হোম > মতামত > উপসম্পাদকীয়

স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি : জিয়া থেকে তারেক

মেহেদী হাসান

বাংলাদেশে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে একটি মানচিত্র ও পতাকা পেয়েছিল কিন্তু প্রকৃত স্বাধীনতার দেখা পাননি এদেশের মানুষ। সেজন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়েছে। শুধু অপেক্ষা নয়, বরং স্বাধীনতা যুদ্ধের পরও বারবার মানুষকে রাজপথে নামতে হয়েছে, জীবন দিতে হয়েছে প্রকৃত মুক্তির লক্ষ্যে। প্রকৃত মুক্তি আর স্বাধীনতার জন্য শোষিত-বঞ্চিত মানুষ বারবার রাজপথে জীবন দিলেও প্রতিবারই কিছু শাসক ক্ষমতার জন্য দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিতে দ্বিধা করেনি। শেখ মুজিবুর রহমান থেকে শুরু করে তার মেয়ে শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশে ভারতের যে আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়, তা ছিল একটি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং মানুষের মুক্তির চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলাদেশকে ভারতের আধিপত্য থেকে মুক্ত করে বিশ্বে বাংলাদেশকে একটি প্রকৃত স্বাধীন দেশ ও মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেন। আজ তার ছেলে তারেক রহমানের হাতে বাংলাদেশের শাসনভার। জিয়াউর রহমান দেশ শাসনের দায়িত্বভার গ্রহণের আগে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল আওয়ামী দুঃশাসন ও ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্য। রক্তাক্ত এক অধ্যায়ের মাধ্যমে সেই আওয়ামী দুঃশাসন ও ভারতীয় আধিপত্য থেকে মুক্ত হয় দেশ। একইভাবে তারেক রহমানও ক্ষমতা লাভের আগে দেড় যুগ ধরে বাংলাদেশে চেপে বসেছিল শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মাফিয়া শাসনব্যবস্থা এবং ভারতের সর্বগ্রাসী নিয়ন্ত্রণ। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মাফিয়া শাসনব্যবস্থা ও ভারতীয় আধিপত্যের জাল ছিন্ন করতে আবার রক্তাক্ত পথ পাড়ি দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। আজ তারেক রহমানের সামনে আবার এক ঐতিহাসিক সুযোগ এসেছে পিতার পথ ধরে বাংলাদেশকে নতুন করে বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে প্রতিষ্ঠা করার। প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর হিসেবে মালয়েশিয়া এবং চীনকে বেছে নেওয়ার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মূলত সেই পথে যাত্রার প্রথম কাজটি করলেন। এরপর ঢাকা-বেইজিং যৌথ ইশতেহার ও সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে বাংলাদেশ আবার স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির নতুন ভিত্তি স্থাপন করল।

বর্তমান আধিপত্যকেন্দ্রিক বৈশ্বিক রাজনৈতিক বাস্তবতা, ভূরাজনৈতিক গুরুত্বের কারণে বাংলাদেশের প্রতি পরাশক্তিগুলোর আগ্রহের প্রেক্ষাপটে প্রথম সফর হিসেবে এক যাত্রায় মালয়েশিয়া ও চীন গমন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতি এবং অবস্থানের বিষয়ে একটি কূটনৈতিক বার্তা। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির নতুন আরেক অধ্যায় রচিত হয়েছে। ঢাকা-বেইজিং যে যৌথ ইশতেহার প্রকাশ করা হয়েছে, তা চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর স্বাধীন বাংলাদেশ হিসেবে ভবিষ্যৎ পথচলায় যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে। যৌথ ইশতেহারসহ দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা ও চুক্তির আলোকে সঠিকভাবে সামনে অগ্রসর হতে পারলে তা দুই দেশের সম্পর্ক যেমন নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে, তেমনি বাংলাদেশ আবির্ভূত হবে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক উন্নয়নের অন্যতম অংশীদার ও কেন্দ্র হিসেবে। যৌথ ইশতেহারে ঢাকা-বেইজিং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, তিস্তা পরিকল্পনায় চীনের অংশগ্রহণ, চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ প্রকল্প, বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডোর এবং এক চীননীতির প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় সমর্থনের মাধ্যমে ঢাকা স্বাধীন ও সাহসী পররাষ্ট্রনীতির নতুন যুগের সূচনা করল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের পাশে থাকার যে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন, তা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।

