ষাটের দশকের মাঝামাঝি বা তার একটু পরে হবে। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ি বা নবম বা দশমে। ঢাকার সদ্য নবপ্রতিষ্ঠিত ধানমন্ডি গভর্নমেন্ট বয়জ হাই স্কুলে। চকচকে নতুন তিনতলা বিল্ডিং, ছাই রঙের। আমাদের পাড়ার পূর্ব-দক্ষিণ দিকে মিরপুর রোড আর মানিক মিঞা অ্যাভিন্যুর অনন্য পাশে, ওই দুই সড়কের কোনায়।
কিন্তু আমাদের পাড়ার স্কুল ছিল পূর্ব থেকেই লালমাটিয়া স্কুল। লালমাটিয়া তখনো গ্রামের মতো। সারা ঢাকা শহরেই তখন তিনতলা তো দূরে থাক, দোতলা এমারতই ছিল না তেমন, গ্রাম প্রায় থেকে যাওয়া লালমাটিয়াতে তো তার কথাই ছিল না। বড় চকচকে তিনতলা বিল্ডিংয়ের কারণেই অনেকটা আমার নতুন ধানমন্ডি সরকারি স্কুলটি লক্ষণীয় ছিলÑলালমাটিয়া স্কুল এলাকায় তার চেয়ে বড় হলেও, তার তেমন কোনো বিল্ডিং ছিল না। লম্বা লম্বা বাঁশের বেড়া আর টিন বা ছনের ছাদের ঘর ছিল। কোনো পাঁচিল ছিল না। ছিল বড় মাঠ, স্কুলের উত্তর পাশ দিয়ে চলে যাওয়া সরু একটি মেঠোপথের মতো রাস্তার পাশে। যেদিনের কথা বলছি, সেদিন সেই মাঠে যেন এক উৎসবমুখর মেলার মতো অবস্থা। বহু লোকের সমাগম। স্কুলের ছাত্র-শিক্ষক ছাড়াও আমরা পাড়ার ছেলেরা আর তাদের বাবা-চাচা, বড় ভাই ও মুরব্বিরা এসেছেন।
উপলক্ষ, স্কুলের বার্ষিক মিলাদ মহফিল, ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.)। দিনটা ছিল খুব সম্ভব ১২ রবিউল আউয়াল বা তার দু-চারদিন আগে বা পরের কোনো একদিন । প্রজন্ম-প্রজন্মান্তরে নবীজির জন্মতারিখ, প্রথম ‘হস্তীবর্ষ’ (আম আল-ফিল) তথা হিজরি-পূর্ব ৫৩ বর্ষের ১২ রবিউল আউয়াল জেনে, তার স্মরণে প্রতি হিজরি বছরের ওই তারিখ বা তার আশপাশে বার্ষিক ‘মিলাদ’ স্মরণিকা উৎসব করা হয়। নবীজি (দ.) সময়ের খুব কাছের, হিজরি প্রথম শতাব্দীর আনাস (র.) আর সাঈদ ইবন মুসায়্যব (রা.)-কে দেখা তাবেয়ি, ইবন ইসহাক (রা.)-কৃত নবীজির (দ.) প্রথম জীবনীর বর্ণনা মতোই। ওই তারিখে রাজনৈতিক ঐতিহাসিক কারণে, দু-একটি দেশ ছাড়া সারা দুনিয়ায়ই পালিত হয়ে আসছে স্মরণাতীতকাল থেকেই । লালমাটিয়া স্কুলে তারই আয়োজন করা হয়েছিল।
জ্ঞান তাপস, বিশ্ববিখ্যাত আমাদের দেশের গর্ব, বহু ভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ আসবেন মিলাদ পড়াতে। সবার আগ্রহ, তাকে এক নজর দেখার। আর তার সঙ্গে মিলাদ পড়ানোর, ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপনের।
সেকালে ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে বার্ষিক মিলাদ পালন করা হতো খুব ঘটা করেÑস্কুলে, পাড়ায়। সরকারও করত। তার আনন্দই ছিল আলাদা। বছরের আর দুটো বড় ঈদÑরোজার ঈদ আর কোরবানির ঈদের মতো এই ঈদে নতুন জামা-কাপড় হতো না, দল বেঁধে ‘আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর’ বলতে বলতে ঈদগাহে গিয়ে ঈদের নামাজ পড়া হতো না। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেমাই খাওয়া হতো না। কিন্তু অন্য আনন্দ ছিলÑপরিষ্কার কাপড় পরে, মাথায় টুপি পরে, খোশবু লাগিয়ে মিলাদ মাহফিলের জায়গায় যাওয়া, সুর করে, ‘ইয়া নবী সালাম আলাইকা’ বলে মিলাদ পড়া, নবীজির (দ.) জন্ম আর জীবনের কখনোই পুরোনো না হওয়া একই কাহিনি শুনে মোহিত হওয়া, আর সুর করে পড়া নানা কবিতা শুনে, তার সঙ্গে সুর মিলিয়ে মিলিয়ে তা গাওয়া। শুনে প্রাণ ভরে দোয়া করাÑআর সব শেষে জিলাপি বা বাতাসা নিয়ে বাসায় ফেরা। কী যে আনন্দ তাতে!
