হোম > ধর্ম ও ইসলাম

রমজানে তাহাজ্জুদের সুবর্ণ সুযোগ

ড. মুহাম্মদ রুহুল আমিন রব্বানী

নফল নামাজগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠতম হলো তাহাজ্জুদ। তবে কর্মব্যস্ততায় আমরা অনেকেই সারা বছর এ নামাজের মর্যাদা দিতে পারি না, আদায় করতে পারি না। রমজানে যেহেতু সাহরির জন্য আমরা শেষরাতে জাগ্রত হই, তাই এ মাসে নামাজের সুযোগ লুফে নেওয়া যায়। তা ছাড়া রমজানে কিয়ামুল লাইল বা রাতের নফল নামাজের মর্যাদা অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

রাতের নফল নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত অনেক। যারা রাত জেগে সালাতে কিয়াম করেন, মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে তাদের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আর যারা তাদের রবের জন্য সিজদারত ও দণ্ডায়মান হয়ে রাতযাপন করে।’ (সূরা আল-ফুরকান : ৬৩)

তিনি আরো বলেন, ‘তাদের পার্শ্বদেশ বিছানা থেকে আলাদা হয়। তারা ভয় ও আশা নিয়ে তাদের রবকে ডাকে। আর আমি তাদের যে রিজিক দান করেছি, তা থেকে তারা ব্যয় করে। অতঃপর কোনো ব্যক্তি জানে না, তাদের জন্য চোখ জুড়ানো কী জিনিস লুকিয়ে রাখা হয়েছে, তারা যা করত, তার বিনিময়স্বরূপ।’ (সূরা আস-সাজদাহ : ১৬-১৭)

তিনি আরো বলেন, ‘রাতের সামান্য অংশই এরা ঘুমিয়ে কাটাত। আর রাতের শেষ প্রহরে এরা চাওয়ায় রত থাকত।’ (সূরা আয-যারিয়াত : ১৭-১৮)

আল কোরআনের পাশাপাশি হাদিসেও তাহাজ্জুদের ব্যাপক গুরুত্ব ও ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ফরজ সালাতের পর অধিক ফজিলতপূর্ণ হলো রাতের সালাত।’ (মুসলিম : ১১৬৫)

বিলাল (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের অবশ্যই কিয়ামুল লাইল আদায় করা উচিত। কেননা, এটি তোমাদের পূর্ববর্তী ভালো লোকদের অভ্যাস, কিয়ামুল লাইলে রয়েছে আল্লাহর নৈকট্য, গুনাহ থেকে বিরতকারী, গুনাহের কাফফারা এবং শরীরের রোগ-ব্যাধির প্রতিষেধক।’ (তিরমিযী : ৩৫৪৯)

একটি হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আমাদের রব দুই ব্যক্তির কাজে অত্যন্ত আশ্চর্যান্বিত হন। একজনÑ যিনি বিছানা ও লেপ-তোশক ছেড়ে পরিবার-পরিজনের মধ্য থেকে উঠে গিয়ে সালাতে দাঁড়ায়। তখন আমাদের রব ফেরেশতাদের বলেন, হে আমার ফেরেশতারা, আমার বান্দাকে দেখো! সে আমার কাছে যা আছে, তা পাওয়ার আশায় নিজ শয্যা ত্যাগ করে পরিবার-পরিজনের মধ্য থেকে উঠে তাহাজ্জুদের সালাতে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।’ (মুসনাদ আহমাদ : ৩৯৪৯)

রমজান বরকতময় ও নেক কাজের সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধির মাস হওয়ায় এ সন্ধিক্ষণে কিয়ামুল লাইল, তাহাজ্জুদ বা কিয়ামু রমাদান খুবই গুরুত্বের দাবি রাখে। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর উম্মতকে এ গুরুত্ব ও ফজিলত জানিয়ে দিয়েছেন। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানের রাতে সওয়াবের আশায় রাত জেগে ইবাদত করে, তার পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।’ (বুখারি : ৩৭)

অন্য হাদিসে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা তোমাদের ওপর রমজান মাসের রোজা ফরজ করেছেন এবং আমি তোমাদের জন্য এ মাসের কিয়ামকে সুন্নাত করে দিয়েছি। অতএব যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার ওপর দৃঢ় বিশ্বাস রেখে সওয়াবের নিয়তে এ মাসে সাওম পালন করে এবং কিয়ামুল লাইল আদায় করে, সে স্বীয় গুনাহসমূহ থেকে সেদিনের মতো পবিত্র হয়ে যায়, যেদিন তার মাতা তাকে প্রসব করেছিল।’ (নাসায়ী : ২২০৮)

অতএব রমজানে রাত জেগে ইবাদত-বন্দেড়ি, বিশেষত কিয়ামুল লাইল আদায় করার মাধ্যমে বান্দা তার রবের নিকটতম হতে পারে, বিধায় প্রত্যেকের এ সুযোগ গ্রহণ করা উচিত।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক ও প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

জিকিরে সজীব রোজাদার

সপ্তম তারাবি: হিজরত, নুসরত ও জিহাদ

ষষ্ঠ তারাবি: শয়তান উলঙ্গপনা ও বেহায়াপনার পথ দেখায়

তারাবিতে কোরআন তিলাওয়াত রবের সঙ্গে একান্ত আলাপন

পঞ্চম তারাবি: জীবন মরণ সবই আল্লাহর জন্য

মাহে রমজানে নবজীবনে আহ্বান

চতুর্থ তারাবি: আল্লাহর অবাধ্যতা আজাব ও অভিশাপ ডেকে আনে

রোজার গুরুত্বপূর্ণ আমল সাহরি ও ইফতার

মাদক নির্মূল করতে পারলে প্রশাসনকে পুরস্কৃত করা হবে: ধর্মমন্ত্রী

তারাবির নামাজ নিয়ে আজহারীর বিশেষ বার্তা