অন্যায্য ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী বাণিজ্য চুক্তি থেকে বিএনপি সরকারকে বেরিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেন, বিএনপির জন্য দেশপ্রেমের প্রথম বড় পরীক্ষা হচ্ছে কঠোর গোপনীয়তায় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাক্ষর করা জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি অন্যায় ও অন্যায্য বাণিজ্য চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসা।
বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি আয়োজিত ‘যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তি- বাংলাদেশের স্বার্থের প্রশ্ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সাইফুল হক আরও বলেন, যেহেতু বিএনপির কাছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’, সেহেতু দেশপ্রেমের পরীক্ষায় বিএনপি সরকারকে একশোতে একশো নম্বর পেতে হবে এবং দ্রুত রাজনৈতিক ও জনগণকে সাথে নিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় নিরাপত্তা বিরোধী এ বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের উদ্যোগ নিতে হবে। সমতা, ন্যায্যতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নতুন বাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি বলেন, মাননীয় এক প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী বিএনপির হাতে জাতীয় অর্জনের যে তিনটি ট্রফি রয়েছে বিএনপি সরকারকে অবশ্যই তার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। গত ৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিনদিন আগে অন্তর্বর্তী সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে কেন বিতর্কিত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করলো তার কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
সাইফুল হক বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনুকূলে বাণিজ্য চুক্তির নামে বাংলাদেশের বিনিয়োগ, ডিজিটাল বাণিজ্য, শিল্প, কৃষি, জ্বালানি, প্রতিরক্ষাসহ বিস্তৃত ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যায় ও অন্যায্য হস্তক্ষেপের সুযোগ করে দিয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশকেও মেনে চলতে হবে, আমদানি করা মার্কিন কোনো পণ্যের গুণগতমান পরীক্ষা করা যাবে না। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ এমন কোনো দেশ থেকে পারমাণবিক চুল্লি, জ্বালানি বা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কিনতে পারবে না যা যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্বার্থের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ’ বিবেচিত হবে। চুক্তির ধারা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় গৃহীত সীমান্ত বা বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞামূলক ব্যবস্থার সাথে মিল রেখে বাংলাদেশকেও ‘পরিপূরক বিধিনিষেধ’ এর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এর অর্থ হচ্ছে! মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অথবা বাণিজ্যিকযুদ্ধে বাংলাদেশকেও তার অনুরূপ অবস্থান গ্রহণ করতে হবে; পরাশক্তির দ্বন্দ্ব- সংঘাতে বাংলাদেশ নিরপেক্ষ অবস্থান নিতে পারবে না। আর ‘কিছু নির্দিষ্ট দেশ’ থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনা-কাটা কমাতে হবে, যা আসলে চীনের দিকেই ইঙ্গিত করে। এ চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বাংলাদেশের উপর অন্যায়, অবমাননাকর ও আপত্তিজনক বেশী শর্ত চাপানো হয়েছে।
তিনি বলেন, চুক্তির সামগ্রিক পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, বাংলাদেশের সাথে স্বাক্ষরিত এই কথিত বাণিজ্য চুক্তিকে প্রকারান্তরে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা ও সামরিক স্বার্থজনিত নীতিকৌশলের অংশ হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে। চুক্তিতে এমন সব শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে যা বাংলাদেশের নীতিগত স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে নিক্ষেপ করবে।
তিনি বলেন, বাণিজ্যকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করতে গিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা গুরুতরভাবে হুমকির মুখোমুখি করা হয়েছে। কোনো স্বাধীন সার্বভৌম আত্মমর্যাদা দেশ ও তার জনগণ এ ধরনের অন্যায় ও একপাক্ষিক চুক্তি গ্রহণ করতে পারে না। আলোচিত এ চুক্তি ৬০ দিনের নোটিশে বাতিল করার শর্ত আছে। নতুন সরকার সে পথে হাঁটতে পারে। জনগুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত বর্তমান জাতীয় সংসদে এটা নিয়ে আলোচনা হতে পারে; বাণিজ্যসংক্রান্ত সংসদীয় বিশেষ কমিটিতে পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার পর এ চুক্তির অন্যায্যতা দেখিয়ে সরকার এ চুক্তি বাতিল করতে পারে।