সেসব আজকাল বোধ হয় হারিয়ে গেছে বা হারিয়ে যাচ্ছে।
সেদিন লালমাটিয়া স্কুলের মাঠ মিলাদ পড়তে আসাদের ভিড়ে লোকে-লোকারণ্য। কিন্তু মিলাদ শুরু হচ্ছে না। মিলাদ পড়াবেন যে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, তিনি আসেননি এখনো। সবাই আধীর আগ্রহে অপেক্ষমাণ।
মাঠের একদিকে রাস্তা পেরিয়ে স্কুলের মাঠে ঢোকার একটু পরেই ঝালমুড়িওয়ালাসহ নানা ফেরিওয়ালা বসা। সেখান থেকে পত্রিকার কাগজের এক টুকরোতে মুড়িয়ে দেওয়া ঝালমুড়ি নিয়ে এগিয়ে আসতে আসতে এক বুড়ো বললেন, ‘আসো নাতি, ঝালমুড়ি খাই!’ আমাকে এভাবেই কাছে ডেকে নিয়ে তার ঝালমুড়ি ভাগাভাগি করে আমাকে খাওয়াতে খাওয়াতে, নিজও খেতে খেতে হাঁটতে থাকলেন বুড়ো ‘নানা’। আমিও তার সঙ্গে হেঁটে সামনের দিকে যেতে থাকলামÑআরো পরে স্কুলের একটা লম্বা ঘরের দিকে। খাটো ওই ‘নানা’র মাথায় মোটা কাপড়ের টুপি, তার নিচে তার বাবরি চুল আর মুখে দাড়ি।
হঠাৎ লোকে দৌড়ে ছুটে এলো, চারদিকে হৈ রৈ পড়ে গেলÑ‘উনি এসে পড়েছেন, উনি এসে পড়েছেন!’ হেড স্যার বা ওরকম কেউ এসে বললেন, ‘স্যার, আসুন!’ বা ‘হুজুর, আসুন!’ বা ওই রকম কিছু। লোকে ‘নানা’কে ঘিরে ধরে তাকেসহ আমাদের পেছন পেছন আগাতে শুরু করল।
স্কুল ঘরে যেতে যেতেই বুঝলাম, উনিই জ্ঞানতাপস, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।
আমরা সবাই তার পড়ানো মিলাদ পড়লাম। মিলাদ শেষে জিলাপিও পেলাম সবাই।
কিন্তু সেদিনই বোধ হয় আমি ঠিক করলাম, আমিও ওই ‘নানা’, জ্ঞানতাপস ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতো হব। বড় হয়ে চেষ্টা করলামও।
তার মতো অত মহান তো হতে পারলাম না। কিন্তু তার মতো আমিও অনেকগুলো ভাষা শিখলাম। তারই মতো অতি সাধারণ থাকতে চেষ্টা করি। বাঙলা ভাষাকে ভালোবাসি, তার সেবায় নিবেদিত হই। নবীজির জীবনের যে শিক্ষা, আর তাকে ভালোবাসার যে প্রেরণা তিনি মিলাদ শরিফে দেন, তাও আত্মস্থ করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করি।
বাঙলার ঐতিহ্যবাহী জীবনধারায় মিলাদ শরিফের ছিল এক অসাধারণ ভূমিকা। তার অনুষ্ঠানে সাধারণ জনগণ সমাজের জ্ঞানঋষি জ্ঞানতাপসদের সঙ্গে একসঙ্গে নবীপ্রেমের আনন্দঘন উৎসবে মিশে তাদের প্রেম ও জ্ঞান সুধা ভাগাভাগি করে নিতে পারতÑজ্ঞানতাপস ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সঙ্গে বালক আমার ঝালমুড়ি ভাগাভাগি করে নিয়ে খাওয়ার মতো। ওই প্রেম ছিল খোদার প্রেম, নবীজির প্রেম, তাদের কারণ সব সৃষ্টি ও মানবজাতির সবার জন্য প্রসারিত বিশ্বপ্রেম, জ্ঞানেরও প্রেম। তার প্রেরণায় অষ্টম বা নবম শ্রেণির অতি সাধারণ একটি বালককেও অসাধারণ এক জ্ঞানসাধনার পথে চালিত করে।
