার সংস্কৃতি দলটিকে আজ প্রশ্নবিদ্ধ অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে।
অন্যদিকে, অনলাইন-অফলাইনে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন ও বিরোধী শক্তি প্রচারণার মাধ্যমে বিএনপির অর্জিত সুনাম আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। এতদসত্ত্বেও দলের ভিতরে এখনো একটি শক্তিশালী সমন্বিত পরিকল্পনা চোখে পড়ে না। শুধুমাত্র কিছু শৃঙ্খলাভঙ্গকারী কর্মীকে বহিষ্কার করা ছাড়া বড় কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রবাসে বসে দলকে পরিচালনা করছেন, নিয়মিত দিকনির্দেশনাও দিচ্ছেন। কিন্তু মাঠপর্যায়ে অনেক নেতা-কর্মী সেসব নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করছেন না। দল বিভক্ত হয়েছে নানা উপদল ও গ্রুপিংয়ে। এখনো সময় আছে। তবে সেই সময় সীমিত। যদি আগামী জাতীয় নির্বাচন (২০২৬) এর আগে বিএনপি নিজেদের দুর্বলতাগুলো স্বীকার করে তা সংশোধনের উদ্যোগ নিতে না পারে, তবে ইতিহাসের আরেকটি সুযোগ হাতছাড়া হবে।
আমার পর্যবেক্ষণে, বিএনপি যদি নিচের ১৪টি ইস্যুতে গুরুত্ব সহকারে সংস্কার ও সমাধানমূলক পদক্ষেপ নিতে পারে, তাহলে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হতে পারে।
১. তৃণমূলের অবমূল্যায়ন
- সমস্যা: বিএনপি দীর্ঘ সময় ধরে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে। ত্যাগী কর্মীরা বারবার উপেক্ষিত হওয়ায় তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক দুর্বলতা তৈরি হয়েছে।
- জনগণের উপর প্রভাব: তৃণমূল কর্মীরা জনগণের সাথে সরাসরি কাজ করেন। তাদের অনুপ্রেরণা ভেঙে পড়লে দল সাধারণ মানুষের কাছে দুর্বল ও অকার্যকর হয়ে ওঠে।
- সমাধান:
- জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে নিয়মিত মতবিনিময় সভা আয়োজন।
- নেতৃত্ব তৈরির প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা।
- তৃণমূল পর্যায়ে কর্মীদের ত্যাগের স্বীকৃতি দেওয়া এবং পুরস্কার প্রদানের ব্যবস্থা রাখা।
২. সিনিয়র নেতাদের “ড্যাম কেয়ার” মনোভাব
- সমস্যা: শীর্ষ নেতৃত্বের অনেকে কেবল ভিআইপি আচরণে সীমাবদ্ধ। জনগণ ও কর্মীদের সাথে তাদের প্রত্যক্ষ সংযোগ কম। এতে একটি নেতৃত্ব-বিচ্ছিন্নতার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে।
- জনগণের উপর প্রভাব: নেতাদের দূরত্বের কারণে জনগণ মনে করে তারা শুধু নির্বাচনের সময় ভোট চায়, বাকি সময় নেই। এতে আস্থা কমে যায়।
- সমাধান:
- মাঠপর্যায়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
- জনসমাগম, সামাজিক অনুষ্ঠান ও সমস্যার সমাধানে সরাসরি অংশ নেওয়া।
- সিনিয়র নেতাদের জন্য নির্দিষ্ট “গ্রাসরুট ডে” চালু করা।
৩. নেতৃত্ব তৈরির সুযোগের অভাব
- সমস্যা: নতুন নেতৃত্ব গড়ে ওঠার ক্ষেত্র সীমিত। তরুণরা উপেক্ষিত হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়ছে। ফলে দলে নেতৃত্বের উত্তরসূরি সংকট তৈরি হচ্ছে।
- জনগণের উপর প্রভাব: তরুণদের অনাগ্রহের কারণে দল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সাথে সংযোগ হারাচ্ছে।
- সমাধান:
- যুব কমিটি ও স্টুডেন্ট উইংকে প্রকল্পভিত্তিক দায়িত্ব দেওয়া।
- নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় তরুণদের অন্তর্ভুক্ত করা।
- তরুণ নেতৃত্বের জন্য “ফাস্ট-ট্র্যাক” প্রোগ্রাম চালু করা।
৪. হাইব্রিডদের মূল্যায়ন
- সমস্যা: ত্যাগী কর্মীদের বাদ দিয়ে অনুপ্রবেশকারী ও সুবিধাভোগীরা নেতৃত্বের আসনে বসছে। এতে দলীয় ভেতরে ক্ষোভ বাড়ছে।
- জনগণের উপর প্রভাব: জনগণ মনে করছে বিএনপি এখন আর ত্যাগী ও যোগ্যদের দল নয়, বরং সুবিধাবাদীদের আশ্রয়স্থল।
