সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইন্তাজ আলীর মাদক সেবনের একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
প্রভাবশালী এই বিএনপি নেতার মাদক সেবনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না হলেও, এলাকার অনেকেই এর সত্যতা দাবি করেছেন। তবে ভয়ের কারণে তারা নাম প্রকাশ করতে চাননি। বিশেষ করে, তার কথিত মাদক সেবনের সঙ্গী ফয়জুল ইসলাম ফজলুর একটি ফেসবুক পোস্টকে অনেকে এ দাবির সমর্থন হিসেবে উল্লেখ করছেন। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও চেয়ারম্যানের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া পোস্টটি কয়েকদিন আগের হলেও বুধবার সেটি ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলা ও উপজেলা জুড়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।
রুহুল আমীন নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ৪৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও মোবাইল ফোনে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে জৈন্তাপুরের নিজপাট ইউনিয়নের সারিঘাট ঢুপি গ্রামের বাসিন্দা ফয়জুল ইসলাম ফজলুর ঘরে চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলীকে ইয়াবা সেবন করতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়।
ভিডিওতে ফয়জুল ইসলামকে আগুন দিয়ে সহায়তা করতে দেখা যায় বলেও অভিযোগ উঠেছে। শিমুল আহমদ নামে এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘নাউজুবিল্লাহ।’ আরেক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, ‘ইমনরে কইছিল হে গাঁজাকুর, এখন দেখি হে বাবাকুর’।
সারিঘাট ঢুপি গ্রামের ফয়জুল ইসলাম ফজলুর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। ওই সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলী নিয়মিত তার ঘরে গিয়ে মাদক সেবন করতেন। সম্প্রতি ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিরোধের জেরে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হলে ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসে বলে জানা গেছে।
ভিডিও প্রকাশের পর ফয়জুল ইসলাম তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান তাকে মাদক সেবনে অভ্যস্ত করে পরে তার স্ত্রীকে নিজের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে প্ররোচিত করেছেন।
ফজলু তার স্ট্যাটাসে খোলামেলাভাবে লিখেছেন, চেয়ারম্যান এবং বিএনপির থানা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আমাকে বাবা খাওয়া শিখিয়েছে। এখন আমার বউয়ের সাথে লিংক করে আমাকে আলাদা করে রেখেছে। আমি তিনটা বাচ্চা নিয়ে অসহায় আছি। আমি মানবজাতির কাছে বিচার দিলাম।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. ইন্তাজ আলীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
জৈন্তাপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাফিজ বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। খোঁজ নিয়ে পরে জানাবেন। এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
নিজপাট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান বলেন, তিনি এখনো ভিডিওটি দেখেননি। বিষয়টি যাচাই করার পরই কোনো মন্তব্য করতে পারবেন।
অন্যদিকে, জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ জমা পড়েনি। বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।
এআরবি