মিলাদে প্রেম ও প্রেরণার কথাই যখন উঠল, আরো একটু আগের কথাও বলি। আরো আগে, বয়স তখন চার বা তেমন। রাজশাহীতে তখন আমরাÑ বাবার সঙ্গে জুমার নামাজে গেলে, নামাজের পর যে মিলাদ শরিফ হতো, তাতে যোগ দিই। সেকালে, প্রত্যেক মসজিদে, প্রত্যেক জুমার পরে সবার জুমার পরের সুন্নত নামাজ হয়ে গেলে মিলাদ শরিফ হতো। তাতে সব নামাজিই যোগ দিতেন। যাদের নামাজ আগে শেষ হয়ে যেত, তারাও মিলাদ শরিফে যোগ দেওয়ার জন্য বসে থাকতেন। মিলাদ শরিফের শেষে দোয়ার পর বাতাসা বা জিলাপি দেওয়া হতো তবারক হিসেবেÑবাচ্চারা এটা খুব ভালোবাসত, সুর করে করে সালাম পড়বার মতোই।
এটা এখন আর বাঙলাদেশে খুব একটা দেখা যায় নাÑযদি অন্য কোনো কোনো দেশে, যথা ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় এখনো হয় বলে আমি দেখেছি।
জুমার পর মিলাদ হচ্ছিল, একপর্যায়ে সবাই দাঁড়িয়ে, সুর করে বলছিলেন, ‘ইয়া নবী সালাম আলাইকা, ইয়া রাসুল সালাম আলাইকা, ইয়া হাবিব সালাম আলাইকা!’
বাবাকে বললাম, ‘আব্বা, নবী আর রাসুল তো বুঝলাম’Ñবাবা তা আগে শিখিয়েছিলেন, ‘কিন্তু, হাবিব কী, তা তো বুঝলাম না, হাবিব কী?’
বাবা বললেন, ‘হাবিব অর্থ, বন্ধু।’
বললাম, ‘নবীজি কি আমার বন্ধু?’ বা এ রকমই কিছু।
বললেন, ‘হ্যাঁ’।
সেই থেকে সারা জীবনই হয়ে গেল নবীজিকে বন্ধু জেনে সেই বন্ধুত্বের দাবি যে মহৎ জীবন ও কর্ম, তার চেষ্টা সাধনার।
মিলাদ শরিফ এভাবেই মহৎ জীবন ও কর্মের সাধনায় উদ্বুদ্ধকরণের জন্য শিশু থেকে নিয়ে বয়স্ক সবারই গণশিক্ষার এক চমকপ্রদ আনন্দঘন মাধ্যম হিসেবে প্রচলিত শুরু থেকেই। নবীজি (দ.)-এর উপস্থিতিতেই তাঁর যুগ থেকেইÑযদিও তখনকার ওইসব নবীজির (দ.) মিলাদÑঅর্থাৎ জন্মের বৃত্তান্ত বলা, শোনা, শেখার মাহফিল আজকালকার প্রচলিত গতমোতাবেক বা ঠিক ‘মিলাদ মাহফিল’ নামে হতো নাÑআজকের গতমোতাবেক মিলাদ মহফিলের বিভিন্ন অংশ অনুষ্ঠিত হতো বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে, বিভিন্ন শব্দের হয়তো। এ অংশগুলো ছিলÑআজও হয়ে থাকেÑকোরআন শরিফ থেকে আল্লাহতায়ালার আর নবীজির (দ.) প্রশংসামূলক আয়াতের উচ্চারিত পাঠ (তিলাওয়াত), একই বিষয়ে আর নবীজির (দ.) জন্ম (মিলাদ), তা দিয়েই সূচিত তাঁর জীবন (সিরাত), সেসব থেকে শিক্ষণীয় বিশ্বাস (আকিদা), জীবনধারা (দ্বীন’), তাঁর নিয়মনীতি (শরিয়ত), আর পালনীয় রীতির (সুন্নত) সংবাদের (হাদিস) শিক্ষা; সুললিত কণ্ঠে আল্লাহতায়ালা আর তাঁর নবীর (দ.) প্রশংসামূলক কবিতা আবৃত্তি (সমা), কোরআন শরিফে আল্লাহতায়ালার আদেশমতো নবীজির ওপর দরুদ পড়ে, তাঁকে সালাম দিয়ে তাঁর আনুগত্যের অঙ্গীকারের (তসলিম) উৎসব (সলাওয়ত), আল্লাহর কাছে নবীজির (দ.) সঙ্গে সম্পর্কে যে শুভকর্ম (আমল সালেহ), তার দোহাই (ওসিলা) দিয়ে মঙ্গলভিক্ষা (দোয়া খায়র) করা; জগতে নবীজির (দ.) আগমনে কোরআন শরিফে আল্লাহতায়ালার আদেশমতো খুশি (ফরিহ) হয়ে হাদিসের বর্ণনা মতে মিষ্টি খাওয়া খাওয়ানো, বিলি-বণ্টনে সদকা-হাদিয়া (দান-উপহার’)-রূপে, বরকতময় (তবররক) হিসেবে।
