হোম > রাজনীতি > জামায়াত

সেনাবাহিনী প্রফেশনাল হলে দুনিয়া সম্মান করতে বাধ্য হবে

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

স্টাফ রিপোর্টার

বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: আমার দেশ

সেনাবাহিনীকে প্রফেশনাল বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে দুনিয়া আমাদের সম্মান করতে বাধ্য হবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, আমরা চাই, বিশ্বের সপ্তম বৃহৎ জনগোষ্ঠীর প্রিয় সেনাবাহিনী বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে উঁচু করে তুলে ধরবে। আমাদের সেনাবাহিনী মূলত আমাদের দেশের জন্য। বিশ্বে যে সার্ভিস দিয়ে থাকে তা ঐচ্ছিক। দেশের সেবা দেওয়া বাধ্যতামূলক।

তিনি বলেন, আমরা যদি সেনাবাহিনীকে প্রফেশনাল একটা বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে পারি, তাহলে দুনিয়া আমাদেরকে সমীহ করুক বা না করুক, সম্মান করতে বাধ্য হবে। কেউ আমাদের দিকে লাল চোখ তুলে তাকানোর সাহস পাবে না।

জামায়াত আমির বলেন, আমাদের সেনাবাহিনীর সাইজ কত, সেটা বড় কথা নয়। আমাদের সেনাবাহিনীর ‘উইশডম, কারেজ ও টেকটেক’—এই তিন জায়গায় আমাদের সেনাবাহিনী কোথায় আছে, সেটাই বড় কথা। আমরা এই তিন জায়গাকে একদম আয়রনিক করে দেখার পক্ষে।

শফিকুর রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন হবে। জাতীয় জীবনে এই নির্বাচনের গুরুত্ব সীমাহীন। আমরা এমন একটা নির্বাচন চাই, যেখানে প্রত্যেকটা নাগরিক নিশ্চিন্তে ভোট দিতে পারে এবং ফলাফলে তার প্রতিফলন ঘটে। সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে এই নির্বাচন হবে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অবাধ।

তিনি বলেন, জনগণের ওপর আমাদের শতভাগ আস্থা আছে। জনগণ যাকে ইচ্ছা ভোট দিক। কিন্তু সেই পরিবেশ সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে নিশ্চিত করতে হবে। তিনি সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে আপনাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা আছে। এজন্য জামায়াতে যোগদান করা জরুরি নয়, তবে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য ভালো কিছু আমাদের করতে হবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চব্বিশের জটিল সময়ে সেনাবাহিনীর ভূমিকার কারণে জাতি নির্ঘাত একটা সিভিল ওয়ার থেকে রক্ষা পেয়েছে। চব্বিশের আন্দোলনে আপামর জনগণ যেভাবে ঝাপিয়ে পড়েছিল, সে সময় রাওয়া ক্লাবে প্রেস কনফারেন্স এবং মিরপুর ডিওএইচএসে অবসরপ্রাপ্ত সেনা অফিসারদের ভূমিকা রাস্তা দেখানোর মতো।

তিনি বলেন, জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাড়ানোয় যারা নেতৃত্ব দেবেন, তাদেরকে আমাদের অন্তরে ধারণ করতে হবে। দেশ ও জাতির জন্য জীবন দেওয়ার শপথ নিয়ে সার্ভিসে ঢোকার আর কোনো নজির নেই।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা-১৬ আসনের জামায়াত প্রার্থী কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন।

কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান বীর প্রতীক, মেজর জেনারেল (অব.) মাহাবুব উল আলম, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, মেজর (অব.) ব্যারিস্টার সরোয়ার হোসেন প্রমুখ এ সময় বক্তব্য রাখেন।