বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের ছেলে সালমান আল-আজমি ফেসবুক পোস্টে জামায়াতের কর্মী, সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীবৃন্দদের উদ্দেশ্যে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন।
তিনি বলেন, আমি অত্যন্ত ক্ষুদ্র একজন মানুষ এবং আমার সোশ্যাল মিডিয়ার রিচ খুব বেশি নয়। তারপরও এই আশা নিয়ে দুটি কথা লিখছি যে যারা পড়বেন তারা তা ছড়িয়ে দেবেন। নির্বাচনে ভোট দেয়া, ভোটকেন্দ্র পাহারা দেয়া, কারচুপি ঠেকানো এগুলো নিয়ে সবাই কথা বলছে, তাই এ ব্যাপারে আমার নতুন করে কিছু বলার নেই। আমি আমার মনের কিছু অভিব্যক্তি আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই। কথাগুলো আপনারা জানেন ও বোঝেন, তবুও মনে করিয়ে দেয়া কর্তব্য মনে করে লিখছি। কোনো কথায় ভুল থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
তিনি সুন্দর ও পজিটিভ নির্বাচনি প্রচারের জন্য সবাইকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ‘আপনারা সবাই সম্মিলিতভাবে এবং দায়িত্বশীলদের সঠিক তত্ত্বাবধানে অকল্পনীয় কিছু করে ফেলেছেন। ৫ই আগস্টের পর যে কাজ আপনারা শুরু করেছেন তার চূড়ান্ত রায় আসবে আগামীকাল, ইনশা আল্লাহ। ফলাফল যাই আসুক আমরা ইতোমধ্যে বিজয় লাভ করেছি। কেন বলছি?
১। প্রথমবারের মত জামায়াত বাংলাদেশের রাজনীতির mainstream এ চলে এসেছে। জামায়াত সমর্থন করার জন্য কাউকে জামায়াতে যোগ দিতে হচ্ছেনা। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে আপামর জনসাধারণ দাড়িপাল্লার জোয়ারে ভাসছে আলহামদুলিল্লাহ। দিনমজুর থেকে শুরু করে মডেল ও অভিনেত্রীরা পর্যন্ত চাচ্ছে জামায়াত নির্বাচনে জিতুক। এটা বিজয় নয় তো কি?
২। সম্মানিত আমীরে জামায়াত এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। মিডিয়া আরেকজন নেতা নিয়ে যতই লাফালাফি করুক, মানুষের মন জয় করা নেতা একজনই - ডা: শফিকুর রহমান, যিনি এখন অনেকের 'দাদু' বলে সুপরিচিত। শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তিনি সবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তার ক্লিন ইমেজ ও মানুষের সাথে মেশার যোগ্যতা তাকে আমাদের দেশের অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত করেছে আলহামদুলিল্লাহ। এটা বিজয় নয় তো কি?
৩। অনলাইন এক্টিভিস্টদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় দুজন ব্যক্তিত্ব - পিনাকী ভট্টাচার্য ও ইলিয়াস হোসেন, এবং আরো অনেকে এখন ১১ দলীয় জোটের বিজয়ের জন্য নিজেদের বিলীন করে দিয়েছেন। আজকের পিনাকীর এপিসোডে তার আবেগঘন আলোচনা প্রমান করে কিভাবে আমরা এখন দেশপ্রেমিক বিশাল এক জনগোষ্ঠীর আশার প্রদীপ হয়ে আবির্ভূত হয়েছি। এটা বিজয় নয় তো কি?
৪। ৫ই আগষ্টের পর যখন সবাই মনে করেছিল যে আওয়ামী লীগের অবর্তমানে বিএনপি নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করবে এবং কোন দল তাদের ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারবেনা, তাদের সবাইকে অবাক করে দিয়ে জামায়াতকে এখন নির্বাচনে বিজয়ী হবার অন্যতম দাবীদার বলে সবাই অভিহিত করছে। এটা বিজয় নয় তো কি?
৫। প্রায় সকল জরীপে (প্রথম আলোর দু একটা ব্যতীত) জামায়াত-বিএনপি হাড্ডাহাড্ডি লড়াই এবং কিছু জরীপে জামায়াতকে এগিয়ে রাখা হচ্ছে। যেই বিএনপির ধারেকাছে জামায়াত ছিলনা সেই বিএনপিকে পরাজিত করার দ্বারপ্রান্তে জামায়াত চলে এসেছে। এটা বিজয় নয় তো কি?
৬। আপনি তখনই সফল মনে করবেন যখন দেখবেন আপনার প্রতিদ্বন্দ্বীরা আপনার বিরুদ্ধে বিষেদগার করছে, আপনার মানহানির চেষ্টা করছে, আপনার গায়ে হাত তুলছে, আপনার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। বিএনপি এখন জামায়াতের বিরুদ্ধে তাই করছে। রাজনীতিতে না পেরে গালাগালি ও মিথ্যাচারে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিতর্কের ডাকে সাড়া না দিয়ে সহিংসতা ও প্রশাসনের সাহায্যে কারচুপির চেষ্টা করছে। তার মানে তারা পরাজয়ের আতঙ্কে ভুগছে। ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোতেও তারা এটাই করেছিল, কিন্তু সফল হয়নি। এটা বিজয় নয় তো কি?
তিনি আরো বললেন, ‘আল্লাহ যদি নির্বাচনে আমাদের বিজয় দান করেন, তখন আল্লাহর শুকরিয়া জানানোর পর মনে রাখতে হবে যে কাজ কেবল শুরু হল। কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে এবং মানুষের আস্থার প্রতিদান দিতে হবে। আর যদি পরাজিত হই, তাতেও কি কিছু এসে যায়? যাদের রাজনীতির মূল স্তম্ভ আল্লাহর সন্তুষ্টি, সে নির্বাচনের জয়-পরাজয়কে বিজয়ের মানদণ্ড মনে করে না। তার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করাটাই বিজয়, কারণ সে জানে আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া গাছের একটি পাতাও নড়তে পারে না। সুতরাং পরাজিত হলে দায়িত্বশীল বিরোধীদল হিসেবে দেশের জন্য কাজ করা ও পরবর্তী নির্বাচনে বিজয়ের চেষ্টা করাই ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের আসল কর্তব্য।
আল্লাহর কাছে বিনীত প্রার্থনা, নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর হোক, ফলাফল যাই হোক তা যেন আমাদের দেশের জন্য মঙ্গল বয়ে নিয়ে আসে।
জয়-পরাজয় যাই হোক, আমরা ইতোমধ্যে বিজয়ী হয়েছি, তাই আপনাদের সবাইকে অভিনন্দন। আর যদি নির্বাচনে আল্লাহ বিজয় দান করেন, তবে আমরা সবাই একযোগে বলব - আলহামদুলিল্লাহ।
তেরই ফেব্রুয়ারি সকালে এক নতুন সূযোদয়ের আবির্ভাব হোক!
ইনকিলাব জিন্দাবাদ!