আন্তর্জাতিক সম্পর্কের তাত্ত্বিক কাঠামোতে ‘জাতীয় স্বার্থ’ (National Interest) ধারণাটি হান্স মরগেনথাউয়ের ‘পলিটিকস অ্যামং নেশনস’ থেকে শুরু করে কেনেথ ওয়াল্টজের কাঠামোগত বাস্তববাদ (Structural Realism) পর্যন্ত রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সবচেয়ে আলোচিত ধারণাগুলোর অন্যতম। মরগেনথাউ বলেছিলেন, জাতীয় স্বার্থ হলো ‘ক্ষমতার আলোকে সংজ্ঞায়িত স্বার্থ’ (Interest defined in terms of power)। কিন্তু এই সংজ্ঞা আজকের বিশ্বে আর যথেষ্ট নয়।
জোসেফ নাইয়ের ‘Soft Power’ তত্ত্ব আমাদের শিখিয়েছে যে একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি শুধু সামরিক সক্ষমতায় নয়, তার সাংস্কৃতিক আবেদন, কূটনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা ও নৈতিক অবস্থানেও নিহিত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে নিউ ইয়র্কে অবস্থান করছেন এবং বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সাধারণ বিতর্ক পর্বে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেবেন—ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও জাতীয় স্বার্থের সম্পর্কটি পুনর্বিচারের দাবি রাখে। একটি জাতির ভাগ্য নির্ধারণে তার নেতৃত্বের আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা এবারের সফরই প্রমাণ করবে।
এবারের জাতিসংঘ অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য বহুমাত্রিক তাৎপর্য বহন করছে। প্রথমত, প্রায় চার দশক পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে ফিরেছে বাংলাদেশ—পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ৮১তম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছেন। ১৯৮৬ সালে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর পর এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় এই সম্মান। মনে রাখা দরকার, হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীও ছিলেন বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী—অর্থাৎ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্বের সম্মান দুবারই বিএনপি সরকারের সময়ে এসেছে, যা দলটির কূটনৈতিক দক্ষতার স্বীকৃতি।
দ্বিতীয়ত, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এটি প্রথম জাতিসংঘ ভাষণ। জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তিনি সেই মঞ্চে দাঁড়াচ্ছেন, যেখানে ১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রথম ভাষণ দিয়েছিলেন এবং ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত পাঁচবার খালেদা জিয়া বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেছিলেন। জিয়া পরিবারের এই ধারাবাহিকতা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি অনন্য অধ্যায়।
তৃতীয়ত, ২৩ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে একটি নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ কূটনৈতিক দৃশ্যমানতার একটি নতুন মাত্রা যোগ করছে। এটি বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন গতিশীলতার প্রমাণ। এই তিনটি বিষয় মিলিয়ে এবারের সফর শুধু আনুষ্ঠানিক নয়, কৌশলগতভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে যেসব বিষয় গুরুত্ব পাবে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তার মধ্যে সর্বাগ্রে রয়েছে রোহিঙ্গা সংকট। ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংস অপারেশনের পর প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, যা বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী সংকটগুলোর অন্যতম। সাত বছরেও এই সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রাথমিক মানবিক সহায়তা দিলেও প্রত্যাবাসনের প্রশ্নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। কক্সবাজার ও ভাসানচর ক্যাম্পগুলোতে জনসংখ্যার চাপ ক্রমবর্ধমান, স্থানীয় পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর প্রভাব ক্রমেই গভীর এবং মাদক পাচার, অস্ত্র ব্যবসা ও জঙ্গিবাদী তৎপরতাসহ নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্যাম্পের ভেতরে ও আশপাশে সহিংসতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ গৃহযুদ্ধ ও জান্তা সরকারের অসহযোগিতা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী ২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক একটি পৃথক সাইড ইভেন্টে রোহিঙ্গাদের দ্রুততম সময়ে মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চাইবেন। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, বিশেষত ইউএনএইচসিআর ও আইওএম, রোহিঙ্গা সংকটকে দীর্ঘমেয়াদি শরণার্থী সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে—এই সংকটের রাজনৈতিক সমাধান ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান সবসময়ই মানবিক ও সহানুভূতিশীল ছিল, কিন্তু কূটনৈতিক কার্যকারিতা ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে কার্যকর লবিংয়ের প্রশ্নে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়ে গেছে। বিগত সরকারগুলো রোহিঙ্গা সমস্যাকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরেছে ঠিকই, কিন্তু চীন ও রাশিয়ার ভেটো-ক্ষমতা এবং আসিয়ানের অনাগ্রহের কারণে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে কোনো বাধ্যতামূলক প্রস্তাব পাস হয়নি। এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের সুযোগ হলো, সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্ব নিজেদের হাতে থাকায় রোহিঙ্গা বিষয়ে একটি শক্তিশালী সাধারণ পরিষদ প্রস্তাব উত্থাপনে উদ্যোগী হওয়া। এটি নিরাপত্তা পরিষদের মতো আইনগতভাবে বাধ্যকর না হলেও আন্তর্জাতিক জনমত গঠন ও বৈশ্বিক নৈতিক চাপ তৈরিতে অত্যন্ত কার্যকর। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার মামলায় বাংলাদেশের সক্রিয় সমর্থন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) তদন্তে সহযোগিতার বিষয়গুলোও এই মঞ্চে তুলে আনা প্রয়োজন।
দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জলবায়ু পরিবর্তন। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম—অথচ বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে তার অবদান শূন্য দশমিক ৫ শতাংশেরও কম। জার্মানওয়াচের গ্লোবাল ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্সে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায়। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বন্যা, ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা ও সংখ্যা বৃদ্ধি, উপকূলীয় লবণাক্ততা ও নদীভাঙন—এগুলো কোটি কোটি মানুষের জীবিকা ও বসতভিটাকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সমুদ্রপৃষ্ঠ এক মিটার বাড়লে বাংলাদেশের প্রায় ১৭ শতাংশ ভূমি তলিয়ে যাবে এবং প্রায় দুই কোটি মানুষ জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক বৈঠকে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিবিষয়ক বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন। পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনাসহ বাংলাদেশের অভিযোজন উদ্যোগগুলো তুলে ধরার এটি সুবর্ণ সুযোগ। তবে জলবায়ু কূটনীতিতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ জলবায়ু অর্থায়ন (Climate finance)। প্যারিস চুক্তিতে উন্নত দেশগুলোর বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি এখনো পূরণ হয়নি এবং যা আসছে তার অধিকাংশই ঋণ, অনুদান নয়। বাকু সম্মেলনে (COP29) নতুন জলবায়ু অর্থায়ন লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আলোচনা হলেও উন্নয়নশীল দেশগুলোর চাহিদার তুলনায় প্রতিশ্রুতি অপ্রতুল। এই বৈষম্যমূলক কাঠামোর বিরুদ্ধে জোরালো কণ্ঠস্বর তোলা এবারের সফরের একটি প্রধান উদ্দেশ্য হওয়া উচিত।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রার প্রসঙ্গটিও গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন এবং জনগণের ম্যান্ডেটে নির্বাচিত সরকারের ক্ষমতায় আসার গল্প বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা শুধু অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয় নয়—এটি বাংলাদেশের নৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করার হাতিয়ার। যে দেশ নিজের গণতন্ত্র রক্ষায় তরুণ প্রজন্মের রক্ত দিয়েছে, হাজার হাজার শহীদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারকে উৎখাত করেছে, সেই দেশের কথার ওজন বৈশ্বিক মঞ্চে স্বাভাবিকভাবেই বেশি। আইনের শাসন, মানবাধিকার, জবাবদিহি, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কার এবং আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সংগত ব্যবহার—এগুলো ভাষণে স্থান পেলে বাংলাদেশ শুধু একটি উন্নয়নশীল দেশের আবেদন নয়, একটি নতুন গণতন্ত্রের আত্মবিশ্বাসী ও বিশ্বাসযোগ্য কণ্ঠস্বর হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।
