হোম > মতামত > উপসম্পাদকীয়

শব্দবোমার জাঁতাকলে আমাদের রাজনীতি

মিনার রশীদ

সাপে-নেউলে সম্পর্কের উদাহরণ টানতে গেলেই পারিবারিক পরিসরে বউ-শাশুড়ি এবং রাষ্ট্রীয় পরিসরে সরকারি দল এবং বিরোধী দলের চেহারাটি ভেসে ওঠে। দেখা যায়, যে পরিবারে বউ-শাশুড়ির মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সুসম্পর্ক বজায় থাকে, সেই পরিবারের সদস্যদের মানসিক স্বস্তি ও সামগ্রিক পরিবেশও অনেক বেশি ভালো থাকে। একইভাবে, যে দেশে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা, পারস্পরিক সম্মান এবং দায়িত্বশীল রাজনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে, সে দেশের জনগণও তুলনামূলক শান্তি ও স্থিতিশীলতার মধ্যে বসবাস করে।

দুঃখজনকভাবে, আমাদের পারিবারিক ও রাষ্ট্রীয়—এ দুই ধরনের শান্তিই যেন একই উৎস থেকে ধাক্কা খেয়েছে! প্রথমটিতে বিষ ঢেলেছে ভারতীয় সিরিয়াল, আর দ্বিতীয়টি নষ্ট করেছে চাণক্যনীতির রাজনৈতিক কূটকৌশলের প্রয়োগ। ফলে পরিবারে যেখানে সম্পর্ক হওয়ার কথা ছিল মমতা ও বোঝাপড়ার, সেখানে তৈরি হয়েছে সন্দেহ ও দ্বন্দ্ব; আর রাষ্ট্রে যেখানে প্রয়োজন ছিল সুস্থ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সেখানে জায়গা নিয়েছে অবিশ্বাস, ষড়যন্ত্র ও পরস্পরকে নিশ্চিহ্ন করার প্রবণতা।

একই কৌশল থেকে আমাদের যুবসমাজকে মাদক ও পর্নোগ্রাফিতে ডুবিয়ে রাখার সব বন্দোবস্ত করে ভারত এবং তাদের এ দেশীয় দোসররা। আলো-স্টার নামক পত্রিকাগুলো তখন অভিভাবকদের সচেতন করানোর নিমিত্তে আর্টিকেল লিখতÑকীভাবে বুঝবেন আপনার ছেলে জঙ্গিবাদের দিকে ঝুঁকছে? এই সিম্পটমের অন্যতমটি ছিলÑহঠাৎ ধার্মিক বনে যাওয়া।

প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সচ্ছল ও শিক্ষিত পরিবারের ছেলেমেয়েগুলোকে ভালনারেবল হিসাবে গণ্য করা হয়। এরা যাতে আদর্শবান, দেশপ্রেমিক ও দায়িত্ববান নাগরিক হিসেবে বেড়ে উঠতে না পারেÑতজ্জন্যে ভারতের প্রযোজনায় শুরু হয় হলি আর্টিসান অ্যাপিসোড । এখানে সেই বিশেষ পত্রিকার মালিক পক্ষের একজন কথিত ভিকটিমকে হিরো বানানো হয়েছিল। তার ব্যাপারেও বিশেষ অনুসন্ধানের প্রয়োজনÑঅনেকের সন্দেহ ওই ছেলেটিও আক্রমণকারীদের একজন ছিল!

মতিউর রহমান রেন্টুর বর্ণনা থেকে জানতে পারি যে ইন্ডিয়ান সিরিয়ালের বড় সমঝদার ছিলেন শেখ হাসিনা! আপনার আশপাশে খোঁজ নিলেও সম্ভবত চেতনার বলয়ের মহিলাদেরই বাই-ডিফল্ট ইন্ডিয়ান সিরিয়ালের বড় সমঝদার হিসেবে পাবেন! ওনারা সিরিয়ালের পরের দৃশ্য বুঝে ফেলেছে বলেই মনে করেÑসারা দুনিয়ার তাবৎ জ্ঞান আয়ত্ত করে ফেলেছে!

