হোম > মতামত > উপসম্পাদকীয়

জাতীয়তাবাদের দ্বৈত রূপ ও অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ

শাহীদ কামরুল

এআই দ্বারা নির্মিত প্রতীকী ছবি।

জাতীয়তাবাদ নিয়ে আলোচনা করতে গেলে প্রথমেই যে মৌলিক প্রশ্নটি সামনে আসে, তা হলো—জাতি (Nation) ও রাষ্ট্রের (State) সম্পর্ক আসলে কীভাবে গড়ে ওঠে এবং কেন তা সভ্যতার অগ্রগতিতে কখনো আশীর্বাদ আবার কখনো অভিশাপ হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক চিন্তাধারার ইতিহাসে এ প্রশ্নের ভিন্ন ভিন্ন উত্তর পাওয়া যায়। গ্রিক চিন্তাবিদ প্লেটো ও এরিস্টটল সমাজ ও রাষ্ট্রকে মানুষের প্রাকৃতিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করেছিলেন। তাদের ধারণা ছিল, রাষ্ট্র হলো একধরনের স্বাভাবিক সংগঠন, যেখানে মানুষ তার নৈতিক ও রাজনৈতিক সত্তাকে পূর্ণতা দেয়। তবে ‘জাতি’ ধারণাটি তখনো আধুনিক অর্থে গড়ে ওঠেনি। আধুনিক জাতীয়তাবাদ উত্থিত হয় মূলত ১৮০০ শতক থেকে, বিশেষ করে ফরাসি বিপ্লবের পর।

ইমানুয়েল কান্ট রাষ্ট্র ও জাতির সম্পর্ককে নৈতিকতার আলোকে বিচার করেছেন। কান্ট মনে করতেন, রাষ্ট্র ও আইন অবশ্যই যুক্তি এবং ‘universal moral law’-এর ভিত্তিতে গঠিত হতে হবে। রাষ্ট্র যদি শুধু আবেগপ্রসূত জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে চলে, তবে তা মানবতার সর্বজনীন নৈতিক আদর্শের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি করবে। এ কারণেই তিনি উগ্র জাতীয়তাবাদকে বিপজ্জনক বলে আখ্যা দেন। কান্টের ‘Perpetual Peace’ প্রবন্ধে তিনি যে আন্তর্জাতিক নৈতিক শৃঙ্খলার কথা বলেছেন, তা জাতীয়তাবাদের বিকৃত রূপের বিপরীতে এক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রতিফলন। অন্যদিকে হেগেল রাষ্ট্রকে নৈতিকতার সর্বোচ্চ রূপ হিসেবে দেখলেও জাতীয়তাবাদ নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন। তার মতে, রাষ্ট্র একটি নৈতিক সংগঠন, যেখানে জনগণের স্বাধীনতা ও দায়িত্ব মিলিত হয়। কিন্তু রাষ্ট্র যদি শুধু জনগণের আবেগ দ্বারা চালিত হয়, তবে তা নৈতিকতার জায়গা থেকে সরে গিয়ে ধ্বংসের পথে যাবে। হেগেলের চিন্তায় জাতীয়তাবাদ একটি শক্তি, তবে তা অবশ্যই যুক্তি, নৈতিকতা ও ন্যায়নীতির আলোকে নিয়ন্ত্রিত হতে হবে। কার্ল মার্কস জাতীয়তাবাদকে সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করেন। তার মতে, জাতীয়তাবাদ আসলে একধরনের ভ্রান্ত চেতনা (false consciousness), যা জনগণকে প্রকৃত শ্রেণি-সংগ্রাম থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। ভাষা, সংস্কৃতি বা জাতিগত আবেগকে শাসক শ্রেণি প্রায়ই নিজেদের আধিপত্য কায়েমের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। পাকিস্তান সৃষ্টির পর পূর্ববাংলার মানুষের ওপর উর্দু চাপিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে মার্কসবাদী বিশ্লেষণে শাসক শ্রেণির ক্ষমতা কায়েমের এক কৌশল হিসেবেই দেখা যায়। এখানে ভাষা আর শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং ক্ষমতা ও আধিপত্যের প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়।

