এবারের এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখা।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সূচনা কমিউনিটি সেন্টারে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে সংবর্ধনা ক্রেস্ট ও উপহারসামগ্রী তুলে দেন অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. রেজাউল করিম বলেন, “নৈতিকতা বিবর্জিত শিক্ষাব্যবস্থা পরিবর্তন না করলে এদেশ দুর্নীতিতে পুনরায় চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।”
তিনি বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় একজন মানুষকে ধর্মচর্চা ও নৈতিকতার চর্চায় উদ্বুদ্ধ করা হয় না। বরং এই শিক্ষাব্যবস্থার কারণে দেশে দিন দিন দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার আগাগোড়া সবকিছুই পরিবর্তন করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ড. রেজাউল করিম বলেন, নিজেদের ক্যারিয়ারকে আগামী দিনে জাতির কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে। শুধু মেধাবী হলেই হবে না; ব্যক্তিজীবনে সৎ হতে হবে। দেশপ্রেমকে বুকে ধারণ করে আগামী বাংলাদেশকে ইনসাফের বাংলাদেশে পরিণত করার জন্য শিক্ষার্থীদের ভূমিকা রাখতে হবে।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ। জুলাই আন্দোলনে ছাত্রসমাজ রাস্তায় নেমে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে একটি নতুন সম্ভাবনার বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন দেখেছিল, তা এখনো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়নি।
তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেদের দক্ষ ও গুণগত মানসম্পন্ন মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর পশ্চিমের সভাপতি মুহিব্বুল্লাহ আল হুসাইনী। শাখা সেক্রেটারি কবিরুল ইসলাম রাজুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার আল মামুন রাসেল, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক আমীরুল ইসলামসহ শাখার বিভিন্ন দায়িত্বশীলবৃন্দ ও অন্যান্যরা।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানানো হয় এবং তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন ও কর্মজীবনে দেশ ও সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।