ক্ষুধার কষ্ট উপলব্ধির জন্য মাহে রমজানের এই রোজা আল্লাহপাক আমাদের জন্য ফরজ করেছেন। কিন্তু হররোজ যাদের রোজা আমরা তাদের সেই কষ্ট আদতে কতটুকু উপলব্ধি করি? চার কোটি বনি আদম এখনো খালি পেটে কিংবা পেটে সামান্য ‘জামিন দিয়ে’ ঘুমুতে যায়! এখনো কোটি মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই! কয়েক কোটি বেকার, একটা চাকরির বিপরীতে কয়েকশ কিংবা কয়েক হাজার প্রার্থী দাঁড়িয়ে যায়। ভয়ংকর ঝুঁকি নিয়ে ভূমধ্যসাগর কিংবা আন্দামান সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে সলিল সমাধি হয়েছে অনেকের! এমন একটা দেশে বসে আমাদের সরকার ও বিরোধী দল নানা চেতনা নিয়ে ঝগড়া করে! স্বাধীনতার পর পঞ্চাশ বছর আমরা শুধু চেতনার ভূত কিংবা আমাদের ক্ষোভ-জিঘাংসার খোরাক জুগিয়েছি! এসব আমরা আর কতদিন বয়ে বেড়াব? নিজেদের পারস্পরিক ঘৃণা, ক্রোধ, অহং বা হ্যাডম ছাপিয়ে কখন আমরা এই হতভাগাদের দিকে দৃষ্টি দেব?
এতসব হতাশার মধ্যেও কিছু আশার আলো দেখতে পাচ্ছি!
প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দুই রহমান আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির বাইরে কিছু জিনিস প্রদর্শন করেছেন, যা দেখে মনের মধ্যে একটা ক্ষীণ আশার আলো জ্বলে উঠেছে। কেন যেন মনে হচ্ছে, এই দুই রহমান ইচ্ছা করলেই জাতির ভাগ্যটি বদলে দিতে পারেন (আল্লাহর কৃপায়)। সেই আশা থেকেই কিছু অসংগতি তুলে ধরছি সরকার ও বিরোধী দলকে ঠিক ট্র্যাকে রাখতে। এই কলামে মূলত সরকারকে নিয়ে লিখলেও আগামী কলামটিতে বিরোধী দল এবং নেতাকে নিয়ে কিছু লিখব।
২০১৬ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করতে সিঙ্গাপুর থেকে লন্ডনে উড়ে যাই নিজের পয়সা খরচ করে। ব্যক্তিগত কোনও ধান্দা বা মতলব ছিল না! শুধু মনের কৌতূহল মেটানোর জন্য। কয়েকদিন ছিলাম এবং প্রত্যেকদিন কয়েক ঘণ্টা ওয়ান টু ওয়ান আলাপ হয়েছে! সেই আলাপচারিতায় জনাব রহমান ৬০ শতাংশ সময় কথা বলেছেন, আমি বলেছি ৪০ শতাংশ। তখন আমার মনে হয়নি দেশের এত বড় একজন নেতার সঙ্গে কথা বলছি। জনাব রহমানকে যেমন দেখেছি, তেমনি বর্ণনা অত্যন্ত ঈমানদারির সঙ্গে করেছি । একটুও বাড়িয়ে বলিনি!
আমার এই মন্তব্যের জন্য সেদিন যারা আমাকে কটুবাক্য বলেছেন-ভাগ্যের কী সুমধুর পরিহাস, আজ তাদের মুখেই তারেক রহমানের প্রশংসা শুনে বিশেষ পুলক অনুভব করছি!! তাদের আগের বর্ণনার সঙ্গে পরের কথা মেলানোর জন্য তারা বলে, তারেক রহমান বদলে গেছেন! নতুন এই বিন্যাশে আমি বসন্তের কোকিলদের ঈর্ষা করছি না, দেশ ও রাজনীতির স্বার্থেই সতর্ক করছি।
মুখে মদিনার সনদের কথা বললেও হীরক রানি মূলত একজন দস্যু রানির স্টাইলে দেশটি শাসন করে গেছেন! কোরআন শরিফের একটি আয়াত উনি খুব বেশি পছন্দ করতেন, ‘আল্লাহ যাকে ইচ্ছা রাজত্ব দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা থেকে অপসারণ করেন।’ বাক্যটির প্রথম ‘যাকে’তে নিজেকে বসিয়ে এবং দ্বিতীয় ‘যাকে’তে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী খালেদা জিয়াকে বসিয়ে তিনি অপার্থিব একটা আনন্দ আস্বাদন করতেন!
