হোম > মতামত > উপসম্পাদকীয়

মুজিববর্ষ বনাম নজরুলবর্ষ

মিনার রশীদ

যিশু খ্রিষ্টের জন্মদিন ও জন্মসালকে ঘিরে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার চালু করা হয়েছে। মুসলমানরা রাসুল (সা.)-এর হিজরতের বছরকে ভিত্তি করে ইসলামিক ক্যালেন্ডার শুরু করেছে! আওয়ামী লীগও তাদের নিজেদের নবীকে নিয়ে মুজিববর্ষ ২০২০ ও মুজিব পঞ্জিকা শুরু করে! এ থেকে সহজেই মালুম করা যায় যে আওয়ামী লীগ তাদের নেতাকে কোন জায়গায় উঠিয়েছিল!

প্রস্তাবিত বিশেষ পঞ্জিকার ১২টি মাসের নামকরণও শেষ করা হয়েছিল—স্বাধীনতা, শপথ, বেতারযুদ্ধ, যুদ্ধ, শোক, কৌশলযুদ্ধ, আকাশযুদ্ধ, জেলহত্যা, বিজয়, ফিরে আসা, নবযাত্রা ও ভাষা। এই পঞ্জিকায় স্বাধীনতা মাস শুরু হয়েছিল ১৭ মার্চ থেকে । এটি প্রচলিত বাংলা সনের পরিবর্তে স্থায়ীভাবে চালু করা ক্যালেন্ডার ছিল না; মুজিববর্ষ উপলক্ষে বিশেষভাবে প্রস্তাবিত একটি পঞ্জিকা ছিল।

কিন্তু আওয়ামী উচ্ছ্বাস ও আওয়ামী ভাবনা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল মহল জানেন, কোভিড-১৯ এসে একটু ধাক্কা না দিলে মুজিববর্ষ নিয়ে কী করতÑসেসব নিয়ে ভাবলেও গা শিউরে ওঠে! এতদিনে সম্ভবত বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ়-শ্রাবণ-ভাদ্র-আশ্বিন-কার্তিক ইত্যাদি ভুলে স্বাধীনতা-শপথ-বেতারযুদ্ধ-যুদ্ধ-শোক-কৌশলযুদ্ধ-আকাশযুদ্ধ’ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়তাম। জাফর ইকবাল বলতেন, যে রাজাকারের বাচ্চারা ‘স্বাধীনতা, শপথ, বেতারযুদ্ধের’ পরিবর্তে ‘বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়’ বলবে, তাদের গায়ে আমি হড়হড় করে বমি করে দেব।

সে এক এলাহি কাণ্ড শুরু হয়ে গেল! আকাশ (বিমান) থেকে মুজিবের পবিত্র আত্মাকে ধরাধামে নামানো হলো! এয়ারফোর্সের কয়েকজন অফিসার মুজিবের সেই স্পিরিটকে স্যালুট ঠুকে বসলেন! শেখ হাসিনার রেলমন্ত্রী ঘোষণা করলেন যে দেশের প্রতিটি রেলস্টেশনে একটা করে মুজিবের মূর্তি বসানো হবে। ৫৬ হাজার বর্গমাইলের এই দেশটিতে প্রতি ১০০ মিটার দূরত্বে একটা মূর্তি বসানোর সিদ্ধান্তও বোধহয় তাড়াতাড়িই চলে আসত! এত বড় অনুষ্ঠান আমাদের বিশেষ কুটুম্বকে ছাড়া কীভাবে করি? প্রথমে ১৭ মার্চ ২০২০, শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মোদির ঢাকায় আসার কথা ছিল। মনে হচ্ছিল যে পুরো বছরটাই জামাই-শ্বশুর বাড়িতেই অবস্থান করবেন।

