হোম > মতামত > উপসম্পাদকীয়

ভূরাজনীতি, খাদ্যনিরাপত্তা ও প্রযুক্তি

এ টি এম জান্নাতুল মোসনাজ

খাদ্য আমাদের জীবনের এতটাই স্বাভাবিক অংশ যে এর ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব আমরা অনেক সময় বুঝতে পারি না। বাজারে চাল, মাছ-মাংস, পেঁয়াজ কিংবা ভোজ্যতেল পাওয়া যাচ্ছে, সরকারি গুদামেও খাদ্য মজুত আছে, তাই আমরা মনে করি খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত। কিন্তু শুধু খাদ্য পাওয়া গেলেই খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। সেই খাদ্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আছে কি না, নিরাপদ ও পুষ্টিকর কি না এবং জলবায়ু পরিবর্তন বা আন্তর্জাতিক সংকটের মধ্যেও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব কি নাÑসেটিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ খাদ্যনিরাপত্তার সঙ্গে একটি দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা জড়িত। তাই একবিংশ শতাব্দীতে এটি শুধু কৃষি বা অর্থনীতির বিষয় নয়, জাতীয় নিরাপত্তা ও ভূরাজনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। খাদ্যশস্য, বীজ, সার ও কৃষি উপকরণের বড় সরবরাহকারী দেশগুলো রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক, কোটা বা আমদানি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অন্য দেশের ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। একইভাবে, বড় বাজারে অন্য দেশের কৃষিপণ্যের প্রবেশাধিকার সীমিত করেও চাপ তৈরি করতে পারে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বের রুটির ঝুড়ি হিসেবে পরিচিত কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলের গম, ভুট্টা ও সূর্যমুখী তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়, দাম বেড়ে চাপে পড়ে আমদানিনির্ভর দেশগুলো। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ যেমন খাদ্যকে ভূরাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত করেছে, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রও শুল্ক ও বাণিজ্যচুক্তিকে ব্যবহার করে বৈশ্বিক কৃষিবাজারে নিজেদের পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়াচ্ছে। পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন জাপান, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর শুল্কের চাপ সৃষ্টি করে বাণিজ্যচুক্তির মাধ্যমে মার্কিন সয়াবিন, ভুট্টা, গম, মাংস, দুগ্ধজাত ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের বাজার উন্মুক্ত করার শর্ত আদায় করেছে। ফলে খাদ্য এখন মৌলিক চাহিদার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ভূরাজনীতিতে দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘ সীমান্ত ও গভীর খাদ্যবাণিজ্য সম্পর্ক থাকলেও দেশটির রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা এবং বিধিনিষেধ বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তাকে বারবার ঝুঁকিতে ফেলেছে। দেশটির ওপর অতিনির্ভরতার কারণে ভারত কোনো পণ্যের রপ্তানি বন্ধ বা সীমিত করার ঘোষণা দিলেই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশের বাজারে তার দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। রয়টার্সের ৪ ডিসেম্বর ২০২৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সাল থেকে ভারতের গম, চিনি, চাল ও পেঁয়াজের ওপর ধারাবাহিক রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের ফলে বাংলাদেশে এসব পণ্যের দাম ভারতের তুলনায় কোথাও কোথাও ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এমনকি সীমান্তের কোথাও কোথাও নগদ অর্থের পরিবর্তে খাদ্যের বিনিময়ে স্বর্ণ পাচারের মতো বিপজ্জনক পণ্যবিনিময় ব্যবস্থাও গড়ে উঠেছিল, যা বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি।

খাদ্যবাণিজ্যের ভূরাজনৈতিক প্রভাব শুধু রপ্তানি বন্ধে সীমাবদ্ধ নয়; আমদানিও রাজনৈতিক চাপের হাতিয়ার হতে পারে। বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে এর উদাহরণ রয়েছে। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা সিএসআইএসের (সিএসআইএস) ২০২৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কূটনৈতিক বিরোধের জেরে ২০১০ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত চীন বিভিন্ন দেশ থেকে কৃষিপণ্য আমদানিতে অন্তত ২৬ বার বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও ভূরাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থে অতিরিক্ত শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের কৃষি ও খাদ্যবাজারে চাপ সৃষ্টি করে আসছে।

বাংলাদেশ কৃষিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। উচ্চফলনশীল ধান, সেচ ও কৃষিপ্রযুক্তির উন্নয়নে উৎপাদন বেড়েছে। ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশনের (এফএও) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশে ধান উৎপাদন ৬ কোটি ১৯ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে, যা সাম্প্রতিক গড়ের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশ বেশি। তবু উৎপাদন বাড়লেই খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৮১ লাখ মানুষ খাদ্য অনিরাপত্তার ঝুঁকিতে থাকতে পারে বলে ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন প্রাক্কলন করেছে। বাংলাদেশের দুর্বলতা হলো গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যপণ্যে আমদানিনির্ভরতা।

খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষি উপকরণের সরবরাহও খাদ্যনিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একটি দেশ খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও সার, বীজ, বালাইনাশক ও প্রযুক্তির জন্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল থাকলে সেই স্বয়ংসম্পূর্ণতা কতটা টেকসই ও নিরাপদ, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। বিশ্বব্যাংকের ২০২৬ সালের অর্থায়ন ও খাদ্যনিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট সারের চাহিদার ৮৫ শতাংশেরও বেশি আমদানিনির্ভর। একই অবস্থা বীজের বাজারেও।

শুধু সার বা বীজের ক্ষেত্রেই নয়, বালাইনাশকের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের আমদানিনির্ভরতা উল্লেখযোগ্য। আমার দেশ-এর ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ অ্যাগ্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৯০০ টন কীটনাশক আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার টন ছিল কীটনাশক তৈরির কাঁচামাল বা সক্রিয় উপাদান। বাকি প্রায় ১ লাখ ৯০০ টন এসেছে তৈরি কীটনাশক হিসেবে। উদ্বেগের বিষয় হলো, কৃষিতে ব্যবহৃত কিছু বালাইনাশক আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত।

খাদ্যনিরাপত্তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আমরা যে খাবার খাচ্ছি, তা কতটা নিরাপদ। ২০২৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের এক গবেষণায় ঢাকার বাজার থেকে সংগৃহীত ১০ ধরনের চালের নমুনায় আর্সেনিক, সিসা ও ক্যাডমিয়ামের মতো ভারী ধাতু পাওয়া যায়। বিভিন্ন গবেষণায় দেশের সবজিতে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ এবং দুধে অনুমোদিত সীমার চেয়ে বেশি অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতিও শনাক্ত হয়েছে। সেই সঙ্গে দুধে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতিও পাওয়া যাচ্ছে।

এই ঝুঁকি শুধু ভোক্তাদের নয়, কৃষকরাও সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। স্বাস্থ্যবিদদের মতে, দীর্ঘদিন কীটনাশকের সংস্পর্শে থাকলে ক্যানসার, শ্বাসকষ্ট, ত্বক ও স্নায়ুবিক সমস্যা এবং হরমোনের ভারসাম্যহীনতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। খাদ্যে ভেজাল, ক্ষতিকর রাসায়নিক এবং সার ও কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের সঙ্গে কিডনি, হৃদরোগ ও ক্যানসারের সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়েও স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ২০২৬ সালে কেমিক্যাল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং নিউজ (Chemical & Engineering News)-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জাতীয় ক্যানসার হাসপাতালের ২০২৫ সালের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, ক্যানসার রোগীদের প্রায় ৩৩ দশমিক ৮ শতাংশ কৃষক বা কৃষিশ্রমিক। এই তথ্য থেকে কীটনাশককে সরাসরি ক্যানসারের কারণ বলা না গেলেও এর সম্ভাব্য প্রভাব উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এ বিষয়ে আরো গবেষণা ও নজরদারি প্রয়োজন।

জলবায়ু পরিবর্তনও বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলে লবণাক্ততার বিস্তার কৃষি ও কৃষকের জীবিকার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শুধু সাতক্ষীরা জেলাতেই অন্তত ১ দশমিক ৫৩ লাখ হেক্টর জমি বিভিন্ন মাত্রার লবণাক্ততায় আক্রান্ত। মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের ২০২৪ সালের সমীক্ষায় দেখা যায়, দেশের ১৯টি উপকূলীয় জেলার মধ্যে ১৮টিতে প্রায় ৬৮ শতাংশ আবাদযোগ্য জমি কোনো না কোনো মাত্রায় লবণাক্ততার শিকার। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও লবণাক্ততার প্রভাবে ২০৫০ সালের মধ্যে উপকূলের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় উচ্চফলনশীল ধানের ফলন ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।

খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বায়োটেকনোলজির মাধ্যমে লবণাক্ততা, খরা ও রোগবালাইসহনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবন সম্ভব। স্যাটেলাইট, ড্রোন, সেন্সর ও রিমোট সেন্সিংয়ের সাহায্যে মাটির আর্দ্রতা, লবণাক্ততা ও ফসলের রোগের লক্ষণ শনাক্ত করা যায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) আবহাওয়া, উৎপাদন, বাজারদর, আমদানি ও খাদ্যমজুতের তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য খাদ্যসংকটের আগাম সংকেত দিতে পারে। মাটি, পানি ও খাদ্যের পরীক্ষার ফলের সঙ্গে এসব প্রযুক্তির তথ্য সমন্বয় করে দূষণ শনাক্ত করা এবং নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করাও সহজ হতে পারে।