তবে তিনি ক্ষমতা থেকে অপসারণের পর আর এই আয়াতটিকে পছন্দ করতেন না। তখন ভাবতেন তাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে রাজাকার কিংবা আমেরিকা/পাকিস্তানের গোপন ষড়যন্ত্র কাজ করেছে!
অথচ আল-ইমরানের পুরো বক্তব্যটি, ‘বলুন, হে আল্লাহ! রাজ্যের মালিক আপনি। আপনি যাকে ইচ্ছা রাজত্ব দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা রাজত্ব থেকে অপসারণ করেন। আপনি যাকে ইচ্ছা সম্মানিত করেন এবং যাকে ইচ্ছা অপমানিত করেন। সব কল্যাণ আপনার হাতেই। নিশ্চয়ই আপনি সবকিছুর ওপর সর্বশক্তিমান।’ (সুরা আল-ইমরান, আয়াত ২৬)
এই পুরো বক্তব্যটি কেউ অনুধাবন করতে পারলে সেই শাসক কখনোই জালেম হতে পারে না। আশা করব, শেখ হাসিনার মতো শুধু খণ্ডিত অংশ নহে, পুরো বক্তব্যটিই তারেক রহমানের কলবে প্রবেশ করুক। এটি পালন করলে এবং মনেপ্রাণে বিশ্বাস করলে সেই শাসকের সফলতা এবং ইজ্জতের দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহপাক নিজের হাতে নেবেন।
পরম করুণাময় জনাব রহমানকে এই পদে অধিষ্ঠিত করার আগে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে পার করিয়েছেন! দুনিয়ার কোনো অভিজ্ঞতাই অপ্রয়োজনীয় নহে! সেসব অভিজ্ঞতা আজ তার জন্য অত্যন্ত মূল্যবান হতে পারে, যদি সঠিকভাবে কাজে লাগান! প্রধানমন্ত্রীকে যতটুকু দেখেছি ও জেনেছি তাতে মনে হয় লোক চিনতে ভুল করবেন না। বিশেষ প্রয়োজনে অনেককে কাছে টেনেছেন, যাদের সঙ্গে এ দেশের নাড়ির কোনো সংযোগ নেই। বলা যায়, ওনারা সংযুক্ত হয়েছেন বাঘের লেজ হিসেবে। বাঘ লেজকে নাড়াবে, এটাই স্বাভাবিক । কিন্তু লেজ যদি বাঘকে নাড়ানো শুরু করে তবে তা শুধু তার জন্য না-জাতির জন্যও মহাবিপর্যয়ের কারণ হয়ে পড়বে!
দল ও দেশকে বদলাতে চাইলে আগে নিজেকে বদলাতে হবে
নিজেরা ডাক্তারের চেম্বারসহ নানা জায়গায় সিরিয়াল এগিয়ে নিতে করণিক বা পিয়নের হাতে টাকা গুঁজে দিই। সন্তানের বা পোষ্যের চাকরির জন্য মেধাবী কাউকে কনুই মেরে সরিয়ে দিয়ে ‘নিজের লোক’ বসাতে চাই। নিজের সুবিধা, আরাম কিংবা ব্যবসায়িক প্রয়োজনে স্পিড মানি দিই—এতে কোনো দুর্নীতি দেখি না। কিন্তু সেই আমিই আবার সরকারের দুর্নীতি নিয়ে ফেসবুক কিংবা মাইক ফাটিয়ে দিই। বিদ্যুৎ বিল ফাঁকি দিতে মিটার রিডারের হাতে কিছু তুলে দিই। আবার সেই মিটার রিডারের ঢাকায় চারটি বাড়ির কথা শুনে দুদককে গালি দিই!