এসব দেখে এ দেশবাসী প্রমাদ গুনলেন। আকাশের দিকে তাকিয়ে সাহায্য প্রার্থনা করলেন! সাহায্য আসল সম্ভবত কোভিড-১৯-এর সুরতে! তাতে সবকিছু থেমে গেল! কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে ১৭ মার্চের বড় জনসমাবেশের অনুষ্ঠান স্থগিত/সীমিত করা হয় এবং মোদির সেই সফরও স্থগিত হয়। পরে তিনি ২৬-২৭ মার্চ ২০২১ বাংলাদেশ সফর করেন। এই সফরটি ছিল মুজিববর্ষ, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর—এই তিনটি উপলক্ষ কেন্দ্র করে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু সংসদকে জানিয়েছেন, মুজিববর্ষ পালনে খরচ করা হয়েছে মাত্র ৯৮২ কোটি টাকা! ওই সময়ে কোভিড না এলে এই খরচ কমপক্ষে আরো পাঁচ গুণ বেশি হয়ে পড়ত! কোভিড আমাদের খরচ বাঁচিয়েছে কমপক্ষে ৪ বা ৫ হাজার কোটি টাকা। এই খরচ দেখে যারাই উশখুশ করতেনÑতাদেরই রাজাকারের শাবক বলে পাকিস্তান পাঠানোর ব্যবস্থা করা হতো।

কাজেই শুধু ইহকাল নহে, আমাদের পরকালকেও অনেকটা সুরক্ষা দিয়েছে এই কোভিড-১৯। তা না হলে দেশটি হয়তো সর্বোচ্চসংখ্যক মূর্তির দেশ হয়ে পড়ত। চলনবলনহীন এই ক্ষুদ্র ভাইরাস বোনাস হিসেবে নিয়ে গেছে প্রচণ্ড শক্তিশালী নাসিমকে, যে মাটির চৌদ্দ ফুট নিচ থেকে শত্রু ধরার হুমকি দিয়েছিল, বোনাসের এই তালিকায় আরো ছিল এক চশমখোর অ্যাটর্নি জেনারেল, যে একের পর এক জুডিশিয়াল মার্ডার করে গেছে এবং পিস্তল সেলিম নামক আইন সচিব, যিনি তারেক রহমানকে বেকসুর খালাস দেওয়ায় বিচারক মোতাহার হোসেনকে দেশছাড়া করেছিলেন। কাজেই পরম করুণাময় কোথায় যে আমাদের জন্য কল্যাণ রেখেছেন, আমরা বান্দারা তা উপলব্ধি করতে পারি না।

এর বিপরীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার ক্ষমতায় বসার বছরটিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য নজরুলবর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছেন! মুজিববর্ষের ৯৮২ কোটি টাকা থেকে জাতি কোনো বেনিফিট না পেলেও নজরুলবর্ষ থেকে অনেক কিছু জাতির মানসে যোগ হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০২৬ সালের মে থেকে ২০২৭ সালের মে পর্যন্ত সময়কে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। নিঃসন্দেহে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—এই আয়োজন কি শেষ পর্যন্ত কবির জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পালন, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফুল দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে?

নজরুলকে সত্যিকার অর্থে স্মরণ করতে হলে তার জীবন, সাহিত্য, সংগীত, সাংবাদিকতা, মানবতাবাদ, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। তাই ‘নজরুলবর্ষ’কে একটি স্থায়ী জাতীয় কর্মসূচির সূচনাবিন্দু করা প্রয়োজন।

নজরুলের জীবন ও কর্মের ওপর একটি প্রামাণ্য পূর্ণাঙ্গ জীবনী প্রণয়ন করা দরকার। একই সঙ্গে তার কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, সাংবাদিকতা, চিঠিপত্র ও অন্যান্য রচনা নিয়ে একটি জাতীয় ডিজিটাল আর্কাইভ গড়ে তোলা জরুরি।

নজরুলবর্ষ অথচ নজরুলকে নিয়ে কোনো আলোচনা নেই বা সেই আলোচনায় কোনো উত্তাপ নেই! এসবের মধ্যেও ধন্যবাদ জানাই জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনিকে! কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীর এক অনুষ্ঠানে তিনি বলে ফেললেন, আমাদের নজরুল তারেক রহমান! ফলে ওনার এই বক্তব্য ভাইরাল হওয়ায় নজরুলও আলোচনায় চলে এলেন! অনেকেই তার এই কথায় আগের সংসদে মমতাজ সিন্ড্রোম দেখতে পেলেন। যে মমতাজ সংসদে গান গেয়ে হাসিনার মনস্তুষ্টি করতেন!