জাতীয়তাবাদের আরেকটি প্রভাবশালী তাত্ত্বিক ভিত্তি পাওয়া যায় ফরাসি চিন্তাবিদ আর্নেস্ট রেনানের লেখায়। রেনান তার বিখ্যাত বক্তৃতা What is a Nation? (১৮৮২)-এ বলেছিলেন, একটি জাতি মূলত জনগণের দৈনন্দিন গণভোট, অর্থাৎ প্রতিদিনের সম্মতি ও ঐকমত্য। জাতি গঠনের জন্য অনেক সময় অতীতের ক্ষত ও বিভেদ ভুলে যেতে হয়। ফরাসিরা শতাব্দীপ্রাচীন ধর্মীয় বিভেদ অতিক্রম করে যেমন একটি ‘ফরাসি’ পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, তেমনি যেসব জাতি অতীতের ক্ষত মুছতে পারে না, তাদের জন্য অপেক্ষা করে ভাঙন ও সহিংসতা। যুগোস্লাভিয়ার ভাঙন এবং সার্বদের গণহত্যা তারই উদাহরণ। বেনেডিক্ট অ্যান্ডারসনের বিখ্যাত তত্ত্ব Imagined Communities (১৯৮৩) জাতীয়তাবাদকে নতুন আলোয় ব্যাখ্যা করে। তার মতে, জাতি আসলে একটি ‘কল্পিত সম্প্রদায়’ (imagined community), যা ভাষা, সাহিত্য, সংবাদপত্র ও শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে নির্মিত হয়। মানুষ কখনো সব সহনাগরিককে ব্যক্তিগতভাবে চেনে না, তবু ভাষা ও সংস্কৃতির কারণে তাদের সঙ্গে একটি কল্পিত সংহতি অনুভব করে। বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন এই তত্ত্বের একটি সুস্পষ্ট উদাহরণ। এখানে দেখা যায়, ভাষাগত ঐক্য মানুষকে একই জাতির কল্পনায় আবদ্ধ করলেও, সেই ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা বিভাজন ও বিদ্রোহ ডেকে আনে। মিশেল ফুকো এর ডিসকোর্স (discourse) তত্ত্ব জাতীয়তাবাদের সমালোচনা বুঝতে বিশেষভাবে সহায়ক। ফুকোর মতে, ক্ষমতা সবসময় জ্ঞান ও ভাষার মাধ্যমে কাজ করে। যেকোনো সত্য, যেকোনো পরিচয় আসলে একটি নির্দিষ্ট ক্ষমতার ডিসকোর্স দ্বারা গঠিত হয়। জাতীয়তাবাদও একধরনের ডিসকোর্স, যা জনগণকে নির্দিষ্ট এক সত্যে বিশ্বাসী হতে বাধ্য করে। ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ, ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদ কিংবা বর্ণভিত্তিক জাতীয়তাবাদ—সবই ক্ষমতার কৌশল, যা জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করে। ভারতের বর্তমান হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদকে ফুকোর আলোচনার আলোকে বিশ্লেষণ করা যায়। এখানে ধর্মীয় পরিচয়কে রাজনৈতিক ক্ষমতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে নাগরিক পরিচয়ের পরিবর্তে ধর্মীয় পরিচয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সমালোচনা বিশেষ প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার বিখ্যাত Nationalism (১৯১৭) গ্রন্থে জাতীয়তাবাদকে ‘organised selfishness’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। তার মতে, জাতীয়তাবাদ তখনই বিপজ্জনক হয়ে ওঠে, যখন তা মানবতার ঊর্ধ্বে অবস্থান নেয়। দেশপ্রেম যদি মানবপ্রেমকে অস্বীকার করে, তবে তা ধ্বংসের কারণ হয়। রবীন্দ্রনাথ ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে সমর্থন দিলেও উগ্র জাতীয়তাবাদ ও সংকীর্ণ স্বদেশপ্রেমকে সমালোচনা করেছিলেন। তিনি মনে করতেন, সত্যিকার জাতীয়তাবাদ মানবতাবাদ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারে না। রবীন্দ্রনাথের সমালোচনাকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে আনলে দেখা যায়, ভারতের হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি কিংবা বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিচয়নির্ভর বিভাজন রবীন্দ্রনাথের আশঙ্কাকেই সত্য প্রমাণ করে। যখন জাতীয়তাবাদ শুধু অতীতনির্ভর গৌরবচর্চা হয়ে দাঁড়ায়, তখন তা জনগণকে বিভক্ত করে এবং সহিংসতা বাড়ায়। জাতীয়তাবাদ প্রসঙ্গে একজাতি রাষ্ট্র (nation-state) ও বহুজাতিক রাষ্ট্রের (multinational state) বিতর্কও গুরুত্বপূর্ণ। জন স্টুয়ার্ট মিল মনে করতেন, বহুজাতি রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা টেকসই হয় না, কারণ ভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির জনগণ রাজনৈতিক ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। তবে আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলোচনায় মিলের এই বক্তব্য প্রশ্নবিদ্ধ। সুইজারল্যান্ড, কানাডা কিংবা যুক্তরাষ্ট্র প্রমাণ করেছে যে বৈচিত্র্যের মধ্যেও গণতন্ত্র টেকসই হতে পারে। লর্ড অ্যাকটন বহুজাতিক রাষ্ট্রকে সভ্যতার অগ্রগতির জন্য অপরিহার্য বলে মনে করতেন। তার মতে, বিভিন্ন জাতির সহাবস্থান পারস্পরিক বিনিময় ও শিক্ষার সুযোগ তৈরি করে, যা সভ্যতাকে সমৃদ্ধ করে। অ্যাকটনের যুক্তি আজকের বিশ্বায়নের যুগে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। ইউরোপীয় ইউনিয়ন তারই একটি কার্যকর উদাহরণ, যেখানে ভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির দেশগুলো একটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোয় সংযুক্ত হয়ে কাজ করছে।