আমি প্রতিদিন, প্রতিটি স্তরে, সুযোগমতো ঘুস দিচ্ছি কিংবা নিচ্ছি—কিন্তু সেটাকে দুর্নীতি বলে মনে করি না। বরং মনে করি, ‘এটা তো সিস্টেম!’ যেন সিস্টেমটা আকাশ থেকে পড়েছে, আমাদের আচরণ থেকে জন্ম নেয়নি।
এই দ্বিচারিতা শুধু রাজনীতির নয়; এটি আমাদের সামাজিক চরিত্রেরও প্রতিফলন। এখন থেকে দেড়শ, দুইশ বছর আগে ব্রিটিশ কর্মচারীরা তাদের গোপনীয় রিপোর্টে বিভিন্ন এলাকার বাঙালিদের চরিত্র সম্পর্কে যা বলে গেছেন, তা পড়ে চমকে ওঠি! আমরা নিয়ম ভাঙতে চাই, কিন্তু অন্যের নিয়ম ভাঙা সহ্য করতে পারি না। আমরা নিজের জন্য শর্টকাট চাই, কিন্তু রাষ্ট্রের কাছে নীতির শুদ্ধতা দাবি করি। আমরা ব্যক্তিগত জীবনে অনৈতিক সুবিধা নিতে লজ্জা পাই না, কিন্তু জনসমক্ষে নৈতিকতার পতাকা ওড়াতে ভালোবাসি।
রাষ্ট্র তো শেষ পর্যন্ত আমাদেরই প্রতিচ্ছবি। প্রশাসন, রাজনীতি, আমলাতন্ত্র—সবকিছুই এই সমাজ থেকেই উঠে আসে। যদি সমাজের শিরায় শিরায় অনিয়মকে ‘স্বাভাবিক’ হিসেবে গ্রহণ করা হয়, তবে শুধু আইন দিয়ে কতদূর শুদ্ধতা আনা সম্ভব?
একটি সরকার যেমন জবাবদিহির অধীন, নাগরিকও তেমনি নৈতিকতার অধীন। আমরা যদি নিজেদের আচরণে পরিবর্তন না আনি, তবে শুধু শীর্ষ নেতৃত্ব বদলালেই কি কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে?
নতুন সরকারের কাছে আমাদের দাবি থাকবে—স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ন্যায়বিচার। কিন্তু সেই দাবির নৈতিক শক্তি তখনই আসবে, যখন আমরা নিজেরাও ঘুস না দেওয়ার, অনৈতিক সুবিধা না নেওয়ার সাহস দেখাব। ২০ কোটি মানুষের দেশে নেতৃত্ব দেওয়া কঠিন—কিন্তু ২০ কোটি মানুষ যদি নিজ নিজ জায়গায় সৎ হওয়ার চেষ্টা করে, তবে সেই নেতৃত্ব অনেক সহজ হয়ে যায়।
দলীয় আমলা-কামলা আসলেই কতটুকু কাজে লাগে
এটা সত্যি পৃথিবীর সব সভ্য সরকার ক্ষমতায় বসে নিজ নিজ পছন্দের লোকগুলোকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসায়। এতে অন্যায় বা অন্যায্য কিছু হয়নি! তবে সম্প্রতি কয়েকটি নিয়োগ এবং তা নিয়ে ত্রস্ততা চোখে পড়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টের চিফ প্রসিকিউটর বদল নিয়ে অনেক কথা বলা হলেও এটাকে কেউ অন্যায্য বলছে না! তবে এই দুজন নিজ নিজ জায়গায় যে প্রফেশনাল দক্ষতা দেখিয়েছেন, আশা করছি পরবর্তীজন তা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হবেন। তা না হলে এটার দায় সরাসরি বর্তমান সরকারের ওপর বর্তাবে। জনগণের চোখ এবং কান এখন অনেক সজাগ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে মুখও ফুটে গেছে!
স্বাধীনতার পর থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ক্ষমতায় ছিল সাকল্যে ১৬ বছর। এই ১৬ বছরে কমপক্ষে কয়েক হাজার বুদ্ধিজীবী বা বিশিষ্টরা বিভিন্ন পাবলিক ইউনিভার্সিটির ভিসি, প্রো-ভিসি, প্রক্টর, রেজিস্ট্রার এরূপ পদাবলিসহ বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও দেশের নামিদামি সরকারি কলেজের প্রিন্সিপাল, পিএসসির সদস্যসহ এ রকম অনেক পদ অলংকৃত করেছেন! তাদের মধ্যে হেভিওয়েট থেকে মাঝারি পাল্লার হেভিওয়েট বুদ্ধিজীবীর সংখ্যা কমপক্ষে কয়েকশ তো হবেই। কিন্তু এই বিএনপি যখন ১/১১ নামক কারবালার মুখোমুখি হয়, তখন ওনাদের কারো তিলকটির দেখা মেলেনি। এ রকম কয়েকশ হেভিওয়েট বুদ্ধিজীবীর একজনকেও পত্রিকায় বিএনপির পক্ষে কলামজাতীয় কিছু লেখা বা টিভিতে কিছু বলা তো দূরের কথাÑচিঠিপত্র কলামেও কিছু লেখেননি! সবাই তখন ইয়া নাফ্সি, ইয়া নাফসি জপছিলেন।
কাজেই ভবিষ্যতেও ওনারা কোনো কাজে লাগবেন না। কাজেই শুধু দলীয় আনুগত্য নহেÑদক্ষতা ও যোগ্যতা দেখে এসব জায়গায় লোক বসান। শিক্ষামন্ত্রী যথার্থই বলেছেন, এডুকেশন সেক্টরই দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে পারে। দলবাজ, অযোগ্য চাটুকার-এসব কাণ্ডারি দিয়ে মানবসম্পদ তৈরির এই মহৎ উদ্দেশ্যটি কখনোই সাধিত হবে না।
মাত্র অর্ধ মাস বয়সি সরকারের যে বিষয়গুলো সমালোচনার মুখোমুখি হচ্ছে, এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের আগের গভর্নরকে অপসারণের পদ্ধতি এবং নতুন গভর্নরের নিয়োগটি টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ পদ! বিএনপির আদর্শে বিশ্বাসী এমন একজন বিতর্কমুক্ত ও যথাযথ যোগ্য ব্যক্তি কেন পাওয়া গেল না-তা সত্যি চিন্তার বিষয়! বর্তমানে যাকে বসানো হয়েছে তার যোগ্যতার প্রশ্নের চেয়ে নৈতিক প্রশ্নই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে! তিনি নিজে একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী, ঋণখেলাপিও বটে। তার সঙ্গে এই পজিশনটির কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট এড়ানোর উপায় নেই!
