হোম > মতামত > উপসম্পাদকীয়

বাঙালির অবিস্মরণীয় গৌরবময় অধ্যায়

১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধ

কমডোর জসীম উদ্দীন ভূঁইয়া (অব.)

২৩ সেপ্টেম্বর ১৯৬৫। এ দিনেই অবসান ঘটেছিল ১৭ দিনব্যাপী রক্তক্ষয়ী পাক-ভারত যুদ্ধের, যা উপমহাদেশের রণ-ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে খোদিত হয়ে আছে। এই যুদ্ধে সমগ্র রণক্ষেত্রের মধ্যে সবচেয়ে কৌশলগত ও ঝুঁকিপূর্ণ ছিল লাহোর ফ্রন্ট। সেখানে ভারতীয় বাহিনীর প্রচণ্ড আক্রমণ রুখে দিয়ে এক অবিশ্বাস্য ও বীরত্বপূর্ণ উপাখ্যান গড়েছিল বাঙালির নিজস্ব ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট (সিনিয়র টাইগার্স)। বেদিয়ান ও বিআরবি খালের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল সেক্টরগুলোকে রক্ষা করার দায়িত্বে থাকা এই বাঙালি বীরেরা ভারতীয় পদাতিক ও আধুনিক ট্যাংক বহরের একের পর এক আক্রমণ নস্যাৎ করে দেয়। তাদের এই অদম্য রণকৌশল ও আত্মত্যাগ তৎকালীন পাকিস্তানি সামরিক মহলের সব জাতিগত কুসংস্কার ভেঙে চুরমার করে দিয়েছিল। এর ফলে এই ফ্রন্টে অনন্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট লাভ করে সর্বোচ্চ সংখ্যক বীরত্বসূচক পদক, যা আজ অবধি উপমহাদেশের সামরিক ইতিহাসে একটি অক্ষুণ্ণ রেকর্ড।

একসময় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ, ঠিক যেমনটা এককালে ছিল সাদ্দাম হোসেন কিংবা ইরানের শাহের সঙ্গে। কথায় আছে না, আমেরিকা যার বন্ধু তার আর শত্রুর প্রয়োজন নেই। আইয়ুব খানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুতা শুরু হয় মূলত চীনকে কেন্দ্র করে। সেসময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শত্রু ছিল কমিউনিজম। যেকোনোভাবে কমিউনিস্ট রাষ্ট্র চীন ও রাশিয়ার অগ্রযাত্রাকে রুখে দেওয়া ছিল তাদের বৈশ্বিক লক্ষ্য। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রকে পাশ কাটিয়ে আইয়ুব খান চীনের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন, যার শুরু হয়েছিল চীন ও পাকিস্তানের সীমান্ত নির্ধারণ করার যৌথ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে।

চীনের সঙ্গে এই সম্পর্কোন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখার কারণে আইয়ুব খানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলফিকার আলি ভুট্টো যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র বিরাগভাজন ব্যক্তিতে পরিণত হন। তাকে ক্যাবিনেট থেকে সে সময় সরিয়ে দেওয়ার জন্য মার্কিন প্রশাসন থেকে চাপ দেওয়া হলে আইয়ুব খান সে চাপ পুরোপুরি অগ্রাহ্য করে তাকে স্বপদে বহাল রাখেন। এদিকে ১৯৬২ সালে চীন-ভারত যুদ্ধ শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি আইয়ুব খানকে অনুরোধ করেন পাকিস্তান যেন এই সুযোগে কাশ্মীর আক্রমণ না করে, যাতে ভারত চীনের বিরুদ্ধে পুরো শক্তি দিতে পারে। আইয়ুব খান যুক্তরাষ্ট্রের সেই কৌশলগত অনুরোধ রক্ষা করেছিলেন।

কিন্তু সম্পর্কের চূড়ান্ত অবনতি ঘটে অন্য কারণে। পেশোয়ারের বাটাভের এলাকায় সিআইএর একটি অত্যন্ত গোপন সামরিক ঘাঁটি ছিল। সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার অভ্যন্তরে গোয়েন্দা বিমান পাঠাত। একবার এমনই একটি মার্কিন বিমান রাশিয়া ভূপাতিত করার পর তৎকালীন রুশ প্রধানমন্ত্রী নিকিতা ক্রুশ্চেভ আইয়ুব খানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, বাটাভের রুশ মিসাইলের নাগালের মধ্যেই আছে। নিজের দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে আইয়ুব খান তখন ওয়াশিংটনকে নাখোশ করে সিআইএর সেই গোপন সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন।