অর্থনৈতিক জাতিবাদ এমন এক চিন্তাধারা, যেখানে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নীতি গঠিত হয় জাতীয় স্বার্থ, জনগণের কল্যাণ এবং রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষার উদ্দেশ্যে। এর মৌলিক ধারণা হলো—অর্থনীতি শুধু মুক্ত বাজারের যুক্তি দিয়ে পরিচালিত হতে পারে না, বরং রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো দেশীয় শিল্প, কৃষি ও শ্রমশক্তিকে রক্ষা করা এবং বহুজাতিক পুঁজির প্রভাব সীমিত রাখা। অর্থনৈতিক জাতিবাদ প্রথমে স্পষ্টভাবে দেখা দেয় ইউরোপীয় মারক্যান্টিলিস্ট যুগে (১৬শ-১৭শ শতক), যেখানে রাষ্ট্রের শক্তি নির্ভর করত তার সম্পদ ও বাণিজ্য উদ্বৃত্তের ওপর। বিদেশি পণ্যের আমদানি কমিয়ে, নিজস্ব শিল্পকে সুরক্ষিত রেখে এবং উপনিবেশ থেকে সম্পদ আহরণ করে জাতীয় অর্থনৈতিক ক্ষমতা গড়ে তোলাই তখনকার মূলনীতি ছিল। এই ধারাটিই আধুনিক অর্থনৈতিক জাতিবাদের ভিত্তি তৈরি করে। তত্ত্বগতভাবে অর্থনৈতিক জাতিবাদের অন্যতম প্রবক্তা ফ্রিডরিশ লিস্ট। তার গ্রন্থ The National System of Political Economy (১৮৪১)-এ তিনি দেখিয়েছিলেন, মুক্তবাণিজ্য আসলে শক্তিশালী অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য সুবিধাজনক, দুর্বল দেশগুলোর জন্য নয়। একটি অনুন্নত দেশ যদি বিনা সুরক্ষায় বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়, তবে তার দেশীয় শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই তিনি শিল্পের প্রাথমিক পর্যায়ে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ ও সুরক্ষাবাদের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন। এর ফলে লিস্টকে অনেকেই ‘অর্থনৈতিক জাতিবাদের জনক’ বলে অভিহিত করেন। তার এই ধারণা পরে জার্মানির শিল্পোন্নয়ন, জাপানের মেইজি পুনর্গঠন কিংবা দক্ষিণ কোরিয়ার প্রাথমিক শিল্পনীতি গঠনে প্রভাব ফেলেছিল।

