জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি
শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক বাংলাদেশে সোশ্যাল ডেমোক্রেসির বীজ বপন করে গেছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির (জেডিপি) আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ।
সোমবার শেরেবাংলার ৬৪তম ওফাত দিবস উপলক্ষে তিন নেতার মাজারে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
জেডিপির আহ্বায়ক বলেন, শেরেবাংলার রাজনীতি ছিল সামাজিক ন্যায়, অর্থনৈতিক ভারসাম্য এবং গণমানুষের ক্ষমতায়নের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা। তার নেতৃত্বে কৃষকদের ঋণমুক্তির উদ্যোগ, জমিদারি শোষণ কমাতে নীতিগত পদক্ষেপ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য প্রশাসনিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা—এ সবই আধুনিক সোশ্যাল ডেমোক্রেসির মৌলিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তিনি বলেন, এ কে ফজলুল হক অভিজাতনির্ভর রাজনীতির বাইরে গিয়ে গ্রামীণ ও নিম্নবর্গের মানুষকে রাজনীতির মূলধারায় নিয়ে আসেন। এর ফলে বাংলার রাজনীতিতে গণভিত্তিক অংশগ্রহণের নতুন ধারা সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীকালে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
জেডিপির এই নেতা আরো বলেন, শেরেবাংলার অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল সুস্পষ্ট, যেখানে ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণিনির্বিশেষে সব মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে তার রাজনৈতিক দর্শন নতুন করে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
জেডিপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল আলিম বলেন, জমিদারদের শোষণ থেকে কৃষকদের মুক্তির রাজনীতি করেছেন শেরেবাংলা। পাশাপাশি লাহোর প্রস্তাবের মাধ্যমে পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা এবং সেই ধারাবাহিকতায় স্বাধীন বাংলাদেশের অর্জনেও তার অবদান অনস্বীকার্য।
যুগ্ম আহ্বায়ক মুত্তাকী বিন মুনির বলেন, এলিটদের আধিপত্য উপেক্ষা করে গরিব-দুঃখী-মেহনতি মানুষের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করে তিনি আমাদের জন্য ইতিবাচক রাজনীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন।
এ সময়ে প্রধান সংগঠক মো. আহছান উল্লাহ শেরে বাংলার ওফাত দিবস রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে আরও মর্যাদাপূর্ণভাবে পালনের আহ্বান জানান। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন যুগ্ম সদস্য সচিব মাহতাব হোসেন সাব্বির, কেন্দ্রীয় সদস্য মোহাম্মদ উল্লাহ জাবেরসহ জেডিপির বিভিন্ন সংগঠকবৃন্দ।