হোম > রাজনীতি > এবি পার্টি

অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের নীতি পুনর্বহালের দাবি এবি পার্টির

স্টাফ রিপোর্টার

ছবি: সংগৃহীত

অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ বিষয়ক নীতিমালা বাতিল করে পুরোনো নীতিমালায় ফিরে যাওয়ার প্রতিবাদ জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলটি বলেছে, এই সিদ্ধান্তে সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের স্বার্থ উপেক্ষিত হয়েছে এবং ওষুধ ব্যবসায়ীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। দলটি জনগণের পকেট কাটার নীতি বাতিল করা ও অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের নীতি পুনর্বহাল করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বিজয়নগরে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থের পরিবর্তে সরকার ওষুধ সিন্ডিকেটের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। গরিব মানুষের পক্ষে কথা বলার কেউ নেই বলেই অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, দেশের ওষুধশিল্প আজ একটি বড় অর্থনৈতিক খাত। দেশে বর্তমানে প্রায় ৯৮ শতাংশ ওষুধ উৎপাদিত হলেও সাধারণ মানুষকে ওষুধ কিনতে গিয়ে উচ্চমূল্য দিতে হচ্ছে। এ অবস্থায় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতিমালা থাকা জরুরি।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ১৯৯৪ সালের পরিপত্রে ১১৭টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা-২০২৬’ এবং ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি-২০২৬’ প্রণয়ন করে তালিকাটি ২৯৭টিতে উন্নীত করে। কিন্তু বর্তমান সরকার গত ৩ আগস্ট এসব নীতিমালা বাতিল করে পুরোনো কাঠামোয় ফিরে গেছে।

ফুয়াদ বলেন, জনস্বার্থে নেওয়া একটি নীতিমালা বাতিল করে সরকার জনগণের পকেটের ওপর চাপ আরও বাড়ানোর পথ তৈরি করেছে। এটি সাধারণ মানুষের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং সরকারের ঘোষিত সংস্কার ও অঙ্গীকারের সঙ্গেও অসামঞ্জস্যপূর্ণ। ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণের নীতিমালা বাতিল করে সরকার প্রকারান্তরে জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর দেশের ওষুধবাজারে ভারতের মতো বড় উৎপাদনকারী দেশের প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে সরকার, ওষুধশিল্পের মালিক ও চিকিৎসকদের জনগণের স্বার্থকে সামনে রেখে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নির্ধারণ করা উচিত ছিল। কিন্তু তা না করে পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়া হয়েছে।

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, দেশে ব্র্যান্ডের নামে বিপুলসংখ্যক ওষুধ বাজারজাত হচ্ছে। একই জেনেরিকের বিভিন্ন কোম্পানির ওষুধের নাম ও মূল্য নিয়ে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। এর ফলে রোগী ও সাধারণ ভোক্তারা বিভ্রান্ত ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

তিনি বলেন, একই জেনেরিকের ওষুধকে ভিন্ন ভিন্ন ব্র্যান্ড নামে বাজারজাত করার প্রবণতা কমাতে হবে। ডাক্তারদের প্রভাবিত করতে কোম্পানিগুলোর উপহার ও প্রণোদনা দেওয়ার সংস্কৃতিও বন্ধ করতে হবে।

এবি পার্টি ওষুধ খাত সংস্কারে কয়েকটি দাবি ও প্রস্তাব তুলে ধরে-

১. বাতিল করা ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা-২০২৬’ ও ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি-২০২৬’ পুনর্বহাল করতে হবে।

২. অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে কার্যকর মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

৩. একই জেনেরিকের ওষুধের ক্ষেত্রে অযৌক্তিক ব্র্যান্ড বৈচিত্র্য ও মূল্যবৈষম্য কমাতে হবে।

৪. ওষুধ কোম্পানির চিকিৎসকদের প্রভাবিত করার জন্য উপহার ও অনৈতিক প্রণোদনা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

৫. অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ সরকারি ব্যবস্থার পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়েও সহজলভ্য করার উদ্যোগ নিতে হবে।

৬. দেশীয় ওষুধশিল্পের সক্ষমতা ও নতুন ওষুধ উদ্ভাবন সম্পর্কে জনগণকে তথ্য দিতে দায়িত্বশীল গণমাধ্যম প্রচারের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

৭. এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পরবর্তী সময়ে দেশের ওষুধশিল্পকে বিদেশি বাজারের প্রতিযোগিতা থেকে সুরক্ষা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য দীর্ঘমেয়াদি নীতি গ্রহণ করতে হবে।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ওষুধ মানুষের জীবন রক্ষার উপকরণ, কেবল ব্যবসার পণ্য নয়। তাই ওষুধনীতির কেন্দ্রে থাকতে হবে রোগী ও সাধারণ মানুষকে। সরকারকে ওষুধ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের নয়, জনগণের স্বার্থে অবস্থান নিতে হবে।

তিনি ওষুধশিল্পের মালিক ও সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে বলেন, দয়া করে মালিকপক্ষকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করাবেন না। ব্যবসার স্বার্থ থাকবে, কিন্তু তার আগে মানুষের জীবন ও জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূইয়া, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, সদস্য সচিব বারকাজ নাসির আহমদ, ছাত্রপক্ষের সাধারণ সম্পাদক রাফিউর রহমান ফাত্তাহ, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, রিপন মাহমুদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সহদপ্তর সম্পাদক মশিউর রহমান মিলু, সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্দুর রব জামিল, কেন্দ্রীয় নেতা সাব্বির আহমেদ তানিম, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব রাশিদা আক্তার মিতু, রমনা থানার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সী, যাত্রাবাড়ী থানার আহ্বায়ক মিয়া সুলতান আরিফ, বরিশালের নেতা জাকির হোসেন বারী, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আহ্বায়ক তাজুল ইসলাম এবং হাতীবান্ধা উপজেলা আহ্বায়ক আশরাফুল ইসলাম।

সাইবার আইনের নামে কণ্ঠ রোধের চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না: ফুয়াদ

বিসিএসের গেজেট থেকে বাদ ৫৭ জন, রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন এবি পার্টির

‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি সরকার পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছেন’

মিরপুরে রাড্ডা হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুরে এবি পার্টির তীব্র নিন্দা

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো সরকারের দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ

জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে ২০ টাকা বাড়িয়ে জনগণের ওপর বোঝা চাপানো হয়েছে

রিমান্ডে এনসিপি নেতা গাজী তানভীরের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ, এবি পার্টির উদ্বেগ

সংবিধান সংশোধন কমিটির সভায় অংশ নেবে না এবি পার্টি

‘গুমের তদন্ত অভিযুক্ত বাহিনীর হাতে নয়, স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের অধীনে দিতে হবে’

কর্মসংস্থান সৃষ্টির বদলে সরকার বেকার সমস্যাকে প্রকট করে তুলছে: মঞ্জু