বাংলাদেশের ইতিহাসে কিছু দিন আছে, যেগুলো সময়ের গণ্ডি অতিক্রম করে সর্বকালীন হয়ে ওঠে। ৭ নভেম্বর, তেমনই এক দিন, যাকে বলা যেতে পারে—ইতিহাসের বাঁক বদলের দিন, মুক্তির নব আলোকবর্তিকা। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের কালরাত্রিতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নারকীয় তাণ্ডবে জাতি যখন দিশাহারা, ঠিক সেই মুহূর্তে ক্যাপ্টেন খালেকুজ্জামানের কাছ থেকে আগ্রাবাদের ব্যারিকেডে দাঁড়ানো অবস্থায় মেজর জিয়াউর রহমান জানতে পারেন পাক বাহিনী শহরে এবং ইবিআরসিতে আক্রমণ করেছে, বর্বর হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তার বজ্রকণ্ঠ গর্জে ওঠে—‘We revolt!’ এরপর কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ভেসে আসে তার স্বাধীনতা ঘোষণা—‘I Major Ziaur Rahman…।’ জিয়াউর রহমানের সেই আহ্বানে জেগে উঠেছিল এক ঘুমন্ত জাতি; বাংলাদেশের মানুষ উপলব্ধি করেছিল, তারা একা নয়। জিয়াউর রহমানের সেই বজ্রকণ্ঠই ছিল মুক্তির প্রথম ডাক, স্বাধীনতার প্রথম উচ্চারণ। চার বছর পর ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর একইভাবে যেন ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটেছিল। আবারও অনিশ্চয়তার ঘেরাটোপ বিদীর্ণ করে হাজারো কণ্ঠে স্লোগান উঠেছিল—‘সিপাহি-জনতা ভাই ভাই, জেনারেল জিয়া জিন্দাবাদ।’ করুণ পরিসমাপ্তি ঘটেছিল মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে ৩ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী প্রতিবিপ্লবের।
১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বাকশালের একদলীয় শাসনের নাগপাশ থেকে মুক্ত হয় বাংলার মেহনতি জনতা। এর ১০ দিন পর সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন চৌকস, মেধাবী এবং সেনাবাহিনীতে তুমুল জনপ্রিয় মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধ এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিসংগ্রামের বীরোচিত ভূমিকার কারণে এরই মধ্যে তিনি হয়ে উঠেছিলেন কিংবদন্তি। কিন্তু উচ্চাভিলাষী মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ জিয়াউর রহমানের উত্থান মেনে নিতে পারেননি। তার অধীনস্থ কর্নেল সাফায়াত জামিল ২ নভেম্বর সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে ঢুকে পড়েন। তখন খন্দকার মোশতাকের সভাপতিত্বে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক চলছিল। কর্নেল জামিল অস্ত্রের মুখে সবাইকে হত্যার হুমকি দেন এবং মোশতাককে শেখ মুজিব হত্যাকারী হিসেবে গালাগাল করেন। জেনারেল ওসমানির মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও সাফায়াত জামিল জেনারেল জিয়াকে বরখাস্ত করার জন্য দাবি করেন এবং ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফকে সেনাপ্রধান নিয়োগ করতে শর্ত আরোপ করেন। রাত ১টায় বৈঠকটি শেষ হয়। ৩ নভেম্বর ভোরবেলায় আরেকটি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পতন ঘটে খন্দকার মোশতাকের এবং প্রধান বিচারপতি সায়েমকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক (সিএমএলএ) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই দিন ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফকে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। খালেদ মোশাররফ শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডে জড়িত অফিসারদের বিদেশে নির্বাসনে পাঠিয়ে দিয়ে নিজের অবস্থান সুসংহত করার চেষ্টা করেন। এর আগে রাত ২টায় তার অনুগত অফিসাররা জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করেন। তারা বাইরের ফটক এবং দরজায় তালা লাগিয়ে দেন। একাধিক অফিসার জেনারেল জিয়াকে পাহারা দেওয়ার জন্য বাড়ির ভেতরেই অবস্থান করছিলেন। মেজর ডালিমের লেখা ‘যা দেখেছি যা বুঝেছি যা করেছি’ গ্রন্থ থেকে জানা যায়, ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ খুব উচ্চাভিলাষী ছিলেন এবং কর্নেল সাফায়াত জামিল ও তিনি সবসময় জিয়াউর রহমানের কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করতেন। কিছু বাকশালপন্থি অফিসার তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন। ব্রিগেডিয়ার খালেদ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। মুজিব সরকার এবং বাকশালীদের সহানুভূতিও ছিল তার প্রতি। তিনি জেনারেল জিয়ার জায়গায় সেনাপ্রধান হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন, কিন্তু আচমকা বাকশাল সরকারের পতনের ফলে তার স্বপ্ন ভঙ্গ হয়। তিনি যেকোনো মূল্যে তার পরিকল্পনা সফল করতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। তিনি আগস্ট বিপ্লবের পূর্বাবস্থায় দেশকে ফিরিয়ে নেওয়ার এক মারাত্মক খেলায় মেতে উঠেছিলেন। তখনকার গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনগুলোয়ও এই ষড়যন্ত্রের সত্যতা মেলে। জেনারেল জিয়ার প্রায় সব নির্দেশই উপেক্ষা করতেন তিনি এবং তার সহচর ঢাকার ব্রিগেড কমান্ডার কর্নেল জামিল। ক্রমান্বয়ে তারা আর্মির চেইন অব কমান্ডকে অকেজো করে তুলেছিলেন।
এভাবেই ঈশান কোণে পুঞ্জীভূত হয় বিদ্রোহের ঘনঘটা, দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। প্রকারান্তরে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করার ষড়যন্ত্রের মধ্যেই সুপ্ত ছিল খালেদ মোশাররফের পতনের বীজ। সেনাবাহিনী এবং আপামর জনসাধারণের মধ্যে জিয়ার ছিল তুমুল জনপ্রিয়তা। ভুল করে বসেন খালেদ মোশাররফের মা। ছেলে সেনাপ্রধান হওয়ার পর তার নেতৃত্বে বুদ্ধিজীবীদের একটি মিছিল ৩ নভেম্বর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। পরদিন এই খবর পত্রিকায় ছাপা হলে খালেদ মোশাররফের ভারতমুখিতা জনসমক্ষে প্রকাশ পায়। অন্যদিকে জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করার খবরে সারা দেশের মানুষের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বেড়েই চলে। ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়ন সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েছিল এই প্রতিবিপ্লবের কাঁধে ভর করে তাদের পছন্দের একটা সরকার ক্ষমতায় বসাতে। কিন্তু বিদ্রোহীরা জিয়াউর রহমানের ব্যক্তি-ইমেজ এবং জনপ্রিয়তা ধর্তব্যে না নিয়ে শুরুতেই ভুল করে বসেছিল। এদিকে কর্নেল তাহের জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে ক্ষমতা আরোহণের ছক কষে ফেলেন। জিয়াউর রহমান গৃহবন্দি হওয়ার সময়টিকে কর্নেল তাহের বেছে নেন বিপ্লব সফল করার মাহেন্দ্রক্ষণ হিসেবে। চিন্তাচেতনায় অধিকতর মাওবাদী আদর্শ অনুসরণ করলেও তিনি রুশ বিপ্লবের তারিখের অনুকরণে ৬-৭ নভেম্বর রাত ১২টাকে ঠিক করে রেখেছিলেন বিপ্লবের তারিখ হিসেবে। তিনি ওসমানী, জিয়া ও খালেদের মধ্যে জিয়াউর রহমানকে বেছে নিয়েছিলেন তার আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা এবং সাদাসিধে জীবনযাপনের জন্য, যা তার মতো বামপন্থিদের জীবনাচারের সঙ্গে অনেকটা মিলে যায়।
জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দিত্ব থেকে উদ্ধার করতে হবে—এই দাবি সামনে রেখে তিনি সবাইকে একত্র করেন, আড়ালে রাখেন সৈনিকদের ১২ দফা দাবি। ৬ নভেম্বর রাত ১২টায় প্রথম গোলাগুলি শুরু হলে পক্ষ-বিপক্ষ বোঝা যাচ্ছিল না। এতে জেনারেল জিয়ার প্রাণসংশয় দেখা দিলে ২ ফিল্ড আর্টিলারির মেজর মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে একটি দল খালেদ মোশাররফের অনুগত সৈনিকদের নিয়ন্ত্রণে থাকা জিয়াউর রহমানের বাড়ির গেট ভেঙে তাকে বিনা বাধায় ২ ফিল্ড আর্টিলারির মেসে নিয়ে আসেন। অন্যদিকে সিপাহি বিপ্লবের খবর পেয়ে জেনারেল খালেদ মোশাররফ তার প্রাইভেট কার নিয়ে দ্রুত বঙ্গভবন ত্যাগ করেন।
কর্নেল হুদা ও কর্নেল হায়দার তার সঙ্গে ছিলেন। খালেদ মোশাররফ প্রথমে রক্ষীবাহিনী প্রধান ব্রিগেডিয়ার নুরুজ্জামানের বাসায় যান। সেখান থেকে তিনি চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গলে ফোন করে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পারেন। এরপর তিনি শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত ১০ম বেঙ্গল রেজিমেন্টে আশ্রয় গ্রহণ করতে যান। ইউনিটের সিও ছিলেন কর্নেল নওয়াজিশ।
তিনি তাৎক্ষণিকভাবে টেলিফোনে সদ্যমুক্ত জেনারেল জিয়াউর রহমানকে বিষয়টি অবহিত করেন। জেনারেল জিয়া মেজর জলিলকে ফোন করেন। প্রত্যক্ষদর্শী কর্নেল আমিনুল হকের ভাষ্যমতে, তিনি ওই সময় খালেদ মোশাররফকে প্রাণে না মারার জন্য জেনারেল জিয়াকে নির্দেশ দিতে শুনতে পান। ভোরবেলা পরিস্থিতি কর্নেল নওয়াজিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। কয়েকজন উত্তেজিত সৈনিক নিয়ে মেজর জলিল ১০ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মেসে প্রবেশ করেন। তার সঙ্গে থাকা একজন বিপ্লবী হাবিলদার চিৎকার দিয়ে খালেদ মোশাররফকে বলেন, ‘আমরা তোমার বিচার চাই।’ খালেদ মোশাররফ তাকে জিয়াউর রহমানের কাছে নিয়ে যেতে বললেও তার স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে যায় তিন মুক্তিযোদ্ধা অফিসার খালেদ, হায়দার ও হুদার শরীর।
অন্যদিকে নজরকাড়া কিছু দাবির আড়ালে জিয়াউর রহমানের ঘাড়ে পা রেখে ক্ষমতা দখল করাই ছিল কর্নেল তাহেরের মূল উদ্দেশ্য। জেনারেল জিয়াকে মুক্ত করার কিছুক্ষণ পর রাত প্রায় ২টা ৩০ মিনিটে কর্নেল তাহের যান টু-ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারির ফিল্ড মেসে। সাহায্য করার জন্য জেনারেল জিয়া কর্নেল তাহেরকে ধন্যবাদ দিলেও তাহেরের লক্ষ্য ছিল ভিন্ন। তিনি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কক্ষের একটি কোণে যান। বহুক্ষণ কথা চললেও একসময় তাদের মধ্যে বেশ উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। জিয়াউর রহমান একসময় বারান্দায় এসে সুবেদার মেজর আনিসকে কর্নেল তাহেরকে সরিয়ে নিতে বলেন। তাহেরের উদ্দেশ্য ছিল জিয়াউর রহমানকে রেডিও স্টেশনে নিয়ে অস্ত্রের মুখে তাদের অযৌক্তিক দাবিগুলো পাস করিয়ে নেবেন। সাধারণ সৈনিকরা ভেবেছিল, জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করার মধ্য দিয়ে বিপ্লবের সমাপ্তি হয়েছে; কিন্তু তাহেরপন্থিদের উদ্দেশ্য ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
তখন শত শত খাকি উর্দিধারী জাসদের বিপ্লবী সংস্থার সদস্যদের পদভারে ২ ফিল্ড রেজিমেন্ট প্রকম্পিত—কে সৈনিক, কে জাসদের বিপ্লবী, তা বোঝা যাচ্ছিল না। তারাই অফিসারদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন। এন্থনি মাসকারেনহাস তার ‘এ লিগেসি অব ব্লাড’-এ সেই সময়টা সম্পর্কে লিখেছেন, ‘১৯৭৫ সালের ৫ ও ৬ নভেম্বর ক্যান্টনমেন্টসহ সারা শহরে ছড়ানো হলো হাজার হাজার প্রচারপত্র। এই কাজগুলো করল বামপন্থি জাসদ। এ সময় রাজনৈতিক দল জাসদ ছিল নিষিদ্ধ। কিন্তু তারা কাজ করছিল বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা এবং বিপ্লবী গণবাহিনীর আবরণে।’ এজন্য কর্নেল তাহেরকে বিশ্বাস করার কোনো কারণ ছিল না।