এই তুলনাটি অনেকের কাছে বেখাপ্পা লেগেছে! কারণ কবি নজরুল ইসলাম একজন কবি এবং তারেক রহমান একজন রাজনীতিবিদ এবং বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমান কখনো কবিতা লেখা বা অন্য কোনো সাহিত্যচর্চার চেষ্টা করেছেন কি না, জানা নেই।

তবে নজরুল ইসলাম একবার ১৯২৬ সালের দিকে ঢাকা বিভাগের মুসলমান কেন্দ্র থেকে ভারতীয় ব্যবস্থাপক সভার সদস্য হতে ইলেকশনে দাঁড়িয়েছিলেন! তখন ঢাকা বিভাগ থেকে কেন্দ্রীয় আইন সভায় মুসলমানদের জন্য দুটি আসন সংরক্ষিত ছিল। ভোটদাতাদের মোট সংখ্যা ছিল ১৮ হাজার ১১৬ জন। প্রত্যেক ভোটার দুটি করে ভোট দিতে পারতেন। প্রার্থী ছিলেন ৫ জন! কিন্তু কেন্দ্রীয় আইন সভায় কবিকে দাঁড় করিয়ে স্বরাজদলের পাণ্ডারা পিছুটান দেন, প্রতিশ্রুত টাকাপয়সা কবিকে দেননি। নির্বাচনে কবি শুধু বিফল হলেন নাÑতার জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত হয়ে গেল!

কাজেই তুলনা নয়Ñতবে এক জায়গায় একটা সম্পর্ক টানা যায়। কবি তার কবিতায় সমাজকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন বুনে গেছেন! অন্যজনের হাতে এসেছে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ। তাদের মধ্যে এই আত্মিক টানটি বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অনুভূত হয়েছে!

কবি তার এক গজলে গেয়েছিলেন, মসজিদেরই পাশে আমায় কবর দিও ভাই। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কবির ইচ্ছার প্রতি সম্মান দেখিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদের পাশে কবিকে সমাহিত করেছিলেন! এটি বললে অত্যুক্তি হবে না যে কবির প্রতি এই আত্মিক টানটি কিছুটা বাবা-মায়ের কাছ থেকেই ইনহেরিট করেছেন আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান!

জনগণের মধ্যে যারা কবি নজরুলকে ভালোবাসেন, তারা শহীদ জিয়া এবং খালেদা জিয়াকেও ভালোবাসেন। আবার যারা কবি নজরুলকে ঘৃণা বা হেয় করেন, তারা শহীদ জিয়া এবং খালেদা জিয়াকেও ঘৃণা করেন।

কবি তার সামগ্রিক জীবন দর্শনকে নিচের কয়েকটি লাইনে ব্যক্ত করে গেছেনÑ‘মহাবিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত/আমি সেই দিন হব শান্ত/যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দনরোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না /অত্যাচারির খড়গ কৃপাণ ভীম রণভূমে রনিবে না/মহাবিদ্রোহী রণ ক্লান্ত/আমি সেই দিন হব শান্ত।’

নজরুল হয়তো জানতেন যে তিনি যা বলেন তা বাস্তবায়নের সুযোগ তার হাতে নেই। কিন্তু তার এই সাহিত্য ভবিষ্যতে অনেক শেরেবাংলা, ভাসানী, জিয়া ও খালেদা তৈরি করবে। অসংখ্য হাদিও তৈরি হবে। চিফ হুইপের কথামতো তারেক রহমান নজরুল হতে পারবেন না। কিন্তু নজরুলের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ তার সামনে এসেছে! নজরুলের আরাধ্য নেতাটি তিনিও হতে পারেন!

কবির প্রতি অনুরাগী কেউ চারপাশে উৎপীড়িতের-ক্রন্দনরোল দেখে ঠিক থাকতে পারবে না। এ কারণেই নজরুলকে ধারণ করতে হবে! প্রধানমন্ত্রীর নজরুলবর্ষ ঘোষণার তাৎপর্যটি এখানেই নিহিত! নজরুলকে আমাদের আসলেই দরকার! খুব দরকার!

