প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় আলোচিত সাভারের বিরুলিয়ার কালিয়াকৈরে তোহফাতুল জান্নাত মহিলা মাদ্রাসা পরিদর্শন করেছেন কওমি অঙ্গনের শীর্ষ আলেমরা।
রোববার দুপুরে মাদ্রাসা পরিদর্শনে আসা প্রতিনিধিদলে ছিলেন—হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও আল হাইআতুল উলয়ার কো-চেয়ারম্যান মাওলানা সাজিদুর রহমান, বেফাকের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা নাজমুল হাসান, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী প্রমুখ।
পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মাওলানা আবদুল বারীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার শাস্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তারা সর্বাত্মক ভূমিকা রাখবেন।
তিনি বলেন, অন্যায় বা দোষ প্রমাণিত হওয়ার আগে একজন মানুষকে অপরাধী হিসেবে গোটা সমাজের সামনে চিত্রায়িত করা—এটি কোন ধরনের নিয়ম? এ প্রশ্ন আমি গোটা জাতির বিবেকের কাছে রাখতে চাই।
মাওলানা মাহফুজুল হক আরও বলেন, অন্যায়কারীর অপরাধ যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হলে তার যথোপযুক্ত শাস্তির জন্য আমরা উদ্যোগী হয়ে ভূমিকা পালন করব। এ দেশে ইসলামী আইনের শাস্তি কার্যকর না থাকায় আমরা দাবি করব, এ ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
তিনি বলেন, কোনো অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড, আলেম-উলামা ও মুরুব্বিদের অবহিত করা যেত। প্রয়োজনবোধে স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়ারও সুযোগ ছিল। কিন্তু এসব আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে মাদ্রাসাটিতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
মাদ্রাসাটিতে হামলার বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, সেখানে শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত আসবাবপত্রসহ প্রতিষ্ঠান পরিচালনার বিভিন্ন সামগ্রী তছনছ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের পরিচালক পরিবারসহ সেখানে বসবাস করায় তাঁদের ব্যক্তিগত অর্থকড়ি, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান মালামালও লুট করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এক ব্যক্তির অপরাধের দায়ে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি অপরাধী হলেও সেই প্রতিষ্ঠানের কী অপরাধ?’ তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। পরিদর্শনকালে নেতারা মাদ্রাসাটির সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।
জানা গেছে, তোহফাতুল জান্নাত মহিলা মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা আবদুল বারীর (৫০) বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১৩) ধর্ষণের অভিযোগে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলাটি করা হয়। এই ঘটনায় অভিযুক্তের স্ত্রী ও মাদ্রাসার পরিচালক তোহফাতুল জান্নাহকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। অন্যদিকে, মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও নগদ টাকাসহ মালামাল লুটের অভিযোগে অপর একটি মামলার খবরও পাওয়া গেছে।