তবে যেসব আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত পরিবারে এসব সিরিয়াল দেখার চর্চা কম, ধর্মীয় শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধ মেনে চলেন, সেখানে একটু ভিন্ন চিত্র দেখা যায়! আমার ঘরে যে শাশুড়ি রয়েছেন, উনি নিজের পোলা এবং জামাইকে পান থেকে চুন খসলেই ধরে ফেলেন, অপরাধের ধরন মিলে যাওয়ায় বাপ-বেটা প্রায়ই একসঙ্গে ধমক খাইÑএমতাবস্থায় মোটামুটি বড় হয়েও ছেলে আমাকে আঙুল উঁচিয়ে চুপ থাকাকেই বুদ্ধিমানের কাজ বলে পরামর্শ দিত। অথচ সেই ব্যক্তিকে গত চার বছরে একদিনের তরেও বউমার প্রতি চোখটি সামান্য গরম করতে দেখিনি। তার যুক্তি, আমার বউমা পারফেক্ট, বকা দেব কেন?

বউ-শাশুড়ির মধ্যকার এই চমৎকার সম্পর্ক শুধু আমার চক্ষু শীতলকারী হয়নিÑএই জাতির ভবিষ্যৎ সম্পর্কেও আশান্বিত করে তুলেছে। কারণ বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজন এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনেকের চক্ষুও আমার মতো শীতল হচ্ছে বলে জানতে পারছি!

কঠিন বিষয়ে প্রবেশের আগে গ্রাম-বাংলায় এক বউ-শাশুড়ির একটি হাস্যরসের গল্প বলে নিচ্ছিÑমনটিকে যতটুকু সম্ভব প্রফুল্ল রাখার নিমিত্তে। গল্পটি আমাদের প্রজন্মের অনেকেই জানেন। এই বউ-শাশুড়ির মধ্যে রীতিমতো যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। শাশুড়ি এতটুকুই উত্তেজিত হয়ে পড়েছেন যে ‘পোড়ারমুখী’ গালি দিতে গিয়ে পোড়ার বলার সঙ্গে সঙ্গেই চোয়াল আটকে যায়। অনেক চেষ্টা করেও শাশুড়ির হাঁ-করা বিকট মুখটি বন্ধ করতে পারছেন না। ঝগড়াটি শুরু হয়েছিল বরাবরের মতোই একটু সকাল-সকাল।

সে সময় বাড়ি থেকে কয়েক মাইল দূরে গঞ্জে ডাক্তার পাওয়া যেতÑতাও শুধু সন্ধ্যাবেলায়। কাজেই পুরো দিন এভাবেই কাটল। সন্ধ্যায় ডাক্তার চোয়ালকে যথাযথ জায়গায় ফিরিয়ে আনলেন। একটা পাপবোধ থেকে ছেলের বউটিও গঞ্জে গিয়েছিল। তারপরও শাশুড়ির রাগ পড়েনি। চোয়ালটি বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পোড়ারমুখী শব্দটির অনুচ্চারিত অংশটুকু মানে ‘মুখী’ বেরিয়ে এলো।

গল্পটি আমাদের রাজনীতিতে খুবই রিলেভেন্ট মনে হচ্ছে। এই কিসিমে কারো চোয়াল আটকে যাওয়াকে Jaw dislocation অথবা Jaw locking বলা হয়। প্রাণিজগতে এই সমস্যাটি নাকি শুধু মানুষেরই হয়। তখন এ রকম এনটেংগেলে পড়া হোমোসেপিয়ান নিজস্ব বডি মেকানিজমে চোয়ালটিকে স্বাভাবিক জায়গায় ফেরাতে পারে না! ডাক্তার কিংবা বিশেষ মেডিকেল ট্রেনিংপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা এটি স্বাভাবিক করতে পারেন।

আমাদের রাজনীতির চোয়ালটিও এভাবেই আটকে গিয়েছিল! পনেরো-ষোলো বছর এ রকম মুখ হাঁ করে থাকার পর ছাত্র-জনতার বিশাল সেক্রিফাইসে রাজনীতির চোয়ালটি স্বাভাবিক হয়েছে। এখনো আমাদের আচরণ সেই ক্রোধান্বিত শাশুড়ির মতো! পরম স্রষ্টার আশীর্বাদ এবং ছাত্র-জনতার বিশাল সেক্রিফাইস ভুলে প্রতিপক্ষের ওপর নিজের মনের ক্ষোভ ঝাড়ছি-শাশুড়ির গালির বাদবাকি অংশ উচ্চারণের মতো!! ভুলে যাচ্ছি সারাদিনের এই কষ্টকর অবস্থানকে!