বাংলাদেশে একটি ফুড সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স সিস্টেম গড়ে তোলা দরকার, যা আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি, রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা কিংবা দেশে উৎপাদন ঘাটতির আশঙ্কা আগেই শনাক্ত করে সরকারকে সতর্ক করবে। এতে বিকল্প উৎস থেকে আমদানি, সরকারি খাদ্যমজুত ও বিতরণ ব্যবস্থাপনায় সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে। পাশাপাশি পরীক্ষাগার, সেন্সর ও ডিজিটাল নজরদারির সমন্বয়ে মাটি, পানি ও খাদ্যের দূষণ শনাক্ত করার ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। স্বচ্ছ বাজারদর, ডিজিটাল বিপণন, সরাসরি ক্রেতার সঙ্গে সংযোগ, সহজশর্তে কৃষিঋণ, ফসলবীমা, সরকারি ক্রয় এবং আধুনিক সংরক্ষণব্যবস্থা কৃষকের ঝুঁকি কমাতে পারে। একই সঙ্গে খাদ্য আমদানির উৎস বৈচিত্র্যময় করা এবং কৌশলগত মজুত শক্তিশালী করা প্রয়োজন, যাতে কোনো একটি দেশের রপ্তানিনীতির পরিবর্তনে বাংলাদেশ অতিরিক্ত চাপে না পড়ে।

তবে প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতাও নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। উন্নত বীজ, সার, কৃষিযন্ত্র ও তথ্যপ্রযুক্তির জন্য অল্প কয়েকটি দেশ বা প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা ভবিষ্যতে আমাদের খাদ্যনিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ ও বেসরকারি খাতকে যুক্ত করে দেশীয় গবেষণা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। করপোরেট বিনিয়োগ বন্ধ করা নয়, বরং দেশীয় বীজ গবেষণা ও উৎপাদন বাড়ানো, স্থানীয় জাত সংরক্ষণ, মান নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষকের বিকল্প নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত লক্ষ্য। একইভাবে কীটনাশক ও আগাছানাশকের নিরাপদ বিকল্প উদ্ভাবন, মান নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষকের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে সময়মতো উপকরণ পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে।

কৃষিতে এগ্রিটেক ও এগ্রি ফিনটেকের সম্ভাবনাও কাজে লাগাতে হবে। প্রযুক্তিনির্ভর এসব উদ্যোগ কৃষকের অর্থায়ন, উৎপাদন ও বাজারসংযোগ সহজ করতে পারে। এই খাতের টেকসই বিকাশের জন্য স্বচ্ছতা, নিয়মিত নিরীক্ষা, বিনিয়োগের ঝুঁকি প্রকাশ এবং প্রতারণা প্রতিরোধে কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। এতে কৃষক ও বিনিয়োগকারীর স্বার্থ সুরক্ষিত হবে এবং প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি অর্থায়নের প্রতি আস্থা বাড়বে।

খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, নাগরিকদেরও। একজন কৃষক সার, সেচ, শ্রম ও ঋণের চাপ নিয়ে খাদ্য উৎপাদন করেন। আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির পরিবর্তন আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না, তবে এর ঝুঁকি আগেই শনাক্ত করে প্রস্তুতি নিতে পারি। খাদ্যনিরাপত্তা মানে কৃষকের ন্যায্য আয় নিশ্চিত করা, মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার পৌঁছানো, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, পরিবেশ রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় সক্ষমতা গড়ে তোলা। আজকের খাদ্যচাহিদা পূরণ করতে গিয়ে আগামী প্রজন্মের খাদ্যের অধিকার যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করাও জরুরি।

লেখক: ম্যানেজার (রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট), সিসমার্ক লিমিটেড

পানির রাজনীতি ও আঞ্চলিক উত্তেজনা

হুথিদের হিসাব-নিকাশের পাঠ

বন্দর চুক্তি নিয়ে কিছু কথা

আমীর খসরুর প্রশ্ন—ইয়ার্কি নাকি

‘ক্ষমতার বদহজম’ এবং আজকের রাজনীতি

আগুনে যেন না পোড়ে বাংলাদেশের স্বপ্ন!

প্রশ্নপত্র ফাঁসের পুরোনো ব্যাধি

বিরোধিতার মাঝে ঐক্যের প্রত্যাশা

অনলাইন চাকরির প্রতারণা ও প্রতিকার

ভারতে হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসের যথাসাধ্য প্রতিবাদ করুন