বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী গাইবান্ধায় মন্দিরের বাইরে নির্মিত বিতর্কিত শিবমূর্তি অপসারণের দাবি জানিয়ে বলেছেন, বিগত ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে ভারতের ইন্ধনে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দিরের বাইরের চত্বরে ৩০ ফুট উঁচু, ৩ টন ওজনের দেশের সর্বোচ্চ আদি যুগের বিশাল শিবমূর্তি তৈরি করা হয়েছে। এটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশের জন্য অপমানজনক ও আশঙ্কাজনক ঘটনা।
তিনি আরও বলেন, ৫৩ ফুট উচ্চতার আরেকটি কৃষ্ণমূর্তি তৈরির কাজ নির্মাণাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা শ্রী হরিদাস বাবু মূর্তিকে ঘিরে এখানে ইতোমধ্যে পাঁচটি মন্দির তৈরি করেছেন এবং আরও ১৪৪টি মন্দির তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। তাছাড়া টাঙ্গাইলে আরেকটি দানবীয় বিষ্ণুমূর্তি নির্মাণাধীন রয়েছে। যা দেশের বিরুদ্ধে গভীর উদ্বেগ ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মনে হচ্ছে। হিন্দু ধর্মীয় স্থাপনার আড়ালে ভারত মূলত এখানে বাংলাদেশকে নিয়ন্ত্রণের জন্য ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার আস্তানা বা অভয়ারণ্য তৈরি করতে চায়। এর নিরাপত্তা জোরদার ও পাহারা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনে ভারতীয় সেনাবাহিনী মোতায়েন হতে পারে। তখন এটি স্বাধীন বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
তিনি বৃহস্পতিবার বাদ আসর বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের উদ্যোগে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে গাইবান্ধায় প্রকাশ্যে মন্দিরের বাইরে শিবমূর্তি নির্মাণের প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ব সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন, প্রচার সম্পাদক মাওলানা সাইফুল ইসলাম সুনামগঞ্জী, মুফতি আবুল হাসান কাসেমী, শাহিন আলম ও মুফতি নুরুর রহমান প্রমুখ।
মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী বলেন, হযরত শাহজালাল ও হযরত হাফেজ্জী হুজুরসহ (রহ.) ওলি-আউলিয়ার বাংলাদেশকে মূর্তির রাজ্যে পরিণত করার যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া হবে।