আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর, ব্যাংক ডাকাত ও অর্থ পাচারকারী এস আলম সিন্ডিকেটকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। তারই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ও বিতর্কিত কর্মকর্তা খোরশেদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান সোমবার এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশের জনগণ ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ, লুটপাট ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বর্তমান সরকার সেই গণ-আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করে আবারও ব্যাংক লুটেরাদের পুনর্বাসনের নীল নকশা বাস্তবায়ন করছে।
ডা. ইরান অভিযোগ করে বলেন, সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ প্রকাশ্যে এস আলম গোষ্ঠীর দোসর ও লালন-পালনকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে ফিরেই তিনি এস আলমের দেওয়া গাড়িতে করে বাসায় গেছেন।
শুধু তাই নয়, এস আলমের ব্যবসা-বাণিজ্য নির্বিঘ্ন করতে নিজের ছেলে সৈয়দ ইব্রাহিমকে এস আলমের অফিসে বসিয়েছেন। এখন দখলকৃত ব্যাংকগুলো আবারও এস আলমের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই খোরশেদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে বসানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গত দেড় দশকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের ছত্রছায়ায় দেশের ব্যাংকিং খাত ধ্বংস করা হয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান দখল, লুটপাট ও দলীয়করণের মাধ্যমে জনগণের আমানত হুমকির মুখে ফেলা হয়েছে। এখন আবার সেই পুরোনো সিন্ডিকেট পুনর্বাসনের অপচেষ্টা চলছে।
লেবার পার্টির চেয়ারম্যান অবিলম্বে খোরশেদ আলমের নিয়োগ বাতিল, ইসলামী ব্যাংককে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা, ব্যাংক খাতের লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের বিচার এবং এস আলম সিন্ডিকেটের সব অবৈধ কার্যক্রমের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।