হোম > রাজনীতি

মামুনুল হককে নিয়ে সংসদ সদস্য ও স্পিকারের বক্তব্যের নিন্দা

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের বিবৃতি

স্টাফ রিপোর্টার

জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হককে নিয়ে বিএনপিপন্থী একজন সংসদ সদস্যের বক্তব্য এবং পরবর্তীতে স্পিকারের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ ও মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ।

বৃহস্পতিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো যৌথ বিবৃতিতে তারা এই নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে যে মাওলানা মামুনুল হককে সংসদে যেতে দেওয়া হয়নি, আজ তিনি সংসদে উপস্থিত না থাকলেও সংসদের ভেতরে তাকে নিয়েই আলোচনা হচ্ছে। এতে প্রতীয়মান হয়, কিছু রাজনৈতিক মহল এখনো তাকে রাজনৈতিকভাবে ভয় পায় এবং ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পুরনো অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর বয়ান পুনরুজ্জীবিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

তারা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে দায়ের করা একটি মামলায় আদালতের বিচারে মাওলানা মামুনুল হক নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। এ বিষয়ে দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে এবং তিনি নিজেও একাধিক জাতীয় গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। এরপরও জাতীয় সংসদের স্পিকার কীভাবে সেই ঘটনাকে "পরকীয়া" ও তাঁর "জীবনের অন্ধকার অধ্যায়" বলে আখ্যায়িত করেন এবং বলেন যে, "মামুন সাহেব বিষয়টি স্পষ্ট করতে পারেননি"—তা অত্যন্ত বিস্ময়কর, অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নেতারা বলেন, আরও বিস্ময়ের বিষয় হলো—স্পিকার একদিকে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের বক্তব্য কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করার নির্দেশ দেন, অথচ অন্যদিকে নিজেই একই বিষয়ে অজ্ঞতাপ্রসূত ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করেন। এটি কেবল পরস্পরবিরোধী অবস্থানই নয়; বরং স্পিকারের নিরপেক্ষতা সম্পর্কেও জনমনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

তারা বলেন, আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী নিজেই সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যকে থামিয়ে দিয়েছেন এবং বিরোধী দলের দুইজন সদস্যও এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এরপরও স্পিকারের এমন মন্তব্য তার সাংবিধানিক নিরপেক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়; বরং একটি নিষ্পত্তিকৃত বিষয়কে নতুন করে প্রশ্নবিদ্ধ করার শামিল।

নেতারা বলেন, কারও অজ্ঞতা কখনো অন্য একজনের চরিত্রের ওপর কালি লেপনের বৈধতা দিতে পারে না। স্পিকারের বক্তব্য এ বিষয়ে তাঁর তথ্যগত অজ্ঞতারই বহিঃপ্রকাশ। তাঁর ভুল তথ্য বা অপর্যাপ্ত ধারণার দায় আল্লামা মামুনুল হকের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কিংবা তাঁর চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করার কোনো সুযোগ নেই।

তারা আরো বলেন, স্পিকারের আসন জাতির কাছে নিরপেক্ষতা, প্রজ্ঞা, সংযম ও ন্যায়বোধের প্রতীক। সেই আসন থেকে উচ্চারিত প্রতিটি শব্দ জাতির কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই তথ্য-উপাত্ত যাচাই ছাড়া এ ধরনের মন্তব্য শুধু একজন জাতীয় নেতার মর্যাদাকেই ক্ষুণ্ণ করে না, বরং জাতীয় সংসদের মর্যাদা এবং স্পিকারের সাংবিধানিক নিরপেক্ষতার ভাবমূর্তিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।

তারা অবিলম্বে স্পিকারকে তার বিভ্রান্তিকর ও অনভিপ্রেত মন্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির সামনে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান এবং আল্লামা মামুনুল হকের প্রতি করা অন্যায় মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশের আহ্বান জানান। অন্যথায় জনগণের মধ্যে এ বিষয়ে যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তার রাজনৈতিক ও নৈতিক দায় সম্পূর্ণরূপে স্পিকারকেই বহন করতে হবে।

একই সঙ্গে তারা ফ্যাসিস্ট আমলের মিথ্যা অপপ্রচার ও চরিত্রহননের রাজনীতি পুনরুজ্জীবিত করার সকল অপচেষ্টা থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি আহ্বান জানান এবং সত্য, ন্যায়, আইনের শাসন ও ইসলামী মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

এদিকে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে জাতীয় সংসদে কুৎসাপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদে রাতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যুব মজলিসের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল হওয়ার কথা রয়েছে।

যুবদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে একের পর এক খুন

ভারতের সঙ্গে গোপন আঁতাত করছে সরকার: নাহিদ ইসলাম

‘স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করাই সরকারের জন্য সম্মানজনক হবে’

ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ জামায়াতের, সেনা মোতায়েনের দাবি

এ সরকার অবৈধ, জনগণের ৭০ শতাংশ রায়কে অবমাননা করেছে তারা: নাহিদ ইসলাম

ইসলামকে বিজয়ী করতে হবে, এর মাধ্যমেই কেবল বৈষম্যহীন সমাজ সম্ভব: মামুনুল হক

জাতীয় উলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের ১০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা

সাভারের সেই মহিলা মাদ্রাসা পরিদর্শন, শাস্তি নিশ্চিতে ভূমিকার আশ্বাস কওমি আলেমদের

আইনশৃঙ্খলার অবনতি রাষ্ট্রের জন্য অশনিসংকেত: নেজামে ইসলাম পার্টি

আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনতে যা যা করা প্রয়োজন, সবই করছে বিএনপি: নাহিদ