চব্বিশের জুলাই বিপ্লবে শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের বিরোধিতার ক্ষেত্রে ভারতের সব মুখোশ খুলে পড়ে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটিয়ে শেখ হাসিনাকে আবার ফিরিয়ে আনার জন্য ভারত প্রকাশ্যে মরিয়া হয়ে মাঠে নামে। তবে তাদের সে চেষ্টা ব্যর্থ হলেও এখনো বাংলাদেশের বিরুদ্ধে থেমে নেই ভারতের গভীর ষড়যন্ত্র। বাংলাদেশকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া, চাপে রাখা ও অস্থিরতা তৈরির জন্য একের পর এক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে নয়াদিল্লি। পুশইন তার সর্বশেষ উদাহরণ। বাংলাদেশের বুকে দাঁড়িয়ে ভারতের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশকে গ্রাস করে অখণ্ড ভারত প্রতিষ্ঠার ঔদ্ধত্য পর্যন্ত প্রকাশ করেছেন। ভারতের লেলিয়ে দেওয়া লোকজন প্রকাশ্যে করে চলছে দেশদ্রোহীমূলক কর্মকাণ্ড।

চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর ভারতের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত হয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকার স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেন। নয়াদিল্লি তা মেনে নিতে পারেনি। ড. ইউনূস সরকারের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির অংশ হিসেবে চীন, পাকিস্তান, তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ঘটনা একের পর এক বজ্রপাতের মতো আঘাত করে নয়াদিল্লির বুকে। শুধু তাই নয়, চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক উন্নয়নের পদক্ষেপে সুদূর ওয়াশিংটন পর্যন্ত নড়েচড়ে বসে। চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক উন্নয়নের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খোলে ঢাকার ওয়াশিংটন দূতাবাস। এ বিষয়ে তীব্র চাপ সৃষ্টি করা হয় ঢাকার ওপর। তবে এ ক্ষেত্রে শক্ত অবস্থান নিয়ে ঢাকার পাশে দাঁড়ায় বেইজিং। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেয় ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কের ক্ষেত্রে তৃতীয় কোনো পক্ষের হস্তক্ষেপ তারা মেনে নেবে না। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময়ও বেইজিং স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বাংলাদেশে যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ তারা প্রত্যাখ্যান করবে। চীন বাংলাদেশের পাশ থেকে সরে যাবে না।

নতুন নির্বাচিত সরকার ড. ইউনূসের রেখে যাওয়া স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ধারা কতটা বজায় রাখতে পারবে, তা নিয়ে নানা কারণে সংশয় দেখা দেয় । বিশেষ করে, চীন থেকে শক্তিশালী যুদ্ধবিমান ক্রয় ও বাণিজ্য বৃদ্ধি, চীনের মাধ্যমে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন বিষয়ে ইউনূস সরকার যে উদ্যোগ নেয়, তা বাস্তবে পরিণত করার বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্রের পাশাপাশি প্রকাশ্য চাপ সৃষ্টি করা হয় বিভিন্ন মহল থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লেখা এক চিঠিতে বাংলাদেশকে তার দেশ থেকে সমরাস্ত্রসহ অন্যান্য পণ্য আমদানি বৃদ্ধির জন্য সরাসরি চাপ সৃষ্টি করেন। অন্যদিকে ভারত তার চিকেনস নেক করিডোরের মতো কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল স্থানের কাছে চীনের উপস্থিতিকে তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করে এবং তিস্তা প্রকল্পে চীনের অংশগ্রহণের বিরোধিতা অব্যাহত রাখে।

এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে ঢাকা-বেইজিং যেসব সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং যৌথ ইশতেহারে দ্ব্যর্থহীনভাবে যেসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, তা নয়াদিল্লির মাথা ঘুরিয়ে দিয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। বিশেষ করে, মোংলায় ভারতের জন্য বরাদ্দ করা অঞ্চলকে বাতিল করে সেখানে চীনকে বিশেষ অর্থনৈতিক জোন গঠনসহ চট্টগ্রামেও চীনকে একই সুবিধা দেওয়ার ঘটনায় ভারতের বিভিন্ন মহলে তোলপাড় চলছে।

