সংসদে মির্জা ফখরুল
জামায়াতে ইসলামীর প্রতি ইঙ্গিত করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তারা (জামায়াত) বলছেন-আমাদের চেহারা বদলে গেছে, আমাদের চেহারা বদলায়নি। তারা হঠাৎ করেই বদলে গেল।
বৃহস্পতিবার জাতীয সংসদ অধিবেশনে প্রেসিডেন্টের ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
মির্জা ফখরুর বলেন, দুর্ভাগ্য আমাদের যে ৫ই আগস্টের পরে উনারা বলছেন যে, আমাদের চেহারা বদলে গেছে, আমাদের চেহারা বদলায়নি। তারা হঠাৎ করেই বদলে গেল, হঠাৎ করে মনে হলো যে- তারা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য একটা ইঙ্গিত পেয়ে গেছেন এবং ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য সবকিছু তৈরি হয়ে গেছে। তখন তারা যে সমস্ত উক্তি এবং যে সমস্ত কথা বলেছেন বিভিন্ন বক্তব্যের মধ্য দিয়ে, এই বক্তব্যগুলো গণতন্ত্রকে সাহায্য করেনি। আজকে যে দূরত্ব, এই দূরত্ব সৃষ্টি হওয়ার একটা কারণ ছিল, আপনারা নির্বাচনকে অস্বীকার করছেন, নির্বাচনকে বলছেন যে ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। এটা কেউই মেনে নেবে না। মেনে নেয়নি এই দেশের মানুষ, সেটা মেনে নেবে না।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের ইতিহাস, এটা আমাদের বুকেই আমরা ধারণ করি, এটা এই দেশের সব মানুষই ধারণ করে। মাননীয় স্পিকার যখন এই কথাগুলো এই বিষয়গুলো নিয়ে কোনো কটাক্ষ করা হয়, তখন তো অবশ্যই আমরাও কষ্ট পাই। এই লাখো মানুষ যারা সংগ্রাম করেছে, লড়াই করেছে- তারাও কিন্তু একইভাবে কষ্ট পায়।
ফখরুল বলেন, আপনার লন্ডনে যে সভা হলো, যে ঐতিহাসিক বৈঠক আমাদের চেয়ারম্যান এবং তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে, সেই বৈঠক সম্পর্কে তারা বিদ্রুপ ও কটাক্ষ করে বলেছেন, সেখানে নাকি আপনার কি একটা ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত হয়েছে। যার ফলে আজকে বিএনপি এই পার্লামেন্টে মেজরিটি নিয়ে বসে আছে, অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি তীব্র নিন্দা জানাই। এই ধরনের কথা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না, লন্ডন বৈঠক হয়েছিল বলেই আজকে আমরা এখানে সবাই। কারণ লন্ডন বৈঠকেই নির্বাচনে তারিখ হয়েছিল। ওই বৈঠকেই প্রধান উপদেষ্টা রাজি হয়েছিলেন যে দ্রুত ফেব্রুয়ারির মধ্যে তিনি নির্বাচন দেবেন। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। এটাও আমাদেরকে সকলকে স্বীকার করে নিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, আমাদেরকে সংস্কার বিরোধী বলে চিহ্নিত করবার চেষ্টা করেন, পোস্টার নিয়ে এসেছেন, পার্লামেন্টে বলেছেন আমরা সংস্কার চাই না। সংস্কারের জনক তো আমরাই।