খেলাফত মজলিসের
খেলাফত মজলিস কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে নেতারা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে বলেছেন, ভারতে সম্প্রতি বিভিন্ন রাজ্য বিধান সভা নির্বাচন পরবর্তিতে যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে মুসলমানদের ওপর উগ্রবাদী হিন্দুদের নির্যাতনের মাত্রা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষ করে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে মুসলিমদেরকে বাংলাদেশী ট্যাগ দিয়ে নির্মম নির্যাতন করা হচ্ছে। এসব ঘটনায় বাংলাদেশ সীমান্তে পুশইনের আশংকাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারা উগ্র হিন্দুত্ববাদী কর্তৃক এসব বর্বর হামলার তীব্র নিন্দা এবং সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর উগ্রবাদী আক্রমণ বন্ধের দাবি জানান।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
গত বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে খেলাফত মজলিস মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মাসিক কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
খেলাফত মজলিস নেতারা আরো বলেন, ভারতে মসজিদ, বাড়ীঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর করা হচ্ছে। শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করা হচ্ছে। এসব ঘটনায় বহু হতাহত হয়েছে। আসামে অনেক মুসলমান পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় ক্যাম্পে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
এমনকি বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলের হিন্দু কর্মীদের ওপরও হামলা বেড়েছে। এতে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিচ্ছে।
তারা ভারতকে নিজ দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানান। এসব ঘটনায় ভারত সরকারের প্রতি ক্ষোভ ও উদ্বেগ জানাতে আমরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে জোর দাবি জানান খেলাফত মজলিস নেতারা।
বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করে আরো বলা হয়, মাদক, অশ্লীলতা, বিবাহ বহির্ভূত যৌনাচার, কিশোর গ্যাং প্রভৃতি সামাজিক অবক্ষয়ের মাত্রা বাংলাদেশে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মীয় শিক্ষা ও সুস্থ সংস্কৃতি জোরদার, পারিবারিক-সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধির জন্য প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ এই মুহূর্তে বিশেষ প্রয়োজন।
এবার হাওর অঞ্চলে আকষ্মিক জলাবদ্ধতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে সরকারের দাঁড়ানো দরকার। দেশের খাদ্য ও জ্বালানী নিরাপত্তা নিশ্চিতে আরো উন্নত ও টেকসই ব্যবস্থাপনার প্রতি সরকারকে মনোযোগী হওয়া উচিত। ফেনী, সিলেট, রংপুর সহ সাম্প্রতিক সময়ে বারবার বন্যা কবলিত অঞ্চলে বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত এবং খাল খনন, উদ্ধার ও সংস্কার প্রক্রিয়া সরকারকে এই মৌসুমেই সম্পন্ন করতে হবে।
সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে আরো বলা হয়, গণভোটের রায়ের আলোকে সংবিধান সংস্কার করতে সরকারকে অবশ্যই আন্তরিক হতে হবে। বিএনপিকে ভুলে গেলে চলবে না, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হাজারো শহীদ ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের ত্যাগের বিনিময়ে তারা আজকে সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়েছে।
এলআর