- সমাধান:
- মনোনয়ন ও পদবণ্টনে যাচাই-বাছাই কমিটি করা।
- স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব নির্বাচন চালু করা।
- স্থানীয় কর্মীদের মতামতকে মূল্যায়ন করা।
৫. পুরাতন কমিটির নিষ্ক্রিয়তা
- সমস্যা: বহু পুরনো কমিটি বছরের পর বছর কোনো কার্যক্রম ছাড়াই কার্যত মৃত অবস্থায় আছে।
- জনগণের উপর প্রভাব: নিষ্ক্রিয় কমিটি থাকলে স্থানীয় রাজনীতি দুর্বল হয় এবং জনগণ বিকল্প নেতৃত্বের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
- সমাধান:
- কমিটির মেয়াদসীমা নির্ধারণ করা।
- নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক করা।
- সক্রিয়তার ভিত্তিতে কমিটির কার্যক্রম মূল্যায়ন করা।
৬. কর্মশালা ও প্রশিক্ষণের অভাব
- সমস্যা: রাজনৈতিক কর্মীরা আধুনিক রাজনীতির জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন না।
- জনগণের উপর প্রভাব: প্রশিক্ষণবিহীন নেতারা জনগণের সমস্যা সঠিকভাবে বুঝতে ও সমাধান দিতে ব্যর্থ হন।
- সমাধান:
- নিয়মিত রাজনৈতিক শিক্ষা ও সাংগঠনিক প্রশিক্ষণ চালু করা।
- আইটি, গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনা, কমিউনিকেশন দক্ষতায় প্রশিক্ষণ দেওয়া।
- বিদেশি রাজনৈতিক দলের প্রশিক্ষণ মডেল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা।
৭. মেধাবীদের অবমূল্যায়ন
- সমস্যা: শিক্ষিত, পেশাজীবী ও বিশেষজ্ঞ শ্রেণি দলে অবমূল্যায়িত। ফলে তারা দূরে সরে যাচ্ছেন।
- জনগণের উপর প্রভাব: দল মেধা-নির্ভর পরিকল্পনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। জনগণ মনে করে দল তাদের সমস্যার আধুনিক সমাধান দিতে পারবে না।
- সমাধান:
- টেকনোক্র্যাট উইং গঠন করা।
- বিভিন্ন খাতে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া।
- পেশাজীবী সংগঠনগুলোর সাথে নিয়মিত সম্পর্ক রাখা।
৮. সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাব
- সমস্যা: বিএনপির দীর্ঘমেয়াদী রোডম্যাপ বা বিকল্প পরিকল্পনা জনগণের সামনে স্পষ্ট নয়।
- জনগণের উপর প্রভাব: মানুষ মনে করে বিএনপি কেবল ক্ষমতায় আসতে চায়, কিন্তু দেশ চালানোর প্রস্তুতি নেই।
- সমাধান:
- অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ “গভর্নেন্স প্ল্যান” তৈরি।
- পরিকল্পনাগুলো বই আকারে প্রকাশ করা।
- টেলিভিশন, সোশ্যাল মিডিয়া ও গণমাধ্যমে প্রচার করা।
৯. উপদল ও গ্রুপিং
- সমস্যা: দলীয় ভেতরে গোষ্ঠীবাজি ও বিভাজন রয়েছে। এতে সাংগঠনিক ঐক্য নষ্ট হচ্ছে।
- জনগণের উপর প্রভাব: জনগণ দেখে দল ভেতরেই এক নয়, ফলে তাদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা কমে যায়।
- সমাধান:
- নেতৃত্বকে নিরপেক্ষ ভূমিকা নিতে হবে।
- অভ্যন্তরীণ সংলাপের মাধ্যমে ঐক্য ফিরিয়ে আনা।
- গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোতে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
১০. প্রতিযোগিতামূলক কর্মসূচির অভাব
- সমস্যা: আন্দোলন ছাড়া ইতিবাচক কোনো কর্মসূচি নেই। ফলে দলকে জনগণ প্রাসঙ্গিক মনে করে না।
- জনগণের উপর প্রভাব: জনগণ মনে করে বিএনপি কেবল প্রতিবাদের দল, কিন্তু সমাজ গড়ার দল নয়।
- সমাধান:
- স্বাস্থ্য ক্যাম্প, শিক্ষাবৃত্তি ও সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রম চালু করা।
- সংস্কৃতিক ও ক্রীড়ামূলক অনুষ্ঠান আয়োজন করা।
- দুর্যোগকালে সরাসরি সহায়তা দেওয়া।
১১. দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়া
- সমস্যা: দলে অপরাধী ও দুর্নীতিগ্রস্তদের আশ্রয় দেওয়ায় সাধারণ মানুষ বিমুখ হচ্ছে।
