বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেছেন, বাংলাদেশে মব কালচার অপপ্রচার ও চরিত্রহরণের রাজনীতি চিরতরে বন্ধ করতে হবে। হাতিয়াতে নারীর যৌন নিপীড়ন সংক্রান্ত অভিযোগের ভিডিও বক্তব্য চিকিৎসা নথি স্থানীয় পর্যায়ে যাচাই-বাছাইসহ সকল তথ্য-প্রমাণে প্রতীয়মান হয় এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পরিকল্পিত একটি ঘটনা।
শনিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন। স্ট্যাটাসের বিষয়টি নাছির উদ্দীন নাছির নিজেই নিশ্চিত করেন।
নাছির উদ্দীন নাছির লেখেন, ‘সকল প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ, ভিডিও বক্তব্য, চিকিৎসা নথি এবং স্থানীয় পর্যায়ের বিস্তারিত যাচাই-বাছাই পর্যালোচনা করে এ পর্যন্ত হাতিয়ার ঘটনাটি অনেকের কাছেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পরিকল্পিত বয়ান বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। তবে বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই চূড়ান্ত তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগে দায়িত্বশীল মহল থেকে চূড়ান্ত মন্তব্য করাকে আমরা সমীচীন মনে করি না। আমরা চাই—আইন তার নিজস্ব গতিতে চলুক, নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং সত্য স্পষ্টভাবে উদ্ঘাটিত হোক।’
তিনি বলেন, ‘কিন্তু তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার লক্ষ্যে একটি মিথ্যা নাটক সাজানো হয়েছে, তবে এর দায় কোনোভাবেই এড়ানো যাবে না। বাংলাদেশে মব কালচার, অপপ্রচার এবং চরিত্রহননের রাজনীতি চিরতরে বন্ধ করতে হবে। মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক দল, প্রার্থী বা ব্যক্তিকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা শুধু রাজনৈতিক অপরাধ নয়—এটি জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল। এমন অপকৌশল প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ—শিবির, রাজাকার চক্র, জামায়াতপন্থি গোষ্ঠী ও এনসিপিকে জাতির সামনে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।
নাছির আরও লেখেন, ‘জনমনে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা এবং বিএনপির সম্মানহানির অপরাধে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে—এ ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। বিশেষ করে এনসিপির নেতা হান্নান মাসুদের ভূমিকা নিয়ে যে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে, তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তাকে অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে—এটাই ন্যায়বিচার ও জনমতের দাবি।’
পোস্টের শেষে ছাত্রদল সেক্রেটারি লেখেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই—রাজনীতি হোক আদর্শ, নীতি ও জনকল্যাণের প্রতিযোগিতা; মিথ্যা নাটক, মব উসকানি ও চরিত্রহননের মাধ্যমে নয়। সত্য প্রতিষ্ঠিত হবেই—এটাই আমাদের অটল বিশ্বাস।’