অনুগত রেখে শোষণ করা ও শুধু নিজ স্বার্থ আদায় করা ছাড়া ভারত কোনো দিন বাংলাদেশের মঙ্গল চায়নি, ভবিষ্যতে চাইবে তারও কোনো লক্ষণ নেই। দেড় দশক ধরে ওয়াশিংটনের সমর্থনে নয়াদিল্লি বাংলাদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মাফিয়া শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিল। চব্বিশের জুলাই বিপ্লব হয়েছিল শেখ হাসিনার দুঃশাসন ও ভারতীয় আধিপত্যের অবসানের লক্ষ্যে। কোনো অবস্থাতেই এদেশের মানুষ আর ভারতীয় কোনো আধিপত্য মেনে নেবে না। তাই কারো কোনো রক্তচক্ষুর তোয়াক্কা না করে বাংলাদেশকে তার স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও নিজ স্বার্থ রক্ষা করে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ধারা বজায় রাখতে হবে।

মনে রাখতে হবে, ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর বাংলাদেশ ভারতীয় আধিপত্য থেকে মুক্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে চীন বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এরপর থেকে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের যে সামরিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক তার ভিত্তি রচিত হয় ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমানের চীন সফরের মাধ্যমে। চীন বর্তমানে এমন একটি দেশ, যাদের বর্তমান বিশ্বের সুপার পাওয়ার যুক্তরাষ্ট্র তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মনে করে। চীনের উত্থান মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সব চেষ্টা একের পর এক ব্যর্থ করে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে চীন। সর্বশেষ চীনকে ঘায়েল করতে ওয়াশিংটনের শুল্কযুদ্ধের বিরুদ্ধে বেইজিং যেভাবে পাল্টা আঘাত করেছে, তাতে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে হোয়াইট হাউস। প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের সব শাখায় চীন আজ যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ নয়; বরং সমরাস্ত্র প্রযুক্তির অনেক ক্ষেত্রে চীন আজ ছাড়িয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্রকে। বিশেষ করে, হাইপারসনিক মিসাইল প্রযুক্তি। রাশিয়ার পর চীন অভেদ্য হাইপারসনিক মিসাইলের অধিকারী। অর্থনৈতিক, সামরিক, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, বিশ্ববাণিজ্যসহ সব ক্ষেত্রে চীনের রাতারাতি উত্থান আজ পুরো বিশ্বের অন্যতম আলোচিত একটি বিষয়।

ভূকৌশলগত অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের সামনে যে সম্ভাবনা ও বিপদ, এর পরিপ্রেক্ষিতে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা, বাণিজ্যিক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।

জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালে দিশাহীন জাতিকে চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে দেশবাসীকে পথের দিশা দিয়েছিলেন। সেই জিয়াউর রহমানই আবার ১৯৭৫ সালের পর সামনে এগিয়ে এসেছিলেন ভারতের আধিপত্য থেকে বাংলাদেশের প্রকৃত স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব উদ্ধারে।

ড. ইউনূসের দেড় বছর ছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি মানে জাতীয়তাবাদী বিএনপির শাসনামল। দীর্ঘ আওয়ামী দুঃশাসন শেষে আবার সেই জাতীয়তাবাদী শক্তির হাতে বাংলাদেশের শাসনভার। আবার তাই বিএনপির সামনে সুযোগ এসেছে বাংলাদেশকে একটি আত্মমর্যাদাসম্পন্ন স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ হিসেবে বিশ্বদরবারে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড় করানোর এবং অমিত সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর। ঐতিহাসিক এ দায়িত্ব পালন থেকে পিছু হটার সুযোগ নেই । চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে হবে। এ ক্ষেত্রে তাইওয়ান বিষয়ে বাংলাদেশ এক চীননীতির প্রতি যে দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করেছে, তাকে সাহসী না বলে উপায় নেই।