এ রকম একটা তাগিদ থেকেই তিনি কবির জন্মজয়ন্তী জাতীয়ভাবে পালন করতে নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালে ছুটে গিয়েছেন! সেখানে গিয়ে কবির ১২৭তম থেকে ১২৮তম জন্মবার্ষিকীর মধ্যবর্তী সময়টিকে নজরুলবর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। কবি নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালকে নজরুল সিটি হিসেবে তৈরি করার একটা পরিকল্পনার কথাও প্রকাশ করেছেন! ঢাকাকে রক্ষা করতে ঢাকার আশপাশে এ রকম কিছু স্যাটেলাইট সিটির ধারণাকেও অনেক পরিবেশবিদ ও নগর-পরিকল্পনাবিদ অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। লন্ডনের পাশে কেমব্রিজ সিটি এবং অক্সফোর্ড সিটির আদলে গড়ে এই জ্ঞানের বা শিক্ষার শহর ধারণাটিও কবি নজরুলের স্বপ্নের সেই সমাজ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে। কারণ পেশি শক্তিনির্ভর সমাজটিকে বদলিয়ে যতক্ষণ পর্যন্ত না আমরা জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারব, ততক্ষণ নজরুলের স্বপ্নের ওই শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে না। তজ্জন্যে বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণের পাশাপাশি বিবেকের জাগরণটিও জরুরি।

‘উৎপীড়িতের ক্রন্দনরোল’ তখনই থামানো সম্ভব হবে, যখন সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে! নজরুলের ‘অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণভূমে রণিবে না’ পঙক্তিটিকে বর্তমান সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে দেখলে ‘অত্যাচারীর খড়গ-কৃপাণ’ বলতে শুধু অস্ত্র নয়, বরং মানুষের ওপর অন্যায় ক্ষমতা প্রয়োগের সব ধরনের হাতিয়ারকে বোঝানো যায়। যেমন—সহিংসতা, ভয়ভীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, ঘুস, বৈষম্য, শোষণ, মিথ্যা প্রচার, ভিন্নমত দমন এবং মানুষের ন্যায্য অধিকার ও স্বাধীনতার ওপর অন্যায় হস্তক্ষেপ।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ব্যবস্থাও যখন ন্যায় ও আইনের সীমা অতিক্রম করে দুর্বল মানুষের ওপর অন্যায় চাপ সৃষ্টি করে, তখন সেগুলোও অত্যাচারের হাতিয়ারে পরিণত হতে পারে। একইভাবে সমাজে প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অর্থ, সামাজিক মর্যাদা, রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা ভয় দেখানোর ক্ষমতাও ‘খড়গ-কৃপাণ’-এর প্রতীক হতে পারে। কাজেই নজরুলচর্চা আমাদের জীবনে কতটুকু প্রাসঙ্গিক তা সহজেই অনুমেয়!

কিন্তু দেড় যুগ ধরে চলা ফ্যাসিবাদ সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে যে দুর্নীতি ও অনিয়মের বীজ বপন করে গেছে, তা রাতারাতি দূর করা সম্ভব হবে না। যে সরিষা দিয়ে ভূত তাড়াবেন বলে ভাবছেনÑদেখা যাচ্ছে, সেই সরিষার ভেতরেই ভূত ঢুকে রয়েছে! তারেক রহমানের সফলতা নির্ভর করবে কত তাড়াতাড়ি এসব ভূতযুক্ত সরিষা তিনি শনাক্ত করতে পারেন, তার ওপর!

নজরুলের কবিতা, গান, গল্প ও উপন্যাসÑএসবের সঙ্গে আমাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হলেও তার প্রবন্ধ সাহিত্যের একটা বিশাল ক্ষেত্র সুকৌশলে জনগণের দৃষ্টিসীমার বাইরে রেখে দেওয়া হয়! অথচ তার সেসব প্রবন্ধ সাহিত্যে এমন কিছু বিষয় রয়েছে, যা নজরুল সম্পর্কে আমাদের প্রচলিত ধারণায় ধাক্কা দেয়। একটা কায়েমি স্বার্থের বয়ানমতো অসাম্প্রদায়িক নজরুলকে আমাদের সামনে তুলে ধরতে গিয়ে এক প্রতিবাদী নজরুলকে আমাদের কাছ থেকে আড়াল করে রাখা হয়।