সে সময়ে পাকিস্তানে একটি উদীয়মান ধনাঢ্য ব্যবসায়ী শ্রেণির ভিত গড়ে ওঠে। আইয়ুব খান সরকার এই পুঁজিকে দেশের কাজে ব্যবহার করে পাকিস্তানকে একটি শিল্পোন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। উৎপাদিত পণ্য বিশ্ববাজারে ছড়াতে তিনি আফ্রো-এশিয়ার দেশগুলোর বৈঠকে ইউরোপ-আমেরিকার ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা কমানোর আহ্বান জানান। ক্ষুধার্ত একটি দেশ এশিয়ার বুকে শিল্পোন্নত পরাশক্তি হওয়ার স্বপ্ন দেখবে, তা বিশ্বমোড়লরা ভালো চোখে নেয়নি।

বাস্তবিক অর্থেই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, চট্টগ্রাম ও গাজীপুরের বড় বড় মিল-কারখানাগুলোর সিংহভাগই আইয়ুব খান সরকারের সময় নির্মিত। তার শাসনামল অখণ্ড পাকিস্তানের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল অর্থনৈতিক দশক হিসেবে পরিগণিত হয়। নতুন নতুন সড়ক, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, ভারী শিল্প এবং অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে এ সময়েই। ১৯৬৫ সালের নির্বাচনে ফাতেমা জিন্নাহকে পরাজিত করে আইয়ুব খান নিজের অবস্থান আরো সুদৃঢ় করেন এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হওয়ার বাসনা মনে লালন করতে থাকেন।

যুক্তরাষ্ট্র কখনোই চায়নি তৃতীয় বিশ্বের কোনো দেশে এমন কোনো বলিষ্ঠ নেতা তৈরি হোক যে তাদের নির্দেশ অমান্য করবে। যে আমেরিকার পরোক্ষ মদতে আইয়ুব খান ক্ষমতায় এসেছিলেন, স্বাধীনচেতা মনোভাবের কারণে কিছুদিনের মধ্যেই তিনি মার্কিন প্রশাসনের চক্ষুশূলে পরিণত হন। সিআইএ আইয়ুব খানকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করে। তাকে উৎখাতের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র প্রধানত দুটি চাপ প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়—১. সামরিক চাপ, এবং ২. রাজনৈতিক চাপ। একটি ব্যর্থ হলে অন্যটি প্রয়োগ করা হবে।

আইয়ুব খানের দক্ষিণ এশিয়ার নেতা হওয়ার সুপ্ত বাসনাকে যুক্তরাষ্ট্র ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করার ছক আঁকে। ১৯৫৪ সালের পাক-মার্কিন সামরিক চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তানের সমরনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের গভীর প্রভাব ছিল। রাওয়ালপিন্দির সেনাসদর দপ্তরে বসে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা ‘ম্যাগ’ (Military Assistance Advisory Group – MAAG) নামক সংস্থার মাধ্যমে পাকিস্তানের সমরনীতির ওপর নজরদারি করত, যেভাবে র’ পরবর্তীকালে বাংলাদেশে করেছিল।

১৯৬৫ সালের আগস্ট মাসে কাশ্মীরে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিলে ম্যাগের মার্কিন কর্মকর্তারা আইয়ুব খানকে কাশ্মীর দখলের জন্য অপারেশন চালানোর প্ররোচনা ও পরামর্শ দেয়। কাশ্মীর জয় মানেই দক্ষিণ এশিয়ার নেতা হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন; তাছাড়া পাক-মার্কিন চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তান কোনো বড় বিপদে পড়লে আমেরিকা সাহায্য করবে, এমন একটি প্রচ্ছন্ন আশ্বাসও ছিল। আইয়ুব খান সানন্দে সেই ফাঁদে পা দেন।

ম্যাগের পরিকল্পনা ও পরামর্শে পাকিস্তান আর্মি জম্মু-কাশ্মীর সীমান্তে তীব্র আক্রমণ চালায়। পাকিস্তানি বাহিনীর প্রচণ্ড আঘাতে ভারতীয় সেনাবাহিনী আখনুর ও জারিয়ান সেক্টরে পিছু হটতে বাধ্য হয়। কাশ্মীর পূর্ণ দখলের উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখে ম্যাগের প্ররোচনায় আইয়ুব খান তার সেনাবাহিনীর সিংহভাগ ইউনিটকে কাশ্মীরে নিয়োজিত করেন, যার ফলে পাকিস্তানের মূল ভূখণ্ড লাহোর সীমান্ত সম্পূর্ণ অরক্ষিত হয়ে পড়ে। আমেরিকা ঠিক এই সুযোগটির অপেক্ষায় ছিল। তারা ভারতকে ভেতরে ভেতরে পরামর্শ দেয় অরক্ষিত সীমান্ত দিয়ে সরাসরি লাহোরে হামলা করতে।