কিন্তু অর্থনৈতিক জাতিবাদকে ঘিরে সমালোচনা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। ধ্রুপদি উদার অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথ The Wealth of Nations (১৭৭৬)-এ দেখান যে, ব্যক্তিগত স্বার্থের স্বাধীন অনুসরণ এবং মুক্তবাজার প্রতিযোগিতাই সর্বাধিক জাতীয় সমৃদ্ধি আনে। স্মিথের মতে, রাষ্ট্র যদি অতিরিক্ত সুরক্ষাবাদী হয়, তবে তা অদক্ষতা ও দুর্নীতিকে উসকে দেয়, জনগণও উচ্চমূল্য ও নিম্নমানের পণ্যের বোঝা বহন করে। জন স্টুয়ার্ট মিলও মুক্তবাণিজ্যকে মানব স্বাধীনতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতার সঙ্গে সম্পর্কিত করেছেন। তাদের দৃষ্টিতে অর্থনৈতিক জাতিবাদ একধরনের কৃত্রিম বাধা, যা উন্নয়নকে দীর্ঘ মেয়াদে ব্যাহত করে।

তবে আধুনিক সমালোচকরা দেখিয়েছেন, মুক্তবাণিজ্যের তত্ত্ব মূলত শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর আধিপত্যকে বৈধতা দেয়। বিশ্বায়নের যুগে IMF, World Bank বা WTO যেভাবে মুক্ত বাজারনীতি চাপিয়ে দেয়, তাতে দুর্বল রাষ্ট্রগুলো নির্ভরশীল হয়ে পড়ে এবং তাদের স্থানীয় শিল্প প্রতিযোগিতায় টিকতে পারে না। বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রীয় জাতীয়করণ ও আমদানি প্রতিস্থাপন নীতি (import substitution) গ্রহণ করা হয়েছিল, যা অর্থনৈতিক জাতিবাদের একটি রূপ। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিশ্বব্যাংক ও IMF-এর শর্তসাপেক্ষ মুক্তবাজার নীতির কারণে এই সুরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে, দেশীয় শিল্প দুর্বল হয়ে যায় এবং বৈদেশিক নির্ভরতা বেড়ে যায়।

অর্থনৈতিক জাতিবাদের সমালোচনায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি হলো মার্কসবাদী বিশ্লেষণ। কার্ল মার্কস জাতীয়তাবাদকেই দেখেছিলেন শাসক শ্রেণির ভ্রান্ত চেতনা (false consciousness) হিসেবে। অর্থনৈতিক জাতিবাদও তাই মূলত শাসক শ্রেণির ক্ষমতা রক্ষার হাতিয়ার হতে পারে। রাষ্ট্র যখন সুরক্ষাবাদী নীতি নেয়, তখন অনেক সময় প্রকৃত শিল্পোন্নয়নের পরিবর্তে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী ভর্তুকি, একচেটিয়া ব্যবসা ও দুর্নীতির মাধ্যমে লাভবান হয়। ফলে জাতীয় সম্পদ জনগণের কাছে না গিয়ে সীমিত একটি শ্রেণির হাতে কেন্দ্রীভূত হয়। আন্তোনিও গ্রামশির ‘হেজেমনি’ ধারণা ব্যবহার করেও বলা যায়, অর্থনৈতিক জাতিবাদ প্রায়ই জনগণের সম্মতিকে নিয়ন্ত্রণ করে একটি মতাদর্শে পরিণত হয়, যা উন্নয়নের নামে রাজনৈতিক আধিপত্যকে বৈধতা দেয়।

