হোম > মতামত

ট্রাম্পের কাছে মোদির বেদনা

মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন

মোদি এবং ভারতের নীতিনির্ধারকদের উচিত হবে বাংলাদেশ নয়, ভারতকে নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকা। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র বৈঠক ছিল মোদির জন্য চরম শিক্ষার বিষয়। আনন্দবাজার পত্রিকার ভাষায় ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশর ব্যাপারে নালিশের সুরে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও মোদি আশানুরূপ সাড়া পাননি। বরং ট্রাম্প মোদিকে নিরাশ করেছেন।

আনন্দবাজার জানায়, মোদি বাংলাদেশ প্রসঙ্গে কথা বলতে শুরু করলেই ট্রাম্প মোদিকে জানান, ‘তিনি বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অনেকে দাবি করছিলেন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে গোপনে কলকাঠি নাড়ছে আমেরিকা। মোদির সঙ্গে আলোচনার শুরুতে ট্রাম্প জানিয়ে দেন বাংলাদেশের পরিস্থিতিতে আমেরিকার কোনো হাত নেই।’

ট্রাম্পকে উদ্ধৃত করে পত্রিকাটি আরো জানায়, ‘দীর্ঘদিন ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী এ সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছেন। বহু বছর ধরে এই চেষ্টা চলছে। আমি এ-সংক্রান্ত খবরাখবর পড়েছি। তবে বাংলাদেশের ব্যাপারটা আমি মোদির ওপর ছেড়ে দিতে চাই।’ ট্রাম্পের এমন স্বতপ্রণোদিত জবাবের পরও আনন্দবাজার পত্রিকার মন্তব্য : ‘এর মানে এই নয়, বাংলাদেশের বিষয়টি পুরোপুরি ভারতের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন ট্রাম্প।’ অর্থাৎ ট্রাম্প বাংলাদেশের ওপর ভারতকে কর্তৃত্ব করার দায়িত্ব ছেড়ে দেননি।

কারণ শেখ হাসিনা ভারতের ইচ্ছায় ব্যবস্থাপনায় ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর মোদি ট্রাম্পের কাছে উদ্বেগ জানানোর কোনো যুক্তিই ছিল না। কিন্তু মোদি সেই বোকামিটাই করলেন। মোদির ধারণা ছিল, এমন অভিযোগের পর ট্রাম্প বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মোদির সঙ্গে সুর মেলাবেন। বাস্তবে তা হয়নি।

মোদি ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের দুঃসাহসী মানুষের বিরুদ্ধে নালিশ করে মূলত অপমানিত হয়েছেন। ট্রাম্প মোদিকে স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, বাংলাদেশ আমেরিকার নির্দেশে চলে না এবং এ দেশের মানুষকে ভারতের ইচ্ছামতো চলতে বলার কিংবা ভারতের করদরাজ্যে পরিণত করার দায়িত্বও আমেরিকার নয়।

ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নালিশ করার কোনো কারণই বাস্তবে ছিল না। মোদির বেদনা হচ্ছে, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখার বিনিময়ে বাংলাদেশকে ভারতভুক্ত করার প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। হাসিনার উৎখাত ও পালিয়ে যাওয়াকে বাংলাদেশের মানুষ বিজয় তথা তাদের দ্বিতীয় স্বাধীনতা হিসেবে উদযাপিত করেছে, যা তারা যেকোনো মূল্যের বিনিময়ে রক্ষা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