বিরোধী দলকে শত্রুর জায়গায় বসিয়ে আমাদের যাত্রাটি শুরু হয়েছিল। এরপর অনেক দিন কেটেছে সাপে-নেউলে সম্পর্কের মতো। ফ্যাসিবাদী আমলে গৃহপালিত জোকারের দল দেখা গেছে। ওয়েস্টমিনিস্টার ধাঁচের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে এক কিম্ভূতকিমাকার সরকার প্রতিষ্ঠা করেছিল! এ রকম অনেক সার্কাস দেখে বিচারপতি হাবিবুর রহমান বলেছিলেন, দেশটি বাজিকরদের হাতে পড়ে গেছে। গৃহপালিত বিরোধী দলের নেত্রী রওশন এরশাদ একবার তার নিজের দলের মন্ত্রীদের বরখাস্ত করার জন্য সংসদে দাঁড়িয়ে তথাকথিত সংসদ নেতা বরাবর দরখাস্ত পেশ করেছিলেন। একই ধরনের প্রহসনের বিরোধী দল আমরা চাই না। চাই একটি দায়িত্বশীল বিরোধী দল এবং সুবিবেচক সরকারি দল।

আমাদের বিরোধীদলীয় নেতা যখন সংসদে প্রধানমন্ত্রীর কন্যাকে নিয়ে অশ্লীল ট্রলের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেনÑতখন খুব খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু এখন আবার যখন সিফাতের পক্ষে বিরোধীদলীয় নেতা শক্ত অবস্থান নিলেন , তখন আগের সেই শুভ ভাবনাটি অনুপস্থিত দেখতে পেলাম ।

কারণ সিফাত নামের এই ছেলেটি তার শব্দবোমায় আঘাত করেছে এই মাটির দু-দুজন শ্রেষ্ঠ সন্তানকে! যদিও ভুতুড়ে বিলের জন্য আমরা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে দায়ী করতে পারব কি না, জানি না ।

পেটে ব্যথা হলেও যদি প্রধানমন্ত্রীর বাপ-মা তুলে গালাগাল রেওয়াজ শুরু হয়Ñসেদিন খুব দূরে নেই যেদিন ডাক্তার শফিকের বাবা-মাও এই গালি খাবেন।

জানি, এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গেই আপনারা সরকারদলীয় শব্দবোমারুদের উদাহরণ তুলে ধরবেন এবং বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর একজন রাজনৈতিক উপদেষ্টার উদাহরণ টেনে আনবেন । এই ভদ্রলোককে সরকার অনেকটা ‘ছাই ফেলতে ভাঙা কুলা’র মতো ব্যবহার করছে বলে অনেকেই অভিমত ব্যক্ত করছেন । তবে ওনার মাধ্যমে সরকারের উপকার কতটুকু হচ্ছে, তা মালুম হচ্ছে না। নুরু এবং রাশেদ তাদের পারফরম্যান্সে এতটুকুই উৎফুল্ল যে, বাকিদেরও তাদের সঙ্গে ব্যাটিংয়ে যোগ দিতে আহ্বান জানিয়েছেন!

আমি নিজেও সিফাতকে গ্রেপ্তার করার জন্য সরকারের সমালোচনা করেছি। শুধু আইনের প্রয়োগ দিয়ে এই উৎপাত বন্ধ করা যাবে না। এই শব্দবোমারুরা যাতে সাধারণ মানুষের সহানুভূতি ও সমর্থন না পায়Ñতজ্জন্যে জনগণের সত্যিকারের কনসার্নগুলো আগেভাগে অ্যাড্রেস করতে হবে!

শব্দবোমার এই উৎপাত বন্ধের জন্য সবাইকে মিলে একটা উপায় বের করতে হবে! কারণ এসব শব্দবোমা শুধু সরকারি দলটিকেই আঘাত করবে না, বিরোধী দলকেও তা করবে এবং শেষমেশ লাভবান হবে বিতাড়িত শয়তান।

দুপক্ষের শব্দবোমারুরা যেভাবে রণসাজে সজ্জিত হচ্ছে এবং ঊর্ধ্বতন মহলের উৎসাহ বা অনুমোদন পাচ্ছে, তা দেখে আমরা প্রমাদ গুনছি! পুরো জাতির ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্সের পারদ অনেকখানি নিচে নেমে গেছে বলে মনে হচ্ছে।

