দেশব্যাপী বন্যা, অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও জলাবদ্ধতার কারণে এইচএসসি ও আলিম সমমানের পরীক্ষা নিয়ে সৃষ্ট উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক একাধিক শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে শিক্ষা প্রশাসনে আরও দূরদর্শী, সমন্বিত ও জবাবদিহিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সংগঠনটি।
বুধবার বিকেলে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় আমেলার ষান্মাসিক পর্যালোচনা বৈঠকের ২য় দিন সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাছির আহমাদ।
মুনতাছির আহমাদ বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সচেতন নাগরিক, গণমাধ্যম ও ছাত্রসমাজের উত্থাপিত যৌক্তিক উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় যে বাস্তবমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তা শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তিনি বলেন, বন্যাকবলিত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা, স্থানীয় প্রশাসন ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে পরিস্থিতি মূল্যায়নের ঘোষণা, পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্রের বিতর্কিত দুটি প্রশ্নের জন্য সকল পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর প্রদানের সিদ্ধান্ত, ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজন হলে পুনঃপরীক্ষা গ্রহণের আশ্বাস, বন্যা বা প্রশাসনিক কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কোনো শিক্ষার্থীকে বঞ্চিত না করার প্রতিশ্রুতি এবং শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে শিক্ষামন্ত্রীর প্রকাশ্য দুঃখপ্রকাশ, এসব উদ্যোগ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবতানির্ভর ও সংশোধনমূলক অবস্থানের প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, মানসিক স্বস্তি ও অধিকারের প্রশ্নে সোচ্চার ছিল। আমাদের প্রত্যাশা ছিল, দুর্যোগের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীদের জীবন, নিরাপত্তা ও শিক্ষার স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটতে শুরু করেছে।
সংগঠনটি মনে করে, এমন পরিস্থিতি সৃষ্টির পেছনে শিক্ষা প্রশাসনের প্রাথমিক সমন্বয়হীনতা, পরিস্থিতি মূল্যায়নে দুর্বলতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় উৎকণ্ঠা ও ভোগান্তির জন্ম দিয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করে আগাম পরিকল্পনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।
সভাপতি আরও বলেন, দায়িত্বশীল রাষ্ট্রব্যবস্থায় ভুল সিদ্ধান্ত সংশোধনের মানসিকতা অবশ্যই ইতিবাচক। তবে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে যে সীমাবদ্ধতা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা পরিলক্ষিত হয়েছে, তার যথাযথ মূল্যায়ন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে শিক্ষামন্ত্রীর নৈতিক দায়ের বিষয়টিও সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।
তিনি বলেন, যেসব এলাকায় এখনো বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি, সেসব অঞ্চলের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে পুনর্নির্ধারিত পরীক্ষার সময়সূচী এমনভাবে নির্ধারণ করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় পায় এবং কোনো শিক্ষার্থী বৈষম্যের শিকার না হয়।