হোম > রাজনীতি > ইসলামী আন্দোলন

চাঁদাবাজ-টেন্ডারবাজ-দখলবাজদের বিষদাঁত উপড়ে ফেলতে হবে: চরমোনাই পীর

স্টাফ রিপোর্টার

চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও দখলবাজদের বিষদাঁত উপড়ে ফেলার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে যুব আন্দোলনের নেতা বুলবুল হত্যার বিচারসহ সব হত্যাকাণ্ড, খুন, গুম ও ধর্ষণ রুখে দিতে যুব আন্দোলনকে সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানী ঢাকার রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের ৬ষ্ঠ জাতীয় যুব কনভেনশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি জেনারেল মুফতি মানসুর আহমাদ সাকীর সঞ্চালনায় কনভেনশনে দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।

এ সময় ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের চলমান কমিটির বিলুপ্ত করে ২০২৭-২৮ সেশনের জন্য মুফতি মানসুর আহমদ সাকী'কে সভাপতি, আ হ ম আলাউদ্দীন ও অ্যাডভোকেট বায়েজিদ কে সহ-সভাপতি এবং রহমাতুল্লাহ বিন হাবিবকে সেক্রেটারি জেনারেল করে নতুন কমিটি ঘোষণা করেন চরমোনাই পীর।

মুফতি রেজাউল করীম বলেন, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর প্রমাণ হয়েছে, ইসলামের লেবেল লাগিয়ে যে দলটি মানুষের সঙ্গে ধোঁকাবাজি করে না, তার নাম ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। আমাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে অন্যতম ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ। এদেশের আদর্শিক যুবকদের অনুপ্রেরণার নাম ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, আল্লাহর ওয়াদা রয়েছে, তোমরাই বিজয়ী হবে, যদি তোমরা মুমিন হও। তাই মুমিনের গুণাবলি অর্জনে চেষ্টা ও সাধনা চালিয়ে যেতে হবে।

তিনি আরো বলেন, ইসলামী আন্দোলনের প্রতি এদেশের আলেম-ওলামা ও সাধারণ মানুষের আগ্রহ বেড়েই চলছে। তাই আন্তরিকতার সঙ্গে দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে পৌঁছে যেতে হবে। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইসলামের পক্ষে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে হবে।

ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী আতিকুর রহমান মুজাহিদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জানবাজি রেখে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কর্মীরা কাজ করে গেছে। আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণ এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার চ্যালেঞ্জ গ্রহণে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের প্রত্যেক কর্মীকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেন, কেয়ামতের ময়দানে যে সাত শ্রেণির মানুষ আরশের নিচে ছায়া পাবে, তাদের মধ্যে এক শ্রেণি হলো আদর্শবান যুবক। সকল নবী-রাসূল যুবক বয়সে ইবাদত করেছেন। যুবকদের ইবাদত আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়। যুবকরা জাগলে জেগে ওঠে বৃহৎ বিশ্ব।

বিএনপিকে সতর্ক করে তিনি বলেন, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম কমাতে হবে। অন্যথায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর গণআন্দোলন গড়ে তুলতে আমরা বাধ্য হব।

ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী বলেন, যারা ইসলামের নামে ধোঁকাবাজি করে, মিথ্যা বলে এবং ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ইসলামকে সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করে, তারা প্রকৃত অর্থে ইসলামকে চায় না। মুনাফিকরা কাফেরদের চেয়েও ক্ষতিকর। মুনাফিকদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে এবং কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহযোগী সংগঠন শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। ওলামায়ে কেরামদের সংগঠনের সর্বস্তরে যুক্ত করতে পারলে অচিরেই মানজিলে মকসুদে পৌঁছানো সহজ হবে। যোগ্য ও আদর্শবান নেতৃত্ব তৈরির মাধ্যমেই রাষ্ট্রে আদর্শিক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, একটি দেশের টিকে থাকা ও অগ্রগতি অনেকাংশে যুবশক্তির ওপর নির্ভর করে। যুবশক্তি রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিয়ে যায়, আবার যুবশক্তির কারণেই অনেক সময় রাষ্ট্র ধ্বংস হয়। দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশে যারাই ক্ষমতায় এসেছে, তারা যুবশক্তিকে নৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করার জন্য কার্যকর কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করেনি।

এ সময় আরো বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন,

বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহ, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, মাওলানা মোহাম্মাদ নেছার উদ্দিন, সহকারী মহাসচিব কে এম আতিকুর রহমান, মাওলানা আহমদ আব্দুল কাইয়ুম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলুল করীম মারুফ, সাবেক ডেপুটি এটর্নি জেনারেল আব্দুল বাসেত, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সেক্রেটারি মুফতি রেজাউল করিম আবরার, জয়েন্ট সেক্রেটারি মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফী, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের সভাপতি মাওলানা খলিলুর রহমান, জাতীয় শিক্ষক ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা এবিএম জাকারিয়া, ইসলামী আইনজীবী পরিষদের সেক্রেটারি হানিফ মিয়া, ইসলামী মুক্তিযোদ্ধা পরিষদে সভাপতি আবুল কাশেম, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাসির আহমাদ, কামাল উদ্দিন, মোহাইমিন পটোয়ারী প্রমুখ।

জ্বালানি তেলের দাম ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জনজীবনকে বিপর্যস্ত করবে

ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে নাগরিকের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করুন

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কোনো সময়ক্ষেপণ মানা হবে না: ইসলামী আন্দোলন

সম্পত্তি হস্তান্তর আইন বাতিল না করলে সব বিভাগীয় শহরে সমাবেশ-বিক্ষোভ

জাতিসংঘের সভাপতির মেয়াদ শেষের আগেই রোহিঙ্গা ইস্যুর সমাধানের প্রত্যাশা জনগণের

সমাধান করতে না পারলে দায়িত্ব ছাড়ুন: গাজী আতাউর

‘জুলাই জাদুঘরে আংশিক প্রদর্শনী, ইতিহাস বিকৃতির পাঁয়তারা’

ইসলামের নীতি-আদর্শে গুণান্বিতদের মাধ্যমেই রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইসলামের পতাকা উড়বে: চরমোনাই পীর

বুলবুল হত্যার বিচার নিশ্চিতের দাবি ফয়জুল করীমের

জনপ্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রপরিচালনা করুন