শফিকুল ইসলাম মাসুদ
সংবিধান রক্ষা করতে গেলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে এখন বিদেশে থাকতে হতো বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াত ইসলামীর সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
পটুয়াখালী-২ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, ৭২ সংবিধানের আলোকে আজকে আমাদের এখানে থাকার কথা নয়। আজকে প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশে থাকার কথা না, দেশের বাইরে থাকার কথা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এখন দেশের বাইরে থাকার কথা। তিনি বলেন, গণভোটকে অস্বীকার করা হলে গোটা বাংলাদেশ আবার জেগে উঠে গণভোট তারা কার্যকর করবে।
রাষ্ট্রপতির ভাষনের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুল ইসলাম বলেন, এখন আমাদের নতুন করে ভাবতে হচ্ছে কথা বলতে গিয়ে বিগত ১৭ বছরের মত কোনো একটা বৈষম্যের মধ্যে পড়ে যাচ্ছি কী না? এই সরকার প্রতিষ্ঠার পর শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারে কতটুকু কার্যকরিতা নিয়ে এসেছে তা জানতে পারিনি।
গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ বিষয়ে সরকারি দলের বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আমরা সংবিধান নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে করতে… সংবিধান যদি আমাদের রক্ষা করতে পারতো, তাহলে সেদিন বালুর ট্রাক সরানোর জন্য সংবিধানের পৃষ্ঠা আমাদের খুজঁতে হতো। সংবিধান যদি আমাদের রক্ষা করতে পারতো তাহলে ৭২ সংবিধানের আলোকে আজকে আমাদের এখানে থাকার কথা না। আমাদের এই সংসদে নয়, জেলাখানায় থাকার কথা। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে থাকার কথা না, দেশের বাইরে থাকার কথা। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এখন দেশের বাইরে থাকার কথা। সংবিধান মানতে হলে যে বাচ্চাদেরকে আজকে এখানে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে, দীক্ষা দেওয়া হচ্ছে কিংবা তাদেরকে কোনো কোনো ক্ষেত্রে জাসদের সাথে তুলনা করা হচ্ছে- সেই বাচ্চাদের নিয়ে আমরা এই সরকার দলের লোকদেরকে, সরকার দলের সম্মানিত নেতৃবৃন্দকে আমরা চোখের পানিও ফেলতে দেখেছি। আবার কাউকে কাউকে এ কথা বলতেও শুনেছি যে এই সমস্ত বাচ্চাদের বা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক ছিল না।
তিনি বলেন, আমরা খুব লজ্জিত হই- আমাদের এই বর্তমান প্রেক্ষাপটটা নতুন করে যে গণভোটের.. ন্যয্যতা-অন্যায্যতা আমাদেরকে শেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। যখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মহাসচিবকে কয়েক হাজার পুলিশের বেষ্টনির মাঝখানে একা একটা মোবাইল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি, তখন সংবিধান আমাদের রক্ষা করতে পারেনি। আমার ৩৫০ মামলার জামিন পেতে সাত মাস সময় লেগেছে, আর বের