মুক্তিযুদ্ধের ঠিক প্রাককালে, ১৯৭১-এর মার্চ মাসে রেডিওতে প্রায় সারা দিনই সম্প্রচারিত হতো দেশাত্মবোধক গান। তার একটির প্রথম কটি কথা ছিল, ‘হারানো বাঙলাকে ফিরে পেতে চাই…’। এটাই ছিল প্রকৃত প্রস্তাবে মুক্তিযুদ্ধের আসল চেতনাÑহারানো বাঙলাকে ফিরে পাওয়ার বাসনা।
মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। তার পরে অর্ধশতাব্দী অতিবাহিত। ইতিহাসের ‘স্মৃতি দিয়ে ঘেরা, স্বপ্ন দিয়ে তৈরি’ ‘হারানো বাঙলাকে ফিরে পাওয়া’ তো দূরে থাকÑআমাদের নিজেদেরই যৌবনের বাঙলারই অনেক কিছু এখনই, আমাদেরই চোখের সামনে হারিয়ে যাচ্ছে। সে সময়ের সে অনাবিল আনন্দের বার্ষিক মিলাদ, ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.), ‘সাপ্তাহিক ঈদের’ জুমাবারের জুমা শেষের মিলাদÑসবই যেন ক্রমে হারিয়ে যাচ্ছে। বিজাতীয় অপসংস্কৃতির সয়লাব, যান্ত্রিক জীবনধারা ও বিকল্প বিনোদন, এমনকি বিদেশ থেকে আমদানি ধর্মীয় পথভ্রষ্টতাসহ নানা কারণে।
কোনো কোনো দেশে রাজনৈতিক ঘটনায় নবীবংশীয় শাসকদের সরিয়ে ক্ষমতাসীন হয় যারা, তারা নবীবংশের পক্ষে গণঅভ্যুত্থানের আশঙ্কায়, তাঁর (দ.) স্মরণ ও ভালোবাসায় তাঁর বংশের পক্ষে জনমত গঠিত ও বৃদ্ধি হয়, যা কিছু তাঁর প্রসার-প্রতিরোধ, তাদের পক্ষে অনেকটা স্বাভাবিক হয়। তারই অংশ হিসেবে নানা আবরণে, জনপ্রিয় জনমত গঠনমূলক বিষয়Ñধর্মের কথা ব্যবহার বা অপব্যবহার করেও কখনো কখনো তারা বা দেশে-বিদেশে তাদের সমর্থক বা বেতনভূক বা অনুগ্রহ গ্রহীতারা এই উদযাপনে বাধা দেওয়া যুক্তিতর্ক দাঁড় করাতে সচেষ্ট হয়। তা তাদের পক্ষে মানবিক দুর্বলতার কারণে অনেকটা স্বাভাবিক হলেও, তার প্রকৃতপক্ষে ভিত্তিহীন ও কর্ণপাতের অযোগ্য, ধর্মীয় ও জাতীয় ঐতিহ্য-নাশকতামূলক, ক্ষতিকারক হওয়া সম্পর্কে সচেতন থাকাটাও জরুরি।
ঈদে মিলাদুন্নবীসহ বিলীন মান ঐতিহ্যের সবকিছুকেই ধরে রাখা, পুনরুজ্জীবনমূলক রেনেসাঁ অত্যাবশ্যক। জাতির টিকে থাকা, বেঁচে থেকে ফুলে-ফলে-ফসলে সুশোভিত সমৃদ্ধিসহ মহৎ ও মহীয়ান হওয়ার স্বার্থেই।
হারানো বাঙলাকে ফিরে পাওয়ার সক্রিয় নবজাগরণের অংশ এই মিলাদুন্নবী উদযাপনও।
লেখক: ঢাকা ও যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষক ও গবেষক। এমআইটি থেকে সংস্কৃতি, ঐতিহ্য বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা-পূর্বক পিএইচডি অর্জন করেন