বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতি খোলা চিঠি দিয়েছেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। রোববার তিনি গণমাধ্যমে এই চিঠি পাঠান।
খোলা চিঠিতে ডা. ইরান বলেন, 'আসসালামু আলাইকুম। মাননীয় মহাসচিব। আশা করি ভালো আছেন। শনিবার দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত একটা সংবাদ দেখে আশ্চর্য হয়েছি। ‘জামায়াতকে রাজনৈতিভাবে নির্মূলে কাজ করতে হবে’ মর্মে বিএনপির দলীয় অবস্থান তুলে ধরেছেন।
আপনি দেশের শত শত নেতার মধ্যে ব্যতিক্রম। আপনার শব্দচয়ন, উচ্চারণ, বাচনভঙ্গি ও ভাষাজ্ঞান আপনাকে অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত করেছে। আপনার অভিভাবকসুলভ সহযোগিতার কারণে বিএনপি জোট ও যুগপৎ আন্দোলনে ভূমিকা পালনে সক্ষম হয়েছি।'
তিনি আরও বলেন, 'মাননীয় মহাসচিব মহোদয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে নতুন বাংলাদেশে নির্মূলের রাজনীতি পরিহার করুন। মুজিব বাকশাল করে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে রাজনীতি নির্মূল করতে চেয়েছে আর শহীদ জিয়াউর রহমান বাকশালের ধ্বংসস্তূপ থেকে লেবার পার্টিসহ সব রাজনৈতিক দলকে রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছেন।'
ডা. ইরান বলেন, 'আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন সব রাজনৈতিক দলের আস্থা ও বিশ্বাসের ঠিকানা। তিনি ১৯৯১ সালে জামায়াতের সমর্থনে সরকার গঠন করেছিলেন। ২০০১ সালে জামায়াতে ইসলামীসহ চারদলীয় জোটের নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছিলেন।
তাই শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি হিসেবে আপনাদের কাছে জামায়াতে ইসলামীকে রাজনৈতিক নির্মূলের কথা শোভা পায় না। আপনার কথায় প্রমাণিত হচ্ছে, আপনারাও আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করছেন। আওয়ামী লীগও বিএনপিকে নির্মূল করতে চেয়েছিল, কিন্তু নির্মূল করতে পারেনি, চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। যে বিএনপিকে নির্মূল করতে চেয়েছে, সেই বিএনপি আজ যেভাবেই হোক ক্ষমতায় আছে। আওয়ামী লীগ প্রতিপক্ষকে নির্মূল করতে গিয়ে নিজেরাই নির্মূল হয়েছে। দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।'
তিনি বলেন, ‘মাননীয় মহাসচিব, ইতিহাসের নির্মম শিক্ষা হলো কেউই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়নি। হাসিনা ১/১১ থেকে শিক্ষা নিতে পারলে ১৭ বছর জনগণকে জিম্মি করে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে থাকত না। পিলখানা, শাপলা চত্বর ও জুলাই আন্দোলনে গণহত্যা চালাত না। গুম, খুন, অপহরণ ও আয়নাঘর তৈরি করে নির্যাতন-নিপীড়ন করতে হতো না।'
লেবার পার্টির চেয়ারম্যানের বলেন, 'মাননীয় মির্জা ফখরুল সাহেব, আওয়ামী লীগের মতো আপনারাও দেখছি বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে নির্মূল করার হুমকি-ধমকি প্রদান শুরু করেছেন। আপনি ও দলের চেয়ারম্যানসহ শীর্ষ নেতারা গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত করার ক্যাম্পিং করেছেন। ক্ষমতা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ১৭ বছরের আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দুঃশাসন ও প্রতিহিংসার কথা বেমালুম ভুলে গেছেন?'
ডা. ইরান বলেন, ‘মাননীয় মহাসচিব, আমরা মনে করি আপনি প্রবীণ ও বিচক্ষণ ধৈর্যশীল রাজনীতিবিদ। আপনারা যদি ক্ষমতাসীন হওয়ার দেড় মাসেই বিরোধী দল নির্মূল করতে চান, তাহলে কি একদলীয় বাকশাল কায়েমের পথে হাঁটছেন? বাকশাল কি বাংলাদেশের জনগণ মেনে নেবে? আপনি তো সারা জীবন গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন-সংগ্রামে জেল-জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আমি আপনার সাথে দুবার জেলসঙ্গী ছিলাম। আপনার নামে শত শত মিথ্যা মামলার মধ্যে আমি তিনটি মামলায় অভিযুক্ত ছিলাম। হাসিনা রেজিম কি হামলা-মামলা, গ্রেপ্তার, নির্যাতন-নিপীড়ন করেও বিএনপি, জামায়াত লেবার পার্টিসহ আমাদের নির্মূল করতে পেরেছে?
মাননীয় মহাসচিব মহোদয়, ২০০৬ সাল থেকে বাংলাদেশ লেবার পার্টিকে নিয়ে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিএনপির সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের সীমিত শক্তি নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত থেকেছি। বিএনপির শরিক দল হিসেবে হামলা-মামলা, গ্রেপ্তার, নির্যাতন-নিপীড়নের ভাগ নিয়েছি। আমরা দুর্দিনে আপনাদের নির্যাতন-নিপীড়নের সাথি হয়ে পাশে ছিলাম, কিন্তু মহান আল্লাহ সুদিনের সুবাতাস আমাদের ভাগ্যে লেখেনি।'
তিনি বলেন, ‘মাননীয় মহাসচিব মহোদয়, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের একজন কর্মী হিসেবে আপনাদের প্রতি আরজ, দেশের ৭০ ভাগ ভোটারের গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন। নির্মূলের চিন্তা পরিহার করে জামায়াতে ইসলামীসহ সব ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথের সক্রিয় শক্তিকে নিয়ে দেশ ও জাতির স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যান। নির্মূলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত একমাত্র আল্লাহর হাতে। কেউ কাউকে নির্মূল করতে পারে না। তাই বিভক্তি-বিভাজন না করে শহীদ জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঐক্যের বিএনপিকে নিয়ে এগিয়ে চলুন।