- জনগণের উপর প্রভাব: বিএনপি জনগণের কাছে একটি অপরাধীদের দল হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে।
- সমাধান:
- অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি দেওয়া।
- শৃঙ্খলা রক্ষায় জিরো-টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা।
- জনসম্মুখে শুদ্ধি অভিযানের ঘোষণা দেওয়া।
১২. আইটি, মিডিয়া ও কনটেন্ট এক্সপার্টদের অবমূল্যায়ন
- সমস্যা: আধুনিক যুগেও বিএনপি ডিজিটাল প্রচারণায় পিছিয়ে। আইটি বিশেষজ্ঞরা উপেক্ষিত।
- জনগণের উপর প্রভাব: জনগণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিএনপিকে কার্যকরভাবে দেখতে পায় না।
- সমাধান:
- একটি শক্তিশালী “ডিজিটাল সেল” গঠন করা।
- কনটেন্ট ক্রিয়েটর, মিডিয়া বিশেষজ্ঞ, আইটি পেশাদারদের অন্তর্ভুক্ত করা।
- অনলাইন প্রচারণায় তথ্যভিত্তিক কৌশল ব্যবহার করা।
১৩. দুর্যোগ মোকাবেলায় টিম না থাকা
- সমস্যা: প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জাতীয় সংকটে বিএনপি সংগঠিতভাবে মাঠে থাকে না।
- জনগণের উপর প্রভাব: জনগণ দেখে বিএনপি কেবল রাজনৈতিক সময়ে সক্রিয়, তাদের দুঃসময়ে নয়।
- সমাধান:
- দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল মানবিক টিম গঠন করা।
- বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, মহামারি ইত্যাদিতে সরাসরি ত্রাণ কার্যক্রম চালানো।
- মিডিয়া কাভারেজের মাধ্যমে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা।
১৪. প্রতিটি সেক্টরে জনবল না থাকা
- সমস্যা: স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, শ্রম, পররাষ্ট্রনীতি ইত্যাদি খাতে বিএনপির বিশেষজ্ঞ টিম নেই।
- জনগণের উপর প্রভাব: জনগণ মনে করে বিএনপি ক্ষমতায় এলেও কার্যকর নীতি দিতে পারবে না।
- সমাধান:
- প্রতিটি খাতে উপদেষ্টা টিম গঠন করা।
- বিশেষজ্ঞদের নিয়ে “পলিসি ইউনিট” তৈরি করা।
- আন্তর্জাতিক গবেষণা ও সফল নীতির উদাহরণ থেকে শিক্ষা নেওয়া।
বিএনপি আজ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। দলটি যদি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে চায়, তবে তাকে শুধু আন্দোলনের দল না হয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্র পরিচালনাযোগ্য বিকল্প শক্তি হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। জনগণ শুধু সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান নয়, বরং উন্নয়ন, কল্যাণ ও জাতীয় পুনর্গঠনের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা দেখতে চায়।
আমার মতে, ২০২৬ সালের নির্বাচন বিএনপির জন্য শুধু রাজনৈতিক পরীক্ষা নয়, বরং নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণের লড়াই। বিএনপি যদি এখনই তৃণমূলের প্রতি মনোযোগী হয়, অভ্যন্তরীণ বিভাজন দূর করে, তৃণমূলকে মূল্যায়ন, সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং মেধাবী ও তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করে মেধাবীদের কাজে লাগায় এবং ডিজিটাল যুগের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হয়, তবে তারা আবারও জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারবে। অন্যথায় ইতিহাসের আরেকটি সুযোগ হারানোর ঝুঁকি থেকে যাবে এবং দলটি ইতিহাসের প্রান্তিক কোণে ঠেলে যাবে—যেখানে থেকে আর উঠে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে।
লেখক : ওবায়দুল কবীর খোকন, আইনজীবী ও সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক ।
ইমেইল : obaydulkabir@hotmail.com