৬ সেপ্টেম্বর ভারতের সেনাবাহিনী আচমকা খেমকারান ও লাহোর সেক্টর দিয়ে আক্রমণ চালালে আইয়ুব খান হকচকিয়ে যান। এক ভয়ংকর ফাঁদে পড়েছেন বুঝতে পেরে তিনি সাহায্যের জন্য মার্কিন রাষ্ট্রদূত ওয়াল্টার ম্যাকনোগিকে ডেকে পাঠান। কিন্তু ম্যাকনোগি তাকে নিরাশ করে চরম কূটনৈতিক ভাষায় বলেন, ‘মি. প্রেসিডেন্ট, ভারতীয়রা আপনার গলা চেপে ধরেছে। আপনি চাইলে আমরা আপনাকে চাপমুক্ত করতে পারি।’ আমেরিকার মূল চক্রান্তই ছিল আইয়ুব খানকে একটি নিশ্চিত পরাজয়ের মুখে দাঁড় করানো, কারণ পরাজিত কোনো শাসকের পক্ষে সেনাবাহিনী ও জনগণের সামনে ক্ষমতায় টিকে থাকা সম্ভব হয় না।

আইয়ুব খান ক্ষুব্ধ হয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে বলেন, ‘কে কার গলা চেপে ধরেছে, আমি তা দেখে নেব।’ তিনি ওয়াশিংটনের চাপ প্রত্যাখ্যান করেন এবং সেনাবাহিনীতে ম্যাগের খবরদারি বন্ধ করে সরাসরি কমান্ড নিজের হাতে তুলে নেন। আর তখনই যুদ্ধের ময়দানে নামে এমন এক বাহিনী, যাদের রণকৌশল সম্পর্কে না ছিল আমেরিকার ধারণা, না ছিল ভারতের প্রস্তুতি। ভারতীয়রা এর আগে পশ্চিম পাকিস্তানি সৈন্যদের মুখোমুখি হয়েছিল, কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানের এই বিশেষ দলটির সঙ্গে তাদের কখনো লড়াই হয়নি। এই দলটির নাম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট (East Bengal Regiment), যা সম্পূর্ণ বাঙালি সৈনিকদের নিয়ে গঠিত, যার পেছনের মূল পথপ্রদর্শক ও কারিগর ছিলেন মেজর এ ডব্লিউ চৌধুরী, মেজর আবদুল গনি এবং কর্নেল এমএজি ওসমানী নামের সেই তিন অকুতোভয় বাঙালি অফিসার। তাদের সেই দূরদর্শী উদ্যোগ আর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব না থাকলে এই গৌরবময় ইতিহাস সৃষ্টি হওয়াই হয়তো সম্ভব হতো না।

আইয়ুব খান শ্রীনগর অভিমুখী সেনা ইউনিটকে দ্রুত খেমকারান সেক্টরে এসে ভারতীয়দের আক্রমণ প্রতিহত করার আদেশ দেন। এই কাউন্টার-অ্যাটাক ইউনিটের সম্মুখভাগে চলে আসে ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের (সিনিয়র টাইগার্স) বাঙালি সেনারা। পাকিস্তানের মূল আটটি ডিভিশনের বিপরীতে এই ফ্রন্টে ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট মাত্র একটি ব্যাটালিয়নের চারটি রাইফেল কোম্পানির মাধ্যমে সংগঠিত ছিল, যার নেতৃত্বে ছিলেন বাঙালি সিও লে. কর্নেল আবু তাহের খায়রুল হক। মাত্র একটি ব্যাটালিয়ন নিয়ে বাঙালি সেনারা ভারতীয় বাহিনীর সুসজ্জিত ট্যাংক ও পদাতিক বহরকে যেভাবে রুখে দিয়েছিল, তা সামরিক ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। লাহোরে ঢোকার সব ব্রিজ ও রাস্তা উড়িয়ে দিয়ে তারা ভারতের অগ্রযাত্রা স্তব্ধ করে দেয়। এই যুদ্ধেই সম্মুখ সমরে অসীম সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করে আত্মাহুতি দেন নায়েক তাজুল ইসলাম, যার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি মরণোত্তর ‘তামঘা-ই-জুরাত’ পান। অনন্য অবদানের জন্য ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল এ টি কে হক ‘সিতারা-ই-জুরাত’ এবং আলফা কোম্পানি কমান্ডার ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমান ‘হিলাল-ই-জুরাত’ লাভ করেন। একটি হিলাল-ই-জুরাত ও তিনটি সিতারা-ই-জুরাতসহ মোট ১৫টি বীরত্বসূচক পদক পেয়ে ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ইতিহাসে ওই যুদ্ধের সর্বোচ্চ পদকপ্রাপ্ত ইউনিট হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