চীনের পক্ষ থেকে করিডোরবিষয়ক যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা গেলে পূর্বদিগন্তে বাংলাদেশের জন্য নতুন সূর্যোদয় হবে। খুলে যাবে সম্ভাবনা ও সমৃদ্ধির নতুন এক দুয়ার। ভারতের ওপর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক-নির্ভরতা কমাতে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ২০০১ সালে চারদলীয় সরকারের সময় ‘লুক ইস্ট’ পলিসি গ্রহণ করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য বৃদ্ধি। এই লক্ষ্যে মিয়ানমারে যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ বিষয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার ২০০৩ সালে চুক্তি হয় এবং কার্যক্রমও শুরু হয়। শুরু হয় বাংলাদেশ-মিয়ানমার ফ্রেন্ডশিপ রুট চালুর কার্যক্রম। অভিযোগ রয়েছে, ভারত তার নিজ স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হওয়ায় তখন মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে বাংলাদেশের লুক ইস্ট পলিসি বাস্তবায়ন থেকে সরে আসার । ফলে ওখানেই থেমে যায় সম্ভাবনাময় সেই উদ্যোগ। এখন চীনের মাধ্যমে যেহেতু নতুন এই করিডোর প্রস্তাব এসেছে, তাই এ ক্ষেত্রে মিয়ানমারের ওপর অন্য কোনো আঞ্চলিক শক্তির চাপ প্রয়োগ বা মিয়ানমারের এ থেকে সরে আসার ‍সুযোগ নেই। বস্তুত চীন আজ যে করিডোরের প্রস্তাব দিয়েছে, তা আরো বৃহত্তর পরিসরে বাংলাদেশই শুরু করছিল ২০০১ সালে। চীনের প্রস্তাবিত এ করিডোরের সঙ্গে বাংলাদেশের লুক ইস্টনীতির আওতায় দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে কীভাবে যুক্ত করা যায়, তা নিয়ে কাজ করা উচিত।

চীনের আমদানি-রপ্তানির ৯০ ভাগ হয়ে থাকে সমুদ্রপথে। আর তাদের সমুদ্রবাণিজ্যের ৮০ ভাগ হয়ে থাকে অতিশয় সরু মালাক্কা প্রণালির মাধ্যমে। মালাক্কা প্রণালির প্রবেশমুখে ভারতের আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ। ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য যুদ্ধে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বন্ধ করে দিতে পারে এ প্রণালি। চীন তাই পাকিস্তানের গোয়াদর বন্দরের মাধ্যমে আরব সাগরে প্রবেশের ব্যবস্থা করেছে। মালাক্কা ডিলেমা সংকট কাটাতে চীন-মিয়ানমার, মধ্য এশিয়া ও রাশিয়ার ওপর দিয়ে বিভিন্ন বিকল্প পাইপলাইন ও পথ তৈরি করছে। বাংলাদেশের সঙ্গে স্থলপথে যুক্ত হতে পারলে চীন সরাসরি বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশিতে প্রবেশ করতে পারবে। তাই প্রস্তাবিত এ করিডোরে রয়েছে চীনের অর্থনৈতিক, ভূরাজনৈতিক, কৌশলগতসহ অনেক বিষয়। প্রস্তবিত করিডোরে ঢাকা অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে চীনের বহুমুখী স্বার্থের বিপরীতে বাংলাদেশকেও সমান স্বার্থ আদায়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

লেখক : সহকারী সম্পাদক, আমার দেশ

পাকিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সহযোগিতার সম্ভাবনা

তদবির সংস্কৃতি ও অধিকারবঞ্চিত মানুষ

প্রতিরোধ আন্দোলন দমনে ফিলিস্তিনি অভিজাতদের ভূমিকা

বিপ্লব অস্বীকার করলে ক্ষমতার ন্যায্যতা থাকবে না

বিরোধী রাজনীতিতে জামায়াতের নতুন সমীকরণ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ থেকে বাংলাদেশের শিক্ষা

দুবাইয়ের খাঁচায় এক ‘ফ্রাংকেনস্টাইন’ এবং একটি চিঠির হাহাকার

রিজার্ভ চুরি : আর কত সময়ক্ষেপণ

স্মৃতির পাতায় শিল্পের মহিরুহ মুস্তাফা মনোয়ার

ডিজিটাল পর্দার ফাঁদে শিশু : সংকট ও করণীয়