গভর্নর পরিবর্তন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সরকারের দুই মন্ত্রীর ব্যাংকের তারল্য সংকট মোকাবিলায় ১০০০ কোটি টাকা ইনজেক্ট করা হয়েছে! এতে মানুষ সহজেই সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেছে যে মাছের বাজারে বোধহয় বিড়ালকে চৌকিদার বানানো হয়েছে।
অহেতুক, এমন একটা অপবাদের বোঝা কাঁধে নিয়ে সামনের দুর্গম গিরি কান্তার মরু পার হতে হবে এই সরকারকে! জাপানে একটা প্রবাদ প্রচলিত আছে, ক্ষীরাক্ষেতে বসে জুতার ফিতা বাঁধতে যেও না, তাতে কৃষক ভাবতে পারেন যে তুমি চুরি করে ক্ষীরা খাচ্ছো! পাবলিক পারসেপশনের বিরুদ্ধে এ রকম জেদ কখনোই একটি সরকারের জন্য ভালো পরিণাম বয়ে আনবে না!
কিছু কানাওয়ালা মেছোভূত তাহলে কি সরকারে ঢুকে পড়েছে
দেশে কবির সংখ্যা নাকি কাকের সমান। এর মধ্যে দেশের প্রেসিডেন্ট (এরশাদ) কবিতা লেখা শুরু করলে আরেক কবি রেগে গিয়ে লিখেছিলেন, ‘সব শালাই কবি হতে চায়।’ এমন একটা দেশে কবিতায় একুশে পদক দেওয়ার মতো কবির অভাব পড়ে গেছে! শেষমেশ এমন একজনকে বাছাই করা হলো, যিনি কর্নেল তাহেরকে গ্লোরিফাই করে একদা কবিতা লিখেছেন। কেন তাকে প্রথমেই বাছাই করা হলো এবং পরে বাতিল করে করে আবার ফেলে দেওয়া থুতু মুখে নিতে হলো? দেশের কবি ও কবিতা সম্পর্কে যাদের স্পষ্ট ধারণা নেই, তাদের কেন এই বাছাইয়ের দায়িত্বটি দেওয়া হলো?
এসব দেখে লক্ষণ খুব ভালো ঠেকছে না! জুলাই সনদ থেকে সরকার আসলেই কী অর্জন করতে চায়Ñতাও অবোধগম্য ঠেকছে। এর মাধ্যমে বিরোধী দলের হাতে একটা মোক্ষম অস্ত্র ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে! যে কাজগুলো বিএনপিকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলবে-সেই কাজগুলোই কেন যেন বেশি বেশি করা হচ্ছে।
তথাকথিত এক-এগারো নিঃসন্দেহে দেশ ও জাতির বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র ছিল কিন্তু তার অন্যতম নৈতিক গ্রাউন্ড তৈরি করে দিয়েছিল বিচারপতিদের বয়স বাড়ানোর সেই কৌশলটি। তখন যারা এটি করেছিলেন, তাদের বিএনপির বড় সুহৃদ মনে হয়েছিল। জুলাই সনদকে নিয়ে বিএনপি কি একই ভুল পথে এগোচ্ছে?
জানি না, এর জবাব পেতে আমাদের আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে?
লেখক: কলামিস্ট