পোশাকখাতে শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে মজুরি বোর্ড সক্রিয় করার পাশাপাশি সমন্বিত রাজনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের যৌক্তিক ক্ষোভের আগুন ব্যবহার করে পতিত ফ্যাসিবাদ ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে বলে নানা খবরে জানা যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে সরকারকে বলব, আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের আশ্বস্ত করতে হবে। সাধারণ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। একই সঙ্গে দেশের সব রাজনৈতিক সংগঠন, অরাজনৈতিক শক্তি এবং অংশীজনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা ও সমন্বয় করতে হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের নিয়মিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম আরও বলেন, পোশাকখাতে শ্রমিক অসন্তোষ ও অস্থিরতা তৈরির পেছনে কেবল রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি তালাশ না করে, শ্রমিকদের চাওয়া-পাওয়া বুঝতে সরকারের ব্যর্থতাও স্বীকার করতে হবে। দীর্ঘ কয়েক মাস লাগাতার মূল্যস্ফীতি, আর্থিক অনিশ্চয়তা ও কর্মক্ষেত্রের নাজুক পরিস্থিতি শ্রমিকদের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির পর থেকেই আমরা সতর্ক করে আসছি যে, মূল্যস্ফীতি স্বল্প আয়ের নাগরিকদের ওপর বড় আঘাত হানবে। তখন যদি সরকার উদ্যোগ নিত এবং দ্রুত মজুরি বোর্ড গঠন করত, তবে আজকের পরিস্থিতি তৈরি হতো না। কিন্তু সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে গত রোববার। ২০২৩ সালের পর গঠিত এই মজুরি বোর্ড এখনো কোনো বৈঠক করতে পারেনি। ছয় সদস্যের এই মজুরি বোর্ডে যাদের নিয়োগ করা হয়েছে, তারা শ্রমিকের স্বার্থ কতটা রক্ষা করতে পারবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি সরকারের প্রতি দ্রুত মজুরি বোর্ডের সভা আহ্বান, বোর্ডে শ্রমিক প্রতিনিধি সংখ্যা বৃদ্ধি এবং শ্রমিকদের মনে আস্থা ফিরিয়ে আনার জোরালো দাবি জানান।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমাদ আবদুল কাইয়ূম, সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) মাওলানা আরিফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগ) ইঞ্জিনিয়ার মারুফ শেখ, কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক শেখ মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সদস্য (ওলামা বিভাগ) মুফতি কেফায়েতুল্লাহ কাশফী এবং কেন্দ্রীয় সদস্য কে এম শরীয়াতুল্লাহ প্রমুখ।