হতে সময় লেগেছে সাড়ে চার বছর। আমি সেই সাড়ে চার বছরে তিনবার রি-অ্যারেস্ট হয়ে দুবার গুম হয়েছি। আমি তখন ডিজিএফআই, এনএসআই, ডিবি, এসবির কাছে জানতে চেয়েছিলাম আমার সামনে দিয়ে বড় বড় নেতারা বের হয়ে যাচ্ছে আমার অপরাধটা কি? তখন বলেছিল তারা হুমকি না, হুমকি আপনারা। আমাদেরকে যখন শেখ হাসিনার সরকার নিষিদ্ধ করেছিল তখন বলেছিল এই জামাত শিবিরে হচ্ছে সবচেয়ে বড় সমস্যা, তাদেরকে নিষিদ্ধ করলে এই আন্দোলন থেমে যাবে।
শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেনআজ একটা কথা পরিষ্কার বলতে চাই, এই গণভোট নিয়ে আমাদের মাথা ব্যথার মূল কারণ হচ্ছে এখানেই। শেখ হাসিনা আমাদেরকে যথার্থ টার্গেটটা করেছিল সেই টার্গেটের মূল লক্ষ্য ছিলাম আমরা। আমাদেরকে বলা হয়েছিল একটা গুলি করলে একটা সরে বাকিগুলো লড়ে না। সেই লড়ে না লোকগুলো ছিলাম আমরা। যার কারণে আমাদেরকে তারা ভয় পায়। আমরা এখন বর্তমান সময় ভিডিও দেখতে পাই যে, শেখ হাসিনা বাইরে থেকে বলেছিল আমরা এই দলকে ভোট দিতে বললাম আর সেই দল আমাদের সাথে আবার বিশ্বাস ঘাতকতা করেছে। শেখ হাসিনার বক্তব্য শোনার পর আমরা কাউকে আজকে এখানে বলতে শুনি নাই, শেখ হাসিনার ওই বক্তব্য সঠিক নয়।
তিনি বলেন, এই মানুষ প্রতারিত হয়েছে, বেইমানি করা হয়েছে। আবার যদি গণভোট, জুলাই সনদ নিয়ে এই জাতির সাথে প্রতারণা করা হয় তাহলে মূল্য দিতে হবে শুধু নয়, আবার আমাদেরকে ১৭ বছরের সেই জেল জুলুম নিপীড়ন গুম খুনের জায়গায় আমাদেরকে ফিরে যেতে হবে। আমি মনে করি পরিষ্কার বক্তব্য গণভোটের প্রতি সমর্থন না জানিয়ে জুলাই সনদকে যদি ইগনোর করা হয় তাহলে আমাদেরকে কিন্তু আবার সেই গুম-খুন- আয়নাঘরের দিকে ধাবিত করা হবে। গণভোটের বিরোধিতা করার অর্থ হচ্ছে আমরা আয়নাঘর সমর্থন করতে চাই। গণভোটের বিরোধিতা করা মানে হচ্ছে ৭০ শতাংশ মানুষকে আমরা অন্যায্যভাবে তাদেরকে ধিক্কার জানাতে চাই। আমি এখানে স্পষ্ট বলতে চাই আপনারা যেমন ৫১% সমর্থন নিয়েছেন, ৭০% প্রায় জনগণ কিন্তু গণভোটের পক্ষে তারা রায় দিয়েছে। আপনাদের চেয়ে সেই ৫১% এর তুলনায় সেই ৭০% প্রায় গণভোটকে যদি আপনারা অস্বীকার করেন তাহলে বলব গোটা বাংলাদেশ আবার জেগে উঠে গণভোট তারা কার্যকর করবে।
মাসুদ আরো বলেন, সংবিধানের লাইন ধরে ধরে যেতে হলে আমাদের নেতৃবৃন্দকে ফাঁসির মঞ্চে যেতে হতো না। আমার মত ছোট মানুষের কাছে সে সময় ডিজেএফআইয়ের থেকে প্রস্তাব এসেছিল- আপনারা কি চান? মন্ত্রিত্ব চান? দেশ পরিচালনা চান? সবকিছু দেওয়া হবে- শুধু শেখ হাসিনার নীতিতে আসেন। সেই নীতি তো ছিল ৭২ এর সংবিধান। সেই নীতি নিয়ে আজকে কেন এখানে এত কথা বলা হচ্ছে? আমরা যদি ৭২ এর সংবিধানকে ভালোবাসি তাহলে এখানকার নেতৃবৃন্দ… মরহুম বেগম খালেদা জিয়া নিজে বলেছিল আমরা সুযোগ পেলে এই সংবিধানকে ছুড়ে ফেলে দেব। সেই সংবিধানের প্রতি আজকে বর্তমান সরকারি দলের কেন এত প্রেম জাগ্রত হয়েছে, এটা বাংলাদেশের মানুষের জানার অধিকার আছে।