বিবৃতিতে সাইফুল হক
শ্রমিক বাঁচতে না পারলে উৎপাদনশীলতা কমে যাবে, জাতীয় অর্থনীতির রুগ্নদশা কাটানো যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।
বৃহস্পতিবার মহান মে দিবস উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন তিনি।
বিবৃতিতে দেশের শ্রমিকশ্রেণিসহ শ্রমজীবী মেহনতি মানুষদের উষ্ণ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে সাইফুল হক বলেন, মে দিবসে মেহনতি মানুষ নিজেদের অধিকার আর মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় নতুন করে শপথ নেবে। আমাদের শাসক শ্রেণির বিভিন্ন দল ক্ষমতায় যেতে শ্রমিকদের ভোট চায়, কিন্তু তাদের অধিকার দিতে চায়না। তারা শ্রমিকদেরকে ব্যবহার করে। কিন্তু তাদের গণতান্ত্রিক ও মানবিক অধিকার দেয় না। শ্রমিক সুস্থভাবে বাঁচতে না পারলে উৎপাদনশীলতা কমে যাবে, জাতীয় অর্থনীতির রুগ্নদশাও কাটানো যাবে না।
তিনি বলেন, গত দেড় দশক শ্রমজীবী সাধারণ মানুষের ভোটের অধিকারই ছিল না। এবার ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর ভোটের জন্য শ্রমিকদের কিছুটা মূল্য বেড়েছে সত্য, কিন্তু দেশের নির্বাচনি ব্যবস্থার কারণে শ্রমিকদের কারও ভোটে দাঁড়ানো বা জিতে আসার কোনো সুযোগ নেই। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদেও শ্রমিকদের কার্যকরী প্রতিনিধিত্ব নেই। তিনি বলেন, ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে মেহনতি মানুষ সবচেয়ে বেশী শহীদ হলেও অন্তর্বর্তী সরকারেও তাদের প্রতিনিধিত্ব ছিল না।
সাইফুল হক বলেন, এই একবিংশ শতাব্দীতেও বাংলাদেশের শ্রমিকশ্রেণিসহ শ্রমজীবী মেহনতি মানুষ এখনও নির্মম নিষ্ঠুর অমানবিক শোষণ, বঞ্চনা আর নিপীড়নের শিকার। শ্রমিকেরা এখন যে মজুরি পায় তা দিয়ে মাসের ১৫/২০ দিন পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকাই কঠিন। এখনও তাদের বড় অংশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থানসহ মানবিক জীবন নেই বললেই চলে। মজুরিসহ বেঁচে থাকার ন্যায্য দাবির আন্দোলনকে ষড়যন্ত্র হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়।
বিবৃতিতে শ্রমিকদের জন্য বাঁচার মতো মজুরি নির্ধারণ, শ্রমিক পরিবারের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থানের উপযুক্ত ব্যবস্থাসহ তাদের মানবিক ও গণতান্ত্রিক দাবি পূরণে বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ নিতে নতুন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সাইফুল হক। পাশাপাশি অবিলম্বে বন্ধ কলকারখানা চালু করারও দাবি জানান তিনি।
এএস