আমেরিকাসহ সারা দুনিয়ার মানুষ দেখেছে ভারত বাংলাদেশে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় বসিয়ে মানবেতর অত্যাচার ও গণহত্যা, এমনকি জবরদখল চালিয়েছে। বাংলাদেশিরা তাদের স্বদেশেই ছিল পরাধীন। ধর্ম-ধর্ম-নির্বিশেষে সারা দুনিয়ার স্বাধীনতাকামী মানুষ বাংলাদেশের নিরীহ জনগণের ওপর ভারতের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। তাই সারা বিশ্বের মানুষ আমাদের বন্ধুতে পরিণত হন। বিশ্ববাসী দেখেছে আমরা কারো কোনো ক্ষতি করিনি। কারো ক্ষতি করার ইচ্ছাও আমাদের নেই। ভারতে মুসলমানদের বিরুদ্ধে পরিচালিত নির্যাতন, দুর্দশা ও দাঙ্গা এবং বাংলাদেশে হিন্দুদের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপদ জীবন প্রমাণ করে মুসলমান ও হিন্দুদের মধ্যকার পার্থক্য কত ব্যাপক। বাংলাদেশে মুসলিম-অমুসলিমদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। কোনো পার্থক্য নেই। আমরা কাউকেই সংখ্যাগুরু কিংবা সংখ্যালঘু হিসেবে আচরণ করি না। আমরা সবাই সমান। সারা দুনিয়ার বিবেকবান মানুষের কাছে আমাদের সুনাম ও গ্রহণযোগ্যতা আছে।

শেখ হাসিনার মতো দেশদ্রোহীকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ায় বাংলাদেশ হাতছাড়া হওয়ার কারণেই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ প্রচার করছে ভারত। বাংলাদেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে দাঙ্গার মিথ্যে গুজব ছড়াচ্ছে। দেশদ্রোহী এবং ইসকনের খুনিদের ধর্মীয় সন্ন্যাসী হিসেবে দাবি করে তাদের বিচার বন্ধের পাঁয়তারা জানাচ্ছে। আর বাংলাদেশের জনগণের দ্বিতীয় স্বাধীনতার ফসল ড. মোহাম্মদ ইউনূস সরকারের পতন ঘটানোর জন্য দিবারাত্রি ২৪ ঘণ্টা সারা বাংলাদেশে অশান্তি, হানাহানি, হরতাল, অবরোধ, অবস্থান ধর্মঘট, এমনকি খুনখারাবি চালিয়ে যাচ্ছে ভারত সরকার।

১৯৪৭ সাল থেকে আমরা মোদিদের যন্ত্রণায় ভুগছি। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ গড়ার পরও ভারত আমাদের শান্তিতে থাকতে দেয়নি। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার মতো রক্তপিপাসু অনির্বাচিত ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী একনায়কতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়ে বাংলাদেশে রক্তের বন্যা বইয়ে দেয়। ২০২৪ সালে জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে এ দেশের ছাত্র-যুব-জনতা ভারতের দাসীকে তাড়িয়ে দিয়ে দেশকে আবার স্বাধীন করেছে।

সারা বিশ্বের মানুষ দেখেছে ভুয়া পরাশক্তি ভরতের ভয়ে আমরা ভীত নই। সারা দুনিয়ার মানুষ দেখেছে এবং ভবিষ্যতেও দেখবে ভারতের হুমকির কাছে নতিস্বীকার করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও পৃথক অস্তিত্বকে ভারতের দখলে যেতে দেবে না।

লেখক : সাংবাদিক ও গবেষক, ল্যান্সডেল, যুক্তরাষ্ট্র

সিরিয়ায় ওয়াইপিজির বিলুপ্তি ইরাকের জন্য সতর্কবার্তা

চিন্তার স্বাধীনতা বনাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব

বিধ্বস্ত শিক্ষাব্যবস্থা

ভাষার কোনো বিদেশ নেই, নেই কোনো খাঁচা

নৌবিদ্রোহ ও রাজনীতির বিশ্বাসঘাতকতা

চ্যালেঞ্জের মুখে খামেনির নেতৃত্ব ও ইসলামি বিপ্লব

শব্দের রাজনীতি, ক্ষমতার ভয়

নতুন প্রধানমন্ত্রীর শুরুটা কেমন হলো

কূটনীতিক, পণ্ডিত ও বাংলাদেশের বন্ধু

কৃষি পর্যটন : টেকসই উন্নয়নের নতুন দিগন্ত