মনোবিজ্ঞানে এটিকে সাধারণত আন্তঃব্যক্তিক যোগাযোগ বিশ্লেষণ (Transactional Analysis) বলা হয়। আমরা যখন একজন আরেকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করি, তখন এই তিনটি মানসিক পর্যায়ের (Ego State) একটিতে অবস্থান করি। ১. অভিভাবকসুলভ মানসিক অবস্থান (Parent Ego State), ২. প্রাপ্তবয়স্ক/যুক্তিনির্ভর মানসিক অবস্থান (Adult Ego State), ৩. শিশুসুলভ/আবেগনির্ভর মানসিক অবস্থান (Child Ego State)।

এখানে বয়স নয়, একজন মানুষ কোন মুহূর্তে কোন মানসিক অবস্থান থেকে কথা বলছেন, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাডাল্ট ইগো তথ্য, যুক্তি ও বাস্তবতার ভিত্তিতে প্রতিক্রিয়া দেয়; প্যারেন্ট ইগো নির্দেশ, বিচার বা অভিভাবকসুলভ মনোভাব প্রকাশ করে; আর চাইল্ড ইগো আবেগ, অভিমান, ভয়, বিদ্রোহ বা স্বতঃস্ফূর্ততার মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানায়।

যেমন : ‘আপনার নাম কী?’—এর সরল উত্তর (আমার নাম রহিম) অ্যাডাল্ট-টু-অ্যাডাল্ট যোগাযোগের উদাহরণ হতে পারে; কিন্তু ‘আমার নাম দিয়ে আপনার কী দরকার?’ এ রকম হলে বুঝতে হবে জবাবদাতা চাইল্ড ইগো স্টেটে রয়েছে! এখন যদি প্রশ্নকর্তাও চাইল্ড ইগো স্টেটে নেমে পড়ে, তখনই সংঘাতের দিকে যাত্রা শুরু হয়!

নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো—অন্য ব্যক্তি চাইল্ড ইগো বা প্যারেন্ট ইগো অবস্থানে গেলেও নিজেকে সেই অবস্থানে নামিয়ে না আনা। কারণ অ্যাডাল্টের বিপরীতে অ্যাডাল্ট থাকলে আলোচনা স্বাভাবিক থাকে; কিন্তু একজন চাইল্ড ইগোর সঙ্গে আরেকজন চাইল্ড ইগোর মতো প্রতিক্রিয়া দিলে সামান্য কথাও দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে। তাই রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃত্বে নিজের মানসিক অবস্থান (Ego State) সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং সম্ভব হলে অ্যাডাল্ট-টু-অ্যাডাল্ট যোগাযোগ বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে একটি মাত্র বাক্য শুনেই কাউকে চাইল্ড ইগো বা প্যারেন্ট ইগো হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক নয়; তার পরিস্থিতি, স্বর ও আচরণের ধারাবাহিকতা বিবেচনা করতে হবে।

বর্তমান ভূরাজনৈতিক এবং আর্থসামাজিক পরিস্থিতিতে পছন্দের দলের সব কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করা সম্ভব নয়। আবার নিজের দল ভুল করেছে—এ কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করাও অনেকের কাছে কষ্টকর বা বিব্রতকর ঠেকে। কারণ রাজনীতি শুধু যুক্তি, নীতি কিংবা আদর্শের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আবেগ, আনুগত্য, সম্পর্ক, পরিচয় এবং ক্ষমতার হিসাব। ফলে অনেক সময় এমন কিছু বাস্তবতাকেও মেনে নিতে হয়, যেগুলোকে মন থেকে সমর্থন করা যায় না। এই বাস্তবতাকেই বলে অস্বস্তির সঙ্গে মেনে নেওয়া (Uneasy Acceptance) ।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—এই গ্রহণযোগ্যতার সীমা কোথায়? এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পরিকল্পনা বা তাগিদটি কোথায়?

একজন রাজনৈতিক কর্মী তার দলের আদর্শের প্রতি অনুগত থাকতে পারেন। তিনি মনে করতে পারেন, সামগ্রিকভাবে তার দল অন্য দলের চেয়ে দেশের জন্য ভালো। ফলে দলের কোনো সিদ্ধান্ত বা কর্মকাণ্ড তার কাছে ভুল মনে হলেও বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বার্থে তিনি সেটি মেনে নিতে পারেন। এটি রাজনৈতিক বাস্তবতার অংশ।

কিন্তু এখানেই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সীমারেখা থাকা দরকার।

কোনো দলকে সমর্থন করা আর দলের প্রতিটি কাজকে সঠিক প্রমাণ করার চেষ্টা করা এক জিনিস নয়। দলের ভুলকে ভুল বলা দলের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা নয়। বরং অনেক সময় সেটিই প্রকৃত আনুগত্য। কারণ একজন সত্যিকারের রাজনৈতিক কর্মী বা সমর্থক শুধু দলের প্রশংসা করবেন না; প্রয়োজনে দলের ভুলের কথাও বলবেন। তিনি বলতে পারবেন—‘আমি এই দলকে সমর্থন করি, কিন্তু এই কাজটিকে সমর্থন করি না।’

এই পার্থক্যটি হারিয়ে গেলেই শুরু হয় বিপজ্জনক যাত্রা—‘Denial of Truth’Ñঅর্থাৎ সত্যকে অস্বীকার করার প্রবণতা।

ক্ষমতায় গেলে এই প্রবণতা আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। বিরোধী অবস্থানে থাকা রাজনৈতিক দল যে অন্যায়কে অন্যায় বলে চিহ্নিত করেছিল, ক্ষমতায় গিয়ে সেই একই অন্যায়ের ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে শুরু করে। যে সিদ্ধান্তকে তখন দুর্নীতি বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় এসে সেটিকে বলা হয় ‘প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত’। যে ঘটনাকে তখন গণতন্ত্রের জন্য হুমকি বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় এসে সেটিকেই বলা হয় ‘রাষ্ট্রের স্বার্থে কঠোর পদক্ষেপ’।

অন্যদিকে বিরোধী দল প্রায় প্রতিটি সমস্যার জন্য সরকারকে দায়ী করে।

কিন্তু ক্ষমতার পালাবদল হলে দৃশ্যপট অনেক সময় উল্টো হয়ে যায়। যারা একসময় যে সমস্যার জন্য সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছিল, তারাই ক্ষমতায় এসে একই সমস্যার নতুন ব্যাখ্যা দিতে শুরু করে।

এটি শুধু রাজনৈতিক কৌশল নয়; এটি সত্যের প্রতি এক ধরনের অস্বীকৃতি।

একটি সুস্থ গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলকে স্বীকার করতে হবে—আমরা ভুল করতে পারি। আমাদের সিদ্ধান্ত ভুল হতে পারে। আমাদের নেতা ভুল করতে পারেন। এমনকি আমাদের সরকারের কোনো নীতিও ব্যর্থ হতে পারে। এই স্বীকারোক্তি কোনো দলের দুর্বলতা নয়। বরং এটি একটি দলের পরিপক্বতার প্রমাণ।

একইভাবে বিরোধী দলকেও বুঝতে হবে, সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্ত খারাপ নয়। কোনো ভালো উদ্যোগকে শুধু সরকার করেছে বলে প্রত্যাখ্যান করাও সত্যের প্রতি অবিচার।

অর্থাৎ রাজনীতিতে দুটি জিনিসই প্রয়োজন—Uneasy Acceptance এবং Truth Acceptance।

প্রথমটি আমাদের শেখায়, নিজের দলের প্রতি আনুগত্যের কারণে কিছু অস্বস্তিকর বাস্তবতাকে মেনে নিতে হয়। কিন্তু দ্বিতীয়টি মনে করিয়ে দেয়Ñসেই আনুগত্য যেন সত্যকে অস্বীকার করার পর্যায়ে না যায়।

এখানে সীমারেখাটি খুব পরিষ্কার হওয়া উচিত।

এক ভিসায় ঘোরা যাবে মধ্যপ্রাচ্যের ৬ দেশ

৯/১১ জাদুঘরে যুক্তরাষ্ট্রের শোকের প্রদর্শন, অনুপস্থিত প্রকৃত ইতিহাস

আত্মবিশ্বাসেই এগিয়ে যাচ্ছেন নারী চালকেরা

নিকলী হাওরে নৌকা বাইচ, দর্শনার্থীদের ঢল

মহাখালীতে একটি ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৩ ইউনিট

এক ভিসায় ঘোরা যাবে মধ্যপ্রাচ্যের ছয় দেশ

ঢাকায় বৃষ্টির আভাস, কমছে না ভ্যাপসা গরম

৭৮ বছর ধরে এক পরিবারই উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতায়

হানিট্র্যাপে ফেলে শিক্ষককে জিম্মি, নারীসহ গ্রেপ্তার ৪

সুঁইয়ের ফোঁড়ে স্বপ্ন বুনছেন আত্মপ্রত্যয়ী ফাতেমা