নিজের সম্প্রদায়ের প্রতি কৃত অবিচার, অন্যায় দেখেও চুপ করে থাকা অসাম্প্রদায়িকতার পরিচায়ক নয়! নজরুলের অনেক লেখায়, প্রবন্ধ সাহিত্যে এবং ভাষণে সেসব ফুটে উঠেছে! আমরা কেন যেন এগুলো লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করি! নিজের সম্প্রদায় এবং নিজের ধর্ম সম্পর্কে স্পষ্ট অবস্থানের কারণে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে পাকিস্তানের চর বলা হয়েছে। সব আলামত দেখে খালেদা জিয়া সতর্ক করেছিলেন, ফেনী পর্যন্ত ইন্ডিয়া হয়ে পড়বে এবং মসজিদে উলুধ্বনি শোনা যাবে। এসব কারণে খালেদা জিয়াকেও জামায়াতের মহিলা আমির খেতাব দেওয়া হয়েছিল। জুলাই বিপ্লব সংঘটিত না হলে খালেদা জিয়ার এই ভবিষ্যদ্বাণীটুকু ফলে যেত, তাতে কোনো সন্দেহ নেই!

‘বড়র পীরিতি বালির বাঁধ’ নামক প্রবন্ধে রবিঠাকুরকে ইঙ্গিত করে তিনি লিখেছিলেনÑ

“কবির চরণে ভক্তের সশ্রদ্ধ নিবেদন, কবি তো নিজেও টুপি-পায়জামা পরেন, অথচ, আমরা পরলেই তাঁর এত আক্রোশের কারণ হয়ে উঠি কেন, বুঝতে পারি নে।... আমি একটা জিনিস কিছুদিন থেকে লক্ষ করে আসছি। সম্ভ্রান্ত হিন্দু বংশের অনেকেই পায়জামা-শেরওয়ানি-টুপি ব্যবহার করেন, এমনকি লুঙ্গিও বাদ যায় না। তাতে তাদের কেউ বিদ্রুপ করেন না, তাদের ড্রেসের নাম হয়ে যায় তখন ‘ওরিয়েন্টাল’! কিন্তু ওইগুলোই মুসলমানরা পরলে তারা হয়ে যান ‘মিয়া সাহেব’। মৌলানা সাহেব আর নারদ মুনির দাড়ির প্রতিযোগিতা হলে কে যে হারবেন বলা মুশকিল; তবু ও নিয়ে ঠাট্টা -বিদ্রুপের আর অন্ত নেই। আমি তো টুপি-পায়জামা-শেরওয়ানি-দাড়িকে বর্জন করে চলেছি শুধু ওই ‘মিয়া সাহেব’ বিদ্রুপের ভয়েইÑতবু নিস্তার নেই।”

কবি কাজী নজরুল একটু বোহেমিয়ান জীবন শেষে যখন একটু পরিণত বয়সে এসব কথা বলতে এবং লিখতে শুরু করলেনÑতখনই তাকে চিরদিনের জন্য স্তব্ধ করে দেওয়া হলো! তার কথিত দুরারোগ্য রোগটি কেন হয়েছিল কিংবা যথাসময়ে কেন চিকিৎসা করা হয়নিÑসেটিও একটি বড় জিজ্ঞাসা হয়ে থাকবে। তখন কবির বয়স মাত্র তেতাল্লিশ। একইভাবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে যখন সরিয়ে দেওয়া হয়, তখন তারও বয়স হয়েছিল মাত্র পঁয়তাল্লিশ। ধারণা করা হয়, একই শক্তি তিলে তিলে শেষ করেছেন খালেদা জিয়াকে!

কাজেই এখনই আমাদের শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করা দরকার। নজরুলের জীবন ও সাহিত্য আমাদের এ ব্যাপারে সহায়তা করতে পারে।

নবীগঞ্জে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

খেলাপি ঋণ কমাতে কার্যকর হতে পারে আইসিডিআইআর

কেলেঙ্কারির বিষে নীল বিপিএল!

অনিয়মে বন্ধ ফ্লাইং একাডেমি, থমকে পাইলট প্রশিক্ষণ

মক্কা চুক্তি, ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা ও নতুন উচ্চতার সামনে বাংলাদেশ

বেফাকের সিলেবাসে যুক্ত হচ্ছে শাপলা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতের হস্তক্ষেপ

টিভির পর্দায় নারী এশিয়ান গেমসের সঙ্গে থাকছে ইউএস ওপেনের রোমাঞ্চ

ফেনীতে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, সাংবাদিকসহ আহত অর্ধশতাধিক

ভিসা জটিলতার মধ্যে হকি দলের চীন যাত্রা