অন্যদিকে সমালোচকরা আরো বলেন, অর্থনৈতিক জাতিবাদ বৈশ্বিক সহযোগিতা ও বহুপক্ষীয় সম্পর্কের প্রতিবন্ধক হয়ে ওঠে। কান্টের Perpetual Peace প্রবন্ধে বলা হয়েছিল, রাষ্ট্রগুলো যদি শুধু আত্মকেন্দ্রিক স্বার্থে চলে, তবে আন্তর্জাতিক নৈতিকতা ও মানবতার সর্বজনীন নীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কান্টের এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বলা যায়, অর্থনৈতিক জাতিবাদ বৈশ্বিক ন্যায়বিচারের বিরোধী হতে পারে, কারণ এটি সীমান্ত অতিক্রমী মানবিক সহযোগিতার বদলে শুধু রাষ্ট্রীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়। তবে বাস্তবতায় দেখা যায়, অর্থনৈতিক জাতিবাদ এক দ্বিমুখী শক্তি। একদিকে এটি অনুন্নত রাষ্ট্রকে আত্মনির্ভরশীল হতে সাহায্য করে, জনগণের অর্থনৈতিক অধিকার রক্ষা করে এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতার ভিত্তি গড়ে তোলে। অন্যদিকে এটি অতিরিক্ত সুরক্ষাবাদ, দুর্নীতি ও একনায়কতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া যেমন অর্থনৈতিক জাতিবাদ ব্যবহার করে নিজেদের শিল্পোন্নয়ন ঘটিয়েছে, তেমনি লাতিন আমেরিকার অনেক দেশ অতিরিক্ত সুরক্ষাবাদে পড়ে স্থবির হয়ে গেছে।

সবশেষে বলা যায়, অর্থনৈতিক জাতিবাদ হলো এমন এক জটিল মতবাদ, যা শুধু অর্থনীতির নয়, বরং রাজনীতি, সংস্কৃতি ও নৈতিকতার সঙ্গেও সম্পর্কিত। এটি তখনই কার্যকর ও ন্যায়সংগত হয় যখন তা রিপাবলিকান নীতি—জনগণের সার্বভৌমত্ব, গণতান্ত্রিক জবাবদিহি এবং স্বচ্ছতা—এর আলোকে পরিচালিত হয়। অন্যথায় এটি ক্ষমতার কৌশলে পরিণত হয়ে জাতীয় সম্পদকে সীমিত গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত করে এবং জনগণের মুক্তি নয়, বরং নতুন ধরনের শোষণ তৈরি করে।

(পরবর্তী বিষয় : বাঙালি, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, বাঙালি জাতীয়তাবাদের রাজনীতি)

লেখক : সাবেক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও গবেষক, ফ্রাই ইউনিভার্সিটি বার্লিন, জার্মানি

যোগাযোগ : sahidkamrul25@gmail.com

ঢামেকে ফেলে যাওয়া নিহত কিশোরীর পরিচয় শনাক্ত, গ্রেপ্তার ৩

রায়পুরে নৌকায় নিয়ে গৃহবধূর শ্লীলতাহানির অভিযোগ

ইসরাইলপন্থি প্রার্থীকে পরাজিত করে মার্কিন কংগ্রেসে জয়ী আয়েশা

খেলাপি ঋণ রেখে প্রতিষ্ঠান ছাড়লেও নির্বাচনে অযোগ্য

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের শর্টকাট সমাধান দেখছে না সরকার

ইরানকে একঘরে করতে ট্রাম্পের পরিকল্পনায় চীন-রাশিয়ার বাধা

ফিলিস্তিনে বসতি নির্মাণে ইসরাইলের টেন্ডার, পশ্চিমা দেশগুলোর নিন্দা

খালে পানি না থাকায় এক নৌকা দিয়েই ‘নৌকা বাইচ’

জ্বালানির দ্বিগুণ আমদানিতেও সামাল দেওয়া যাচ্ছে না সংকট

কুলিয়ারচরে শিশুধর্ষণের অভিযোগে বিএনপি নেতা বহিষ্কার