বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেছেন, সরকারের অদক্ষতা, অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে জনগণকে মাশুল দিতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, একদিকে গ্যাস-বিদ্যুৎ, তেল, সারের সংকট, আরেকদিকে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি জনগণের ঘাড়ের ওপর পড়ছে। সরকারের তথ্য উপদেষ্টা স্বীকার করেছেন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির ফলে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায় না।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর পল্টন মোড়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত লংমার্চ কর্মসূচির লিফলেট বিতরণ-পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি লংমার্চের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ—এই ছয় দফা দাবিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আগামী শনিবার লংমার্চ কর্মসূচি পালন করা হবে। পরবর্তীতে আরও তিনটি রুটে লংমার্চ শেষে ঢাকায় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দল জনগণের গণদাবি আদায়ে সংসদে চেষ্টা করছে। কিন্তু সরকার বারবার গণদাবি উপেক্ষা করেই যাচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সংসদে গণদাবি আদায় না হলে রাজপথেই আদায় করা হবে। আজ হোক, কাল হোক, গণভোটের রায় সরকারকে বাস্তবায়ন করতেই হবে; এর কোনো বিকল্প নেই।
আওয়ামী লীগের মতোই বিএনপি সর্বস্তরে দলীয়করণ করছে উল্লেখ করে জামায়াতের এই এমপি বলেন, চব্বিশের বিপ্লব-পরবর্তী জনগণের আকাঙ্ক্ষা ছিল বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ। কিন্তু সরকার সর্বস্তরে দলীয়করণ চালাচ্ছে। জেলা পরিষদ থেকে শুরু করে সব সিটি করপোরেশনে দলীয় নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় লোকজনকে ভিসি নিয়োগ দিচ্ছে। এমনকি স্কুল-কলেজও দলীয় লোকদের দিয়ে দখল করে নিচ্ছে। এই নির্লজ্জ দলীয়করণের কারণে সৎ, যোগ্য ও মেধাবীরা বঞ্চিত হচ্ছেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একদিকে পতিত আওয়ামী লীগ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে যেভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে জনগণের বুকে গুলি চালিয়েছে, যার কারণে জনগণের কাছে যেতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সেই মনোবল ভেঙে গেছে। অপরদিকে, সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজির কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হচ্ছে। প্রশাসন অপরাধীদের আটক করলে সেখানে সরকারদলীয় নেতারা প্রভাব বিস্তার করেন।
আগামী শনিবার ঢাকার মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রামের অভিমুখে লংমার্চে অংশগ্রহণ করতে তিনি ঢাকাবাসীকে আহ্বান জানিয়ে রাজধানীর পল্টন মোড়, দৈনিক বাংলা ও ফকিরাপুল এলাকায় লিফলেট বিতরণ করেন।
এ সময় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির ড. হেলাল উদ্দিন, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য শাহীন আহমেদ খানসহ মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারা উপস্থিত ছিলেন।