হোম > রাজনীতি

খালেদা জিয়া সংকটাপন্ন, তারেকের ফেরা নিয়ে কৌতূহল

আমার দেশ অনলাইন

খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান। ফাইল ছবি

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি আছেন। তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটময় বলে উল্লেখ করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এমন পরিস্থিতিতে তার ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।

খালেদা জিয়া ফুসফুসে সংক্রমণ থেকে শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এরপর দেখা দেয় নিউমোনিয়া। এর সঙ্গে রয়েছে কিডনি, লিভার ও ডায়াবেটিসের পুরনো সমস্যা।

এমন পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থাকে ‘অত্যন্ত সংকটময়’ বলে উল্লেখ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপি নেতারা বলছেন, গত দুই দিনে তার অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সম্ভব হলে দ্রুত সিঙ্গাপুরে নেওয়ার চিন্তা করছেন।

এদিকে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় দ্রুতই তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারেন। দলীয় সূত্রগুলো থেকে এ আভাস পাওয়া গেছে। তবে তিনি ঠিক কখন ফিরবেন, তা জানা যায়নি।

খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান খুব উদ্বিগ্ন। তিনি ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান সার্বক্ষণিক মায়ের শারীরিক অবস্থার খোঁজ রাখছেন।

জুবাইদা রহমান খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের একজন সদস্য। ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান ও খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দারও হাসপাতালে আছেন।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে অসুস্থ খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে যান মির্জা ফখরুল ইসলাম। তিনি রাতে আবারও হাসপাতালে ছুটে যান। এ সময় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও সেখানে ভিড় জমান। এ পরিস্থিতিতে তারেক রহমান শিগগির দেশে ফিরছেন বলে জানা গেছে।

আগামী ডিসেম্বর মাসের শুরুতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কথা রয়েছে। সে সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার একটি সম্ভাব্য তারিখ আলোচনায় ছিল।

তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে, বিএনপির এমন নেতারা বলছেন, তারেক রহমানের এমন পরিকল্পনা ছিল যে পবিত্র ওমরাহর জন্য সৌদি আরবে যাবেন তিনি। এরপর সরাসরি লন্ডন থেকে ঢাকায় আসবেন।

বিএনপির সূত্র জানিয়েছে, ১৭ বছর পর দলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতার প্রত্যাবর্তন ঘিরে আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী তার নিরাপত্তা, বাসভবন সংস্কার, অফিস সজ্জাসহ যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ মায়ের গুরুতর অসুস্থতা এসব পরিকল্পনা পাল্টে দিতে পারে এবং দ্রুতই তাকে দেশে ফিরতে হতে পারে।

এদিকে গতকাল শুক্রবার খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যান দলের স্থায়ী কমিটি সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, আমরা দূর থেকে দেখেছি। সিসিইউতে তো যাওয়া যায় না। ইকফেকশনের ঝুঁকি আছে। আমরা চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছি। ম্যাডামের অবস্থার উন্নতি নেই। মেডিকেল বোর্ড চেষ্টা করছে। প্রতিদিন বৈঠক করে চিকিৎসায় পরিবর্তন আনছে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার জানান, আমি এখন হাসপাতাল যাচ্ছি। ম্যাডামের অবস্থা আগের মতোই। তেমন কোনো উন্নতি নেই। এখনও সিসিইউতেই আছেন। ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. জাহিদ হোসেন হাসপাতালে আছেন সার্বক্ষণিক। তিনি বিস্তারিত বলতে পারবেন। আমার সঙ্গে চিকিৎসকদের যতটা কথা হয়েছে, তারা জানিয়েছেন ম্যাডামের অবস্থা ভালো নয়। সবাই দোয়া করবেন।

তিনি জানান, চিকিৎসকদের পরামর্শে ম্যাডামের জন্য গুলশানের বাসা থেকেই খাবার পরিবেশেন করা হচ্ছে প্রতিদিন। ম্যাডামের সঙ্গে তার ছোটপুত্রবধূ সৈয়দা শামিলা রহমান সার্বক্ষণিক থাকছেন। এছাড়া গৃহপরিচালিকা ফাতেমা ও স্টাফ রূপা আক্তার সঙ্গে আছেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ইনফেকশনের (সংক্রমণ) শঙ্কায় খালেদা জিয়াকে সিসিইউতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। মেডিকেল বোর্ডের একজন সদস্য বলেন, ম্যাডামের নিউমোনিয়া হয়েছে। উনি এখনো সেরে উঠেননি। বয়সের কারণে সময় লাগবে।

এই চিকিৎসক গতকাল একই কথা জানান। তিনি বলেন, ম্যাডামের অবস্থা ভালো বা খারাপ, কোনটাই নয়। চিকিৎসকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখছেন। সিসিইউতে নেওয়ার পর বেশ কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড প্রতিদিন আলোচনা করে নতুন করণীয় ঠিক করছে। লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি ডা. জুবাইদা রহমান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে জনস হপকিনস হসপিটালের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বোর্ডের বৈঠকে অংশ নেন।

প্রায় ৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতাসহ নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। গত সপ্তাহের রোববার শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এদিকে দলের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে আল্লাহর দরবারে দোয়া চাওয়া হয়েছে। খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনায় গতকাল শুক্রবার বাদ জুমা সারা দেশে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়েছে।

খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে হাসনাত-জারা-নাসীর

‘মায়ের স্নেহ স্পর্শের আকাঙ্ক্ষা যেকোনো সন্তানের মতো আমারও আছে’

কঠিন সময়েও মানুষের পাশ থেকে সরে দাঁড়াননি খালেদা জিয়া

দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়: তারেক রহমান

খালেদা জিয়ার দ্রুত রোগমুক্তি কামনা এবি পার্টির

খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করায় দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জিয়া পরিবারের

খালেদা জিয়াকে নিয়ে গুঞ্জন ও রিউমারের কারণে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ছিলাম: ব্যারিস্টার অসীম

সংকটাপন্ন খালেদা জিয়া, ফিরতে বিলম্বের কারণ জানালেন তারেক

খালেদা জিয়া আমাদের চিনতে পেরেছেন, তবে উনার অবস্থা স্থিতিশীল নয়: মির্জা আব্বাস

জামায়াত আমিরের শপথ অনুষ্ঠানে ছিলেন না বিএনপির কেউ