তাদের অফিসারবিহীন সেনাবাহিনী গড়ার হঠকারী প্রচারণায় এরই মধ্যে ১৩ জন অফিসার নিহত হয়েছেন। তাই ভোরবেলা প্রচার করার উদ্দেশ্যে টু-ফিল্ডের অফিসেই জিয়াউর রহমানের একটি ভাষণ রেকর্ড করা হলো। সংক্ষিপ্ত ভাষণে জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর অনুরোধে দেশের এই ক্রান্তিকালে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্বভার গ্রহণ করার কথা ঘোষণা দেন। তিনি দেশবাসীকে শান্ত থেকে অর্পিত দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান। তিনি বন্ধ হয়ে যাওয়া অফিস-আদালত, বিমানবন্দর ও মিল-কারখানা আবার চালু করার জন্যও অনুরোধ জানান। পরিশেষে তিনি মহান আল্লাহর সহায়তা কামনা করেন। তার এই ভাষণের পর বাংলাদেশের মানুষ আনন্দে কতটা উদ্বেল হয়ে উঠেছিল—প্রবীণদের মানসপটে এখনো তা নিশ্চয়ই জাগরূক আছে। সেদিন দেশবাসী প্রচণ্ড আবেগে ভেসেছিল তাদেরই প্রিয়—‘আমি মেজর জিয়া বলছি’র কমলের মুক্তিতে। মানুষ একে অপরকে আলিঙ্গন করছিল। জলপাই রঙের ট্যাংক ও ট্রাকগুলোর উপরে উঠে উচ্ছ্বসিত জনতা মালা পরিয়ে দেয় সৈনিকদের গলায়, মিষ্টিমুখ করায় মুক্তির আনন্দে—গড়ে ওঠে সৈনিক-জনতার অবিচ্ছেদ্য সেতুবন্ধ, যা আজও বহমান। বাঁধভাঙা জোয়ারের মতো উদ্বেলিত জনতার স্রোত সেদিন আছড়ে পড়েছিল জাহাঙ্গীর গেটের অদূরে। ‘সিপাহি-জনতা ভাই ভাই, জেনারেল জিয়া জিন্দাবাদ’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে আকাশ-বাতাস। সেদিনই ঘোষিত হয়েছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদের এক প্রবাদপুরুষের আগমনী বার্তা, যার নাম ‘জিয়াউর রহমান’।
তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রাজনীতির প্রাণপুরুষ জিয়াউর রহমান শুধু কোনো সামরিক নায়কই নন, তিনি আমাদের স্বাধীনতা, সংহতি ও সাহসিকতার প্রতীক।
আজকে আমরা জাতীয় জীবনে এক ভীষণ ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি, অনেকটা সেই বিপ্লব-উত্তর তমসাচ্ছন্ন সময়ের মতো অনিশ্চয়তা গ্রাস করেছে আমাদের সমাজকে, দেশকে। একটি পক্ষ আবারও বৈদেশিক শক্তির সহায়তায় দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, ৭ নভেম্বরের চেতনা দৃঢ়তার সঙ্গে আঁকড়ে ধরে আমরা যেকোনো সংকট মোকাবিলা করতে সক্ষম হব। ৭ নভেম্বরের সেই মাহেন্দ্রক্ষণে গুটিকয় বিপথগামী মানুষ ছাড়া বাংলাদেশের সৈনিক-জনতা ছিল একতাবদ্ধ, একই লক্ষ্যে অটল এবং অবিচল। তেমনি জুলাই আন্দোলনও আমাদের ছাত্র-জনতা-সৈনিককে এককাতারে নামিয়ে এনেছিল, করেছিল যূথবদ্ধ। এ থেকে প্রমাণিত হয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব যখনই হুমকির সম্মুখীন হয়, ৭ নভেম্বরের অবিনাশী চেতনা আমাদের ঐক্যবদ্ধ করে; দেশের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে আমরা পিছপা হই না। তাই জাতি হিসেবে আমাদের সবার এই দিনটির প্রতি রয়েছে সমান দায়বদ্ধতা; শাসকদের দায় রয়েছে এই দিনের মূল চেতনাকে রাষ্ট্র পরিচালনার কাজে লালন এবং প্রতিপালন করা। পরিশেষে আজকের এই বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ৭ নভেম্বরের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে থাকা ক্ষণজন্মা মানুষ আমাদের মহানায়ক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি আমি আমার হৃদয়-নিংড়ানো ভালোবাসা জানাই।
লেখক: চেয়ারম্যান, ফাউন্ডেশন ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (এফএসডিএস)