মজলিসে শুরার জরুরি অধিবেশন
এগারো দলীয় জোটের ঐক্য অটুট রাখার স্বার্থে ন্যায্যতার ভিত্তিতে আসন সমঝোতা হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন খেলাফত মজলিসের নেতারা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলের সমঝোতাকেন্দ্রিক উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বুধবার রাজধানীর শাহজাহানপুরের একটি মিলনায়তনে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার জরুরি অধিবেশনে এই মন্তব্য করা হয়।
১১ দলীয় সমঝোতাকেন্দ্রিক উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তারা বলেন, জাতির প্রত্যাশা পূরণে ১১ দলীয় ঐক্য অটুট রাখতে হবে। ১১ দলীয় ঐক্য অটুট রাখার স্বার্থে ন্যায্যতার ভিত্তিতে আসন সমঝোতা হওয়া প্রয়োজন।
তারা বলেন, ইসলামী শক্তির মধ্যে ঐক্য খেলাফত মজলিসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। এক আসনে একটি ইসলামী দলের প্রার্থী নিয়ে যে নির্বাচনি সমঝোতা বা ওয়ান বক্স পলিসি, তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম প্রস্তাব করেছিলেন খেলাফত মজলিস মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের।
তারা বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের সব শক্তির প্রথম ঐক্যবদ্ধ মঞ্চ তৈরি করেছিল খেলাফত মজলিস। ২০২৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খেলাফত মজলিসের সাধারণ পরিষদের দ্বাদশ অধিবেশনে অভ্যুত্থান-পরবর্তী সব পক্ষের নেতারা সেদিন দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের পক্ষ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন।
ইতোমধ্যে ইসলামী সমমনা ৫ দল, ৮ দল এবং সর্বশেষ ১১ দলীয় নির্বাচনি সমঝোতার সাথে ঐক্যবদ্ধতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে খেলাফত মজলিস। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, ১১ দলের শরীকদের সাথে সর্বশেষ আলোচনায় খেলাফত মজলিসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী ও অঞ্চল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা থেকে থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছে; যা শুধু খেলাফত মজলিসের জন্যই নয় জোটের জন্যও ক্ষতির কারণ হতে পারে।
উল্লেখ্য, সারা দেশে খেলাফত মজলিসের ৭৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। এরই মধ্যে ৭২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।
দলটির নেতারা বলেন, তারপরও ইসলাম, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের স্বার্থে চলমান ১১ দলীয় নির্বাচনি সমঝোতার সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে এগিয়ে যাবে খেলাফত মজলিস। তবে তা হবে ইনসাফ ও সম্মানজনক আসন সমঝোতার ভিত্তিতে। সম্ভাবনাময় ও বিজয়ী হয়ে আসার মতো আসনগুলোতে সম্মানজনক সমঝোতার দাবি রাখে খেলাফত মজলিস। প্রতিটি বিভাগে খেলাফত মজলিসের জন্য ন্যূনতম প্রতিনিধিত্বের স্বার্থে আসন সমঝোতা ইনসাফের দাবি।
খেলাফত মজলিস শুরা সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতিতে সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও তার প্রশাসন কাযর্ত কোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারছে না। সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে মাঠে রাখা হলেও আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ঘটছে না। ৫ আগস্ট-পরবর্তী লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়নি। অপরাধীদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি হয়নি।
নির্বাচনি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখনো প্রস্তুত নয় উল্লেখ করে তারা বলেন, পেশিশক্তির রাজনীতি ও কালো টাকার প্রভাবে রাজনৈতিক সহিংসতায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। এমতাবস্থায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও নির্বাচনি আচরণবিধি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের উপযুক্ত ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োগ করতে হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হওয়ার জন্য প্রশাসনকে সবার সহযোগিতা করতে হবে।
খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার জরুরি অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন দলের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ। মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরায় অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।