এই প্রসঙ্গে বিগত দেড় দশকের কূটনৈতিক ব্যর্থতার সঙ্গে একটি তুলনা অপ্রাসঙ্গিক হবে না। সে সময়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশের ভাষণ ছিল উন্নয়নের পরিসংখ্যান ও আত্মপ্রশংসায় সীমাবদ্ধ—ভোটের আগে নিজেদের সাফল্যের জাহিরনামা বিশ্বমঞ্চেও তুলে ধরা হতো। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বাংলাদেশ ছিল প্রতিক্রিয়াশীল (Reactive), সক্রিয় (Proactive) নয়। জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়া হতো, কিন্তু পর্দার আড়ালের কূটনীতিতে বাংলাদেশ ছিল নিষ্ক্রিয়। রোহিঙ্গা সংকটে মানবিক আশ্রয় দিয়েও আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি করতে পারেনি, কেননা কূটনৈতিক কণ্ঠস্বর ছিল দুর্বল ও একপক্ষীয়। ভারতের চাপে রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন বা জাপানের সঙ্গে স্বাধীনভাবে আলোচনার সুযোগও নেওয়া হয়নি।
বর্তমান সরকারের বহুমুখী কূটনৈতিক অবস্থান—যুক্তরাষ্ট্র-চীন-মধ্যপ্রাচ্য ত্রিমুখী ভারসাম্য, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আগ্রহ, ভারতের সঙ্গে আত্মমর্যাদাশীল সম্পর্কের নীতি, মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার—এগুলো রোহিঙ্গা ও জলবায়ু ইস্যুতেও বাংলাদেশের দরকষাকষির ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায়। বিগত সরকারের একমুখী ভারতনির্ভর পররাষ্ট্রনীতি থেকে বেরিয়ে এসে বর্তমান সরকার বহুমেরুকেন্দ্রিক (Multipolar) কূটনীতির পথে হাঁটছে, যা ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে কার্যকর কৌশল।
পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফর হবে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত—মাত্র চার-পাঁচ দিন, ৩৫ জনের ছোট প্রতিনিধি দল। অতীতে জাতিসংঘ অধিবেশনে বিশাল বহর নিয়ে যাওয়া হতো, যাকে অনেকেই `রাষ্ট্রীয় খরচে পিকনিক' বলে সমালোচনা করতেন। এবারের সংক্ষিপ্ত ও কার্যকর সফর কূটনৈতিক পরিপক্বতার পরিচায়ক। জনগণের করের টাকার সদ্ব্যবহার এবং সফরের প্রকৃত উদ্দেশ্য—অর্থাৎ জাতীয় স্বার্থ রক্ষা—এই বার্তাটি স্পষ্ট। কূটনীতিতে আড়ম্বর নয়, ফলই বিচার্য।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হেনরি কিসিঞ্জার তার ‘ডিপ্লোম্যাসি’ (Diplomacy) গ্রন্থে লিখেছিলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি রাষ্ট্রগুলোর কূটনৈতিক সাফল্য নির্ভর করে তাদের নেতৃত্বের দূরদৃষ্টি ও সময়জ্ঞানের ওপর। বাংলাদেশ জনসংখ্যায় বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম, কিন্তু অর্থনৈতিক ও সামরিক সক্ষমতায় সীমিত। তাই জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কূটনৈতিক দক্ষতা ও নেতৃত্বের বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি অপরিহার্য। ভাষণে কী বলা হবে, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো পর্দার আড়ালে কী আদায় করা যাবে—দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে, সাইড ইভেন্টে, করিডোর কূটনীতিতে। ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বিষয়ে আলোচনা, মিয়ানমার প্রশ্নে চীন ও জাপানের সঙ্গে কৌশলগত আলোচনা, জলবায়ু অর্থায়নে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সমঝোতা, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে বিনিয়োগ সহযোগিতা—এগুলোই নির্ধারণ করবে এই সফর কতটা ফলপ্রসূ।
ইবনে খালদুনের ‘আল-মুকাদ্দিমা’ গ্রন্থে রাষ্ট্রনায়কের যে বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছে—প্রজ্ঞা, ন্যায়পরায়ণতা ও দূরদর্শিতা—সেগুলো আজকের কূটনীতিতেও সমানভাবে প্রযোজ্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে সুযোগ আছে বিশ্বমঞ্চে একটি নতুন বাংলাদেশের ছবি আঁকার—যে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদের কবল থেকে মুক্ত, যে বাংলাদেশ জনগণের ম্যান্ডেটে পরিচালিত এবং যে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধু ভুক্তভোগী নয়, সমাধানের অংশীদারও।
রাষ্ট্র পরিচালনায় অভ্যন্তরীণ নীতি ও পররাষ্ট্রনীতি পরস্পর সম্পূরক—একটি ছাড়া অপরটি অসম্পূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ভেতরে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারের যে যাত্রা শুরু করেছেন, জাতিসংঘের মঞ্চে তার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় সেই যাত্রাকেই পূর্ণতা দেবে। জাতীয় স্বার্থ রক্ষার এই কূটনৈতিক সংগ্রামে সমগ্র জাতির প্রত্যাশা তার সঙ্গে—সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারলেই এই সফর ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
লেখক : অধ্যাপক (অব.), সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়