স্থলবাহিনীর পাশাপাশি বিমানবাহিনীতে কর্মরত বাঙালি বৈমানিকরাও ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে বিশ্বরেকর্ড গড়েন। স্কোয়াড্রন লিডার মোহাম্মদ মাহমুদুল আলমের নাম এক্ষেত্রে অবিস্মরণীয়। পাকিস্তান বিমানবাহিনীর রেকর্ড ও আন্তর্জাতিক সামরিক ইতিহাস অনুযায়ী, একটি সাধারণ এফ-৮৬ স্যাবর জঙ্গিবিমান নিয়ে তিনি এক মিনিটে ভারতের পাঁচটি হকার হান্টার বিমান ভূপাতিত করেন, যার মধ্যে প্রথম চারটি বিমান ধ্বংস করেছিলেন মাত্র ৪০ সেকেন্ডের ব্যবধানে। এটি আজ পর্যন্ত বিমানযুদ্ধের ইতিহাসে একটি অক্ষুণ্ণ বিশ্বরেকর্ড। পুরো যুদ্ধে তিনি মোট ৯টি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে জাতীয় বীরে পরিণত হন। ২০১৪ সালে তার স্মরণে পাঞ্জাবের মিয়ানওয়ালি বিমানঘাঁটির নামকরণ করা হয় পিএএফ বেস এমএম আলম এবং লাহোরের একটি বিখ্যাত রাজপথের নাম রাখা হয় এমএম আলম রোড।

আরেক অকুতোভয় বাঙালি বৈমানিক ফ্লাইট লে. সাইফুল আজমও বীরত্বের সঙ্গে ডগফাইট করে ভারতীয় বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেন। পরে ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধে অংশ নিয়ে তিনি ইরাক ও জর্ডান বিমানবাহিনীর হয়ে একাই একাধিক ইসরাইলি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেন, যা বিশ্ব সামরিক ইতিহাসে তাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায় এবং মার্কিন বিমানবাহিনী তাকে বিশ্বের অন্যতম লিভিং ঈগল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধ অমীমাংসিতভাবে শেষ হলেও বাঙালিদের জন্য এর সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ও সামরিক তাৎপর্য ছিল। ব্রিটিশ আমল থেকে বাঙালিদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া নন-মার্শাল রেস বা অযোদ্ধা জাতি অপবাদের কলঙ্ক এই যুদ্ধের মাধ্যমেই চিরতরে মুছে যায়। খেমকারান ও লাহোর সেক্টরে বাঙালিরা প্রমাণ করেছিল, রণকৌশল ও সাহসিকতায় তারা পৃথিবীর যেকোনো শ্রেষ্ঠ বাহিনীর সমকক্ষ। এই সামরিক আত্মবিশ্বাস ও বীরত্বের ইতিহাসই পরবর্তী সময়ে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের পথ দেখিয়েছিল। ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে অংশ নেওয়া এবং অসামান্য মেধার স্বাক্ষর রাখা প্রতিটি বাঙালি সামরিক কর্মকর্তা—মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানী, জিয়াউর রহমান, খালেদ মোশাররফ, আবু তাহের ও আবুল মঞ্জুর পরবর্তী সময়ে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর কমান্ডার ও প্রধান সেনাপতি হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে মূল রূপকারের ভূমিকা পালন করেন।

দুর্ভাগ্যবশত, বর্তমান প্রজন্মের সামনে একাত্তরের বীরদের যেভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়, পঁয়ষট্টির পটভূমি ও বীরত্বকে সেভাবে পরিচয় করানো হয় না।

লেখক: সাবেক সহকারী নৌবাহিনী প্রধান ও উপ-উপাচার্য, বিইউপি

অর্থবছর বদলালেই কি সমস্যার সমাধান

এসআরবি কি বিলুপ্ত র‍্যাবের মতোই হবে

মুছে ফেলা হচ্ছে মুসলিম ভারতের সব চিহ্ন

অনৈক্যের সুযোগ নিচ্ছে অগ্নিসন্ত্রাসীরা

তথ্যের অবাধ প্রবাহ নাকি বিভ্রান্তির কারখানা

মিয়ানমার কি গণহত্যার জন্য দোষী সাব্যস্ত হবে

ভারতের মুসলিম ও সাংবিধানিক ধর্মনিরপেক্ষতার সংকট

অপ্রতিমদের প্রতি নির্মমতা থামবে কীভাবে

পরাশক্তির প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ

মেধা না বিশেষ সুবিধা