রেডিওলজি টেকনোলজিস্টদের উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবলে পরিণত করলে আধুনিক সব দেশে তাদের কর্মসংস্থানের অফুরন্ত সুযোগ রয়েছে। এতে তারা নিজেরা যেমন উপকৃত হবেন, একইসঙ্গে বৈদেশিক রেমিট্যান্স অর্জনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিও সমৃদ্ধ করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. রফিকূল ইসলাম।
রাজধানীতে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং টেকনোলজিস্টস (BARIT) আয়োজিত ‘১৭তম ন্যাশনাল কনফারেন্স অ্যান্ড সায়েন্টিফিক সেমিনার-২০২৬’-এ বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. রফিক বলেন, সারাদেশে প্রায় ১২ হাজার রেডিওলজি টেকনোলজিস্ট রয়েছেন। দেশের স্বাস্থ্যসেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনশক্তিকে কাজে লাগাতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে প্রায় এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর পাশাপাশি রেডিওলজি টেকনোলজিস্টদের নিয়োগের বিষয়েও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। স্বাস্থ্যসেবার আধুনিকায়নে দক্ষ টেকনোলজিস্টদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশের রেডিওলজি টেকনোলজিস্টদের দক্ষতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশের রেডিওলজি সেবার মান অনেক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও স্বীকৃত। এমনকি বাংলাদেশের রেডিওলজি রিপোর্ট সিঙ্গাপুরেও গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। মেশিনের মানের পাশাপাশি দক্ষ ও প্রশিক্ষিত টেকনোলজিস্টদের ভূমিকার কারণেই মানসম্মত রিপোর্ট তৈরি সম্ভব হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রেডিওলজি টেকনোলজিস্টদের দীর্ঘদিনের দাবি ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণ প্রসঙ্গে অধ্যাপক রফিকূল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে সুপারিশ করার আশ্বাস প্রদান করা হবে। তাদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, রেডিওলজি ও ইমেজিং প্রযুক্তিতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা সময়ের দাবি। টেকনোলজিস্টদের জন্য এমএসসি ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর তাগিদ জানান।
বৈজ্ঞানিক সেমিনারটির প্রশংসা করে অধ্যাপক রফিকূল ইসলাম বলেন, এ ধরনের আয়োজন রেডিওলজি ও ইমেজিং প্রযুক্তির আধুনিক জ্ঞান, দক্ষতা ও নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে টেকনোলজিস্টদের পরিচিত করার পাশাপাশি পেশাগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অধ্যাপক ডা. শাহ আলম তালুকদার, অধ্যাপক হুমায়ুন কবির এবং রেডিওলজি ও ইমেজিং টেকনোলজিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের ভারতের সভাপতি মোহনলাল ভগওয়াত, নেপালের সাধারণ সম্পাদক পাভুপ্রকাশ পিমালসিনা ও থাইল্যান্ডের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নাপাপং পোগনাপাং। সম্মেলনে দেশ-বিদেশের রেডিওলজি ও ইমেজিং প্রযুক্তিবিদরা অংশ নেন।