সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ
কুমিল্লা-৪ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রকাশিত শ্বেতপত্রে দেখানো হয়েছে যে, ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। যারা পাচার করেছে তারা এখন গুলশান, বনানী, ধানমন্ডিতে বুক ফুলিয়ে চলাফেরা করে।
তিনি বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন। এ সময় সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বসুন্ধরার মালিকের ছেলে সুবহান আনভীর দেশে ঢোকার সাহস পায়নি। কিন্তু এই সরকার নির্বাচিত হয়ে আসার পরে এই ধর্ষক সদর্পে দেশে ঢুকেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন বসুন্ধরার বিরুদ্ধে যে মামলা করেছে, সেটির অগ্রগতি কী হয়েছে সেটা আমরা জানতে চাই। কোনো আন্ডারটেবিল (টেবিলের নিচে) সমঝোতা হয়েছে কি না, সেটা বাংলাদেশের মানুষের সামনে প্রকাশ করতে হবে।
বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমানোর কথা বলা হচ্ছে, আবার বলা হচ্ছে—ট্যাক্স বাড়ানো হবে; এটা সাংঘর্ষিক। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম দিনশেষেও কমবে না, কারণ এই ট্যাক্সের বোঝাটি দিনশেষে সাধারণ মানুষের ওপরেই চেপে বসবে।
এনসিপির এই এমপি বলেন, আমরা সরকারি দল থেকে নির্বাচনের আগে একটি প্রতিশ্রুতি পেয়েছিলাম—আগামী পাঁচ বছরে এক কোটির ওপরে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে। অর্থাৎ প্রত্যেক মাসে দেড় লাখেরও বেশি কর্মসংস্থান। সেই হিসেবে এই চার মাসে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাওয়ার কথা ছিল ৬ লাখ। অর্থমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন, এই চার মাসে কয়টি কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছে? আদৌ কি ৬ লাখ কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছে? নাকি নির্বাচনের আগে সেটি শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল?
তিনি বলেন, আমরা অর্থমন্ত্রীর কাছ থেকে কোনো স্পষ্ট কর্মসূচি পাইনি যে, কীভাবে ব্যাংকগুলোকে দলীয়করণমুক্ত করা হবে। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ব্যাংকের টাকা ঋণের নামে যেভাবে বিদেশে পাচার করা হয়েছে, সেই পাচারকৃত টাকা কীভাবে উদ্ধার করা হবে—সেটার সুস্পষ্ট কোনো পলিসি (নীতিমালা) দেখতে পাচ্ছি না।
তিনি বলেন, জনগণের টাকা নিয়ে বিলাসিতা বন্ধ করতে হবে এবং ঋণখেলাপিদের ঋণখেলাপি বলতে হবে। আমরা লজ্জা পাই একই সংসদে একসঙ্গে বসার জন্য, কারণ তারা জনগণের টাকা মেরে আবার জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে আসে। এমন একটি আইন প্রণয়ন করতে হবে, যেন তারা নির্বাচিত হওয়ার পরেও যদি ঋণখেলাপি হয়, তবে তাদের সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়ে যায়।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপ বিদেশে টাকা পাচার করেছে, মানুষের সম্পদ দখল করেছে এবং মিডিয়ার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের গুম-হত্যাকে বৈধতা দিয়েছে। তাদের খুঁটির জোর কোথায়, সেটা আমরা জানতে চাই। সরকারি দলেরই অনেকে আমাদের কাছে এসে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন যে, তারা কষ্ট করেছেন, জেল খেটেছেন, কিন্তু তাদের দলেরই কিছু মানুষ বসুন্ধরার অ্যাডভাইজর (উপদেষ্টা) হিসেবে কাজ করে।
তিনি বলেন, যে মিডিয়া তারেক রহমানকে দেশদ্রোহী হিসেবে ফ্রেমিং করেছে, সেই মিডিয়ার অ্যাডভাইজর হিসেবে আজকে সরকারি দলীয় অনেক সংসদ সদস্য যুক্ত। এটি তাদের সহকর্মীদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়। এই বসুন্ধরার বিরুদ্ধে যারা কথা বলে, তাদের বিরুদ্ধে মিডিয়া লেলিয়ে দেওয়া হয়। যারা ব্যাংক দখল করেছে, গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করেছে এবং গুম-খুনের বৈধতা উৎপাদন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা সরকারের কাছ থেকে কঠোর অ্যাকশন দেখতে চাই।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিশোধপরায়ণ হননি, আমরা সেটাকে স্বাগত জানাই। কিন্তু প্রতিশোধপরায়ণ না হওয়া আর সুবিচার নিশ্চিত না করা—দুটি এক বিষয় নয়। আমরা চাই তিনি গুম-খুনের সুবিচার করবেন, আইনের শাসন নিশ্চিত করবেন এবং যারা মিডিয়ার মাধ্যমে এই ফ্যাসিবাদের পক্ষে বয়ান তৈরি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে সুবিচার নিশ্চিত করবেন।