হোম > মতামত > উপসম্পাদকীয়

মিডিয়ার নতুন মিত্র নিয়ে বিপাকে বিএনপি

মন্তব্য প্রতিবেদন

মাহমুদুর রহমান

মাহমুদুর রহমান

মিডিয়া জগতে বিএনপির অভিজ্ঞতা কোনোকালেই বিশেষ সুখকর ছিল না। এর একটা কারণ অবশ্যই বাংলাদেশের মিডিয়ার চরিত্রগত অন্ধ আওয়ামী এবং বামপ্রীতি। বিএনপির অভ্যুদয়ের পর থেকেই বাংলাদেশের তাবৎ ভারতঘেঁষা সংবাদমাধ্যমের অধিকাংশ রথী-মহারথী দলটিকে ক্যান্টনমেন্টে সৃষ্ট এবং ইসলামপন্থি অভিহিত করে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছেন। শহীদ জিয়ার নিখাদ দেশপ্রেম, প্রবাদপ্রতিম সততা এবং বিপুল জনপ্রিয়তার স্বীকৃতি এই গোষ্ঠীর কাছ থেকে কখনো মেলেনি।

বেগম খালেদা জিয়ার উভয় দফার প্রধানমন্ত্রিত্বের কালেও (১৯৯১-১৯৯৬ এবং ২০০১-২০০৬) তাকে অব্যাহতভাবে সমজাতের মিডিয়ার ভয়ানক বৈরী আচরণ মোকাবিলা করতে হয়েছে। বিএনপির সব সরকারের আমলেই তাদের বিরুদ্ধে মিডিয়ার বৃহৎ অংশের ধারাবাহিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণের বাস্তবতা মেনে নিয়েও দলটির মিডিয়া সংক্রান্ত দুর্বলতা নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপিত হতে পারে।

দেশের অন্যতম প্রধান দলটির আদৌ কি কখনো কোনো সুসংলগ্ন, রাজনৈতিক মতাদর্শভিত্তিক মিডিয়া পলিসি ছিল? একটি পুরোনো ঘটনার কথা উল্লেখ করলে আমার প্রশ্নের অর্থ বুঝতে পাঠকের খানিকটা সুবিধা হতে পারে।

২০০৪ সালের কথা। আমি তখন বিএনপিপন্থি প্রকৌশলীদের সংগঠন এ্যাব (Association of Engineers, Bangladesh-AEB)-এর কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলাম। সেই সংগঠনের এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির দাওয়াত দিতে আমরা কয়েকজন প্রকৌশলী এক সন্ধ্যায় বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মান্নান ভুঁইয়ার মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে গিয়ে হাজির হয়েছিলাম। যতদূর মনে পড়ে, সেদিনকার প্রকৌশলীদের দলে এ্যাবের বর্তমান প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী শাহরীন ইসলাম তুহিন এবং রাজউকের বর্তমান চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজুও উপস্থিত ছিলেন। মহাসচিবের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার একপর্যায়ে আইইবির (Institution of Engineers, Bangladesh-IEB) বেশ জনপ্রিয় নেতা প্রকৌশলী মঞ্জুর মোর্শেদ খানিকটা ক্ষোভের সুরে মন্তব্য করে বসলেন, ‘স্যার, বিএনপির পক্ষে কোনো সংবাদপত্র নেই এবং এই গুরুতর সমস্যা সমাধানের জন্য দল তেমন কিছু করছেও না।’ মরহুম মান্নান ভুঁইয়ার সেদিনকার জবাবে আমরা সবাই যারপরনাই বিস্মিত হয়েছিলাম। তিনি বেশ রাগত স্বরেই বললেন, ‘সরকার ভালো কাজ করলে মিডিয়ার প্রচারের কোনো প্রয়োজন নেই। জনগণ সব অপপ্রচার উপেক্ষা করেই বিএনপিকে সমর্থন করবে।’ বাম রাজনীতি থেকে বিএনপিতে আসা মান্নান ভুঁইয়ার কাছ থেকে এমন অরাজনৈতিক বক্তব্য একেবারেই প্রত্যাশিত ছিল না।

সময়মতো মিডিয়ার অপপ্রচারের বস্তুনিষ্ঠ ও কার্যকর উত্তর না দেওয়ার কাফফারা বিএনপিকে সেই এক-এগারোর সময় থেকে ফ্যাসিবাদী শাসন পর্যন্ত দীর্ঘ সতেরো বছর ধরে দিতে হয়েছে। প্রচারণাসংক্রান্ত দুর্বলতা থেকে দলটি কখনোই পরিত্রাণ পায়নি। এক-এগারোর চরম দুঃসময়ে বিএনপি এবং জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে একচেটিয়া অপপ্রচারের জবাব দিতে দলীয় সংগঠনের বাইরে থেকে ছায়া সামরিক সরকারের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে ফরহাদ মজহার এবং আমাকে কলম ধরতে হয়েছিল। যে পত্রিকায় আমরা সেদিন লেখার সুযোগ পেয়েছিলাম, সেটাও বিএনপির কোনো নেতার ছিল না। পত্রিকাটি জামায়াত ঘরানারÑনাম, নয়া দিগন্ত। আমার লেখক-জীবনের সূত্রপাত ওই পত্রিকা থেকেই। ২০০৬ সালের শেষদিকে প্রথম লেখাটি অর্থনীতিবিষয়ক ছিল।

চারদলীয় জোট সরকারের প্রায় শেষের দিকে প্রতিষ্ঠিত দুই বিএনপিপন্থি পত্রিকা আমার দেশ এবং যায়যায়দিনের মইন-ফখরুদ্দীনের সরকারসৃষ্ট নানা প্রতিবন্ধকতায় মিডিয়া জগতে সে সময় টিকে থাকাই একধরনের অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। সেই অনিশ্চিত সময়ে আমি ২০০৮ সালের আগস্টে কর্মরত সাংবাদিক এবং কারারুদ্ধ মালিকের অনুরোধে আমার দেশ-এর দায়িত্ব নিলে পত্রিকাটি আবার পূর্ণ উদ্যমে প্রকাশিত হওয়ার সুযোগ পায়। তার অনেক আগেই নানা ধরনের চাপের মুখে যায়যায়দিনের সার্বিক ব্যবস্থাপনার অধিকার ছেড়ে দিয়ে সম্পাদক শফিক রেহমানকেও দেশ ত্যাগ করতে হয়েছিল। ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রায় পাঁচ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের যাবতীয় বয়ানকে মিডিয়ায় এককভাবে মোকাবিলা করেছে আমার দেশ। শেখ হাসিনার সঙ্গে আমার বৈরী সম্পর্ক একেবারে চরমে উঠেছিল তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে একটি দুর্নীতির অভিযোগের সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বদ্ধমূল ধারণা হয়েছিল যে, তারেক রহমানের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের জন্য আমার দেশ জয়কে জড়িয়ে সেই সংবাদটি প্রকাশ করেছিল। এর পরের ইতিহাস অধিকাংশ পাঠকই কমবেশি জানেন। হাসিনাপুত্র জয়কে আমেরিকায় অপহরণ ষড়যন্ত্রের এক ভুয়া মামলায় শফিক রেহমান এবং আমাকে যথাক্রমে এক ও দুই নম্বর আসামি করে সাত বছর কারাদণ্ড দিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী আদালত। আজকের বিএনপির নেতারা হয় সেসব ইতিহাস জানেন না অথবা মনে রাখার প্রয়োজন বোধ করেন না। যাহোক, এবার সরকারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের মিডিয়া টিমে অনেক তরুণের সমন্বয়ে বিএনপিকে মিডিয়া অঙ্গনে আগের তুলনায় অধিকতর সক্রিয় দেখার প্রত্যাশা ছিল। সেই প্রত্যাশা কতখানি পূরণ হয়েছে, সেটা বোঝার জন্য জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে দলটির মিডিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক খানিকটা বিশ্লেষণ করা যাক। আমার বিশ্লেষণে সব পাঠক যে সন্তুষ্ট হবেন না সেটা বলাই বাহুল্য।

প্রথম থেকেই মিডিয়া জগতে বিএনপি এবার ভিন্ন কৌশল নিয়েছে। ২০২৪-এর বর্ষা বিপ্লবে হাসিনার পতন ও দিল্লিতে পলায়নের পর দেশের রাজনীতিতে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হলে বৃহত্তর দল বিএনপি, চরিত্রগতভাবে তীব্র জামায়াতবিদ্বেষী সেক্যুলার ও সুশীল মিডিয়াকে স্বাভাবিক মিত্র হিসেবে গ্রহণ করে। তারা সম্ভবত ধরে নিয়েছিলেন, আওয়ামী লীগের অবর্তমানে উপরোক্ত মিডিয়া জামায়াতের মোকাবিলায় বিএনপিকে বাধ্য হয়েই সমর্থন দেবে। সুশীল শ্রেণির সঙ্গে দ্রুত সেতুবন্ধ নির্মাণের বাসনায় বিএনপির মিডিয়া সেলে সাবেক বাম চিন্তাধারার ব্যক্তিরা ক্রমেই প্রভাবশালী ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। জনপ্রিয় ইউটিউব কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং প্রধানমন্ত্রীর স্ট্র্যাটেজি, তথ্য এবং সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান আগে থেকেই দেশের প্রধানতম সুশীল পত্রিকা প্রথম আলোর একজন একনিষ্ঠ গুণগ্রাহী এবং ওই পত্রিকার পুরোনো কলামিস্ট। পত্রিকাটির প্রতি তার প্রবল পক্ষপাতিত্ব তিনি একাধিকবার নিজ মুখেই স্বীকার করেছেন। বর্তমান রাষ্ট্রপতিসহ সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সিনিয়র মন্ত্রীদের সঙ্গেও সেক্যুলার মিডিয়ার সব জাঁদরেল সম্পাদকের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কের বিষয়টিও সবার জানা।

উল্লেখ করা যেতে পারে, এসব সম্পাদকের সঙ্গে বিএনপির কথিত প্রগতিশীল সব নেতার প্রীতির সম্পর্ক থাকলেও তারা দল হিসেবে বিএনপি এবং জিয়া পরিবারকে কোনোকালেই পছন্দ করেননি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সাংবাদিকদের সঙ্গে একাধিক আলাপচারিতায় বিএনপির প্রতি একসময়কার বৈরী সংবাদমাধ্যমের আগের বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। সময়ের সঙ্গে একটি দলের রাজনৈতিক কৌশলের এই পরিবর্তনে আমাদের ভিন্নধারার সংবাদপত্রের কর্মীদের মনঃক্ষুণ্ণ হওয়ার কোনো কারণ ছিল না। ২০০৮ থেকে সবসময় ক্ষমতাকে প্রশ্ন করেই আমরা পত্রিকা চালিয়েছি। তবে নির্বাচনে জিতে ক্ষমতাপ্রাপ্তির আগেই বিএনপির সাইবার সেল যে আমার দেশ পুনঃপ্রকাশের প্রথম দিনেই পত্রিকাটিকে বয়কটের আহ্বান জানাবে, সেটা আমাদের কল্পনার বাইরে ছিল। তাদের কাছ থেকে এতখানি বিদ্বেষ প্রত্যাশা করিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই বয়কটের ডাকে অবশ্য সাধারণ পাঠকদের মধ্যে কোনো সাড়া মেলেনি। বরং, অনেকেই হয়তো স্বীকার করবেন যে, আমার দেশ ২০১৩ সালে ফ্যাসিস্ট সরকার বন্ধ করে দেওয়ার সময়ের চেয়েও পুনঃপ্রকাশের পর বেশি পাঠকপ্রিয় হয়েছে।

বিএনপির নব্য প্রগতিশীল সাইবার গোষ্ঠী আমার দেশ বয়কটের আহ্বান জানিয়ে থামলেও কথা ছিল। কিন্তু সেক্যুলার ভাবধারার আওয়ামী মিডিয়ার সঙ্গে নতুন বন্ধুত্ব অতি দ্রুত প্রগাঢ় করার তাড়নায় তারা পোপের চেয়েও বড় ক্যাথলিক সাজতে চাইলেন। প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টারে একদল দুর্বৃত্তের চরম নিন্দনীয় হামলাকে কেন্দ্র করে বিএনপি সাইবার সেলের নেতারা আওয়ামী কায়দায় আমার দেশকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পত্রিকাটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের বানোয়াট অভিযোগ তুললেন। এ ঘটনায় নিরাপত্তার খাতিরে সরকারি দলের সাইবার সেলের সংশ্লিষ্ট দুই প্রভাবশালী সদস্যের বিরুদ্ধে আমাকে মামলা দায়ের করতে হয়েছে এবং ঢাকার সিএমএম আদালতে সেই মামলা চলমান রয়েছে।

এই গোষ্ঠীর প্রবল ক্ষমতা সম্পর্কে আমি সম্পূর্ণ অবগত আছি। তারা সবাই খোদ প্রধানমন্ত্রীর প্রিয়পাত্র। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সরকারের উচ্চপদে ইতোমধ্যে নিয়োগ পেয়েছেন এবং অন্য অনেকেই নিয়োগের জন্য নানা ধরনের তদবিরে ব্যস্ত রয়েছেন। আমার ৭৩ বছরের দীর্ঘ পথপরিক্রমায় এমন ক্ষমতাধর বহু লোকের সঙ্গেই বিভিন্ন পর্যায়ে সাক্ষাৎ ঘটেছে। বর্তমানে দিল্লিতে পলাতক শেখ হাসিনার দেশি ও বিদেশি, উভয় কিসিমের প্রবল ক্ষমতা সম্পর্কে জানা সত্ত্বেও ইসলাম, রাষ্ট্র ও জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে তার এবং তার প্রভুদের সঙ্গে সাধ্যমতো লড়াইয়ে কোনোদিন পিছু হটিনি। আজকের নব্য ক্ষমতাবানদেরকেও ভয় পাওয়ার কোনো কারণ দেখি না। ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় ন্যায়বিচারপ্রাপ্তি নিয়ে সংশয় থাকলেও আদালতের সকল পর্যায়ে আমার আইনি প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। সবসময় আল্লাহর রহমত এবং পাঠকের সমর্থন আমাদের সব সাহস ও অনুপ্রেরণার উৎস।

বিএনপির মিডিয়াসংক্রান্ত চিত্তাকর্ষক কাহিনির এখানেই শেষ নয়। কিছুদিন আগে দেখলাম সুশীল মিডিয়ার সঙ্গেও তাদের নতুন বন্ধুত্বে হঠাৎ করেই খানিকটা চিড় ধরেছে। প্রথম আলোতে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকেই এই আকস্মিক বিবাদের সূত্রপাত। মন্ত্রিসভায় সাম্প্রতিক রদবদলে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির পদোন্নতি পেয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। রদবদলের পরের দিন তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রথম আলো প্রথম পাতায় খবর ছাপালে, সেই সংবাদের সূত্র ধরে একজন সাংবাদিক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করে বসেছেন। উত্তর দিতে গিয়ে রাগান্বিত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এক-এগারোর সময় প্রথম আলোর বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে পত্রিকার নাম উল্লেখ ছাড়াই কটাক্ষ করেছেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং প্রথম আলোর মধ্যকার বিবাদে টিআইবিসহ আরো কয়েকটি সুশীল সংগঠন ও ব্যক্তিরা ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই প্রথম আলোর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। সুশীলদের মধ্যকার এই বন্ধুত্বের ইতিহাস দীর্ঘদিনের।

বিবাদের ঘটনাটি নিয়ে টকশোতে অনেক স্টারই দাবি করছেন যে, মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের পক্ষে অবস্থান নেওয়াতেই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের মিডিয়ার ভারতপন্থিদের এই রোষানলে পড়েছেন। অনেক প্রচার চালিয়েও ভারতীয় দালালদের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরে সম্মত করাতে না পারার অসন্তোষের খানিকটা আঁচও হয়তো পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে এখন সহ্য করতে হচ্ছে। অথচ, যতদূর জানি এই হুমায়ুন কবিরকেই তো তারেক রহমান ২০১৮ সালের ভুয়া নির্বাচনের আগে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং আবদুল আওয়াল মিন্টুর সঙ্গে দিল্লিতে পাঠিয়েছিলেন।

সেই সফরে বিএনপির প্রতিনিধি দলকে খালি হাতেই ফিরতে হয়েছিল। ভারত সরকার তখন বাংলাদেশে শেখ হাসিনা ছাড়া আর কারো সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের কোনো প্রয়োজনই বোধ করেনি। দিল্লি ভেবেছিল বাংলাদেশের সব সেক্টরে তাদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। অতএব, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে পারলে রাজনৈতিক বিরোধীদের পাত্তা না দিলেও চলবে। পাশার দান এখন পাল্টে গেছে। বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক ও সাহসী তরুণ প্রজন্ম রক্তের অক্ষরে ভারতকে তার অহমিকার যথাযথ জবাব দিয়েছে। আশা করি, ক্ষমতাসীন মহল তরুণদের রক্তের সেই ঋণকে অন্তত অস্বীকার করবেন না।

হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে আমার কখনো সরাসরি সাক্ষাৎ ঘটেনি। ২০১৮ সালের পর তার আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক চিন্তাধারায় যথেষ্ট পরিবর্তন ঘটেছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।

সুশীল মিডিয়ার সঙ্গে মন্ত্রীর লড়াইয়ে বিএনপির সাইবার সেল এখন পর্যন্ত নীরবতা পালন করে চলেছে। বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভা এবং উপদেষ্টামণ্ডলীতে তরুণদের মধ্যে প্রথম আলোর কট্টর সমর্থক ডাক্তার জাহেদ উর রহমান এবং পত্রিকাটির সঙ্গে বর্তমানে বিবাদে লিপ্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, উভয়ই বিশেষ প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি প্রতিমন্ত্রীদের তালিকায় হুমায়ুন কবির এক নম্বরে জায়গাও করে নিয়েছেন। তাই হয়তো বিএনপির সাইবার সেলের সুশীল মিডিয়া প্রেমিকরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছেন। কোন পক্ষে যাবেন সেটা ঠিক নির্ধারণ করে উঠতে পারছেন না। না হলে এতদিনে তো বিএনপি পরিচালিত সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের ‘গুপ্ত’ ট্যাগ পেয়ে যাওয়ার কথা ছিল।

যুক্তরাজ্যে একদিনেই ৬০০ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

আগুয়েরোর রেকর্ড ছুঁয়ে সিটিকে জেতালেন হালান্ড

খোকনের সঙ্গে বিতণ্ডায় প্রধান বিচারপতির এজলাস ত্যাগ

ইলেকট্রিক ও রিকন্ডিশন গাড়ির মধ্যে বৈষম্য তৈরি হয়েছে

মাছ চাষির কাছে চাঁদা দাবি নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১৩

‘ব্লু-চিপস’ থেকে ‘জাংক’ ক্যাটাগরিতে সিঙ্গার

বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১০০ ডলার ছুঁইছুঁই

গোপনে একই বিষয়ে একাধিক রিট : রিটকারী ও আইনজীবীকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা

ভোজ্যতেলের ৯০ শতাংশই আমদানিনির্ভর

ইরানের ৫ তেল ